Thursday, June 11, 2026

তৃণমূল ভবনে মে দিবস: শ্রমিক অধিকার ও ভোট লুটে বিজেপিকে আক্রমণ দোলা সেনের

Date:

Share post:

নির্বাচন আবহে ভোট কারচুপির ছাপ শ্রমিক দিবসেও। যেভাবে কেন্দ্রের মোদি সরকার নির্বাচনে নাগরিকদের ন্যায্য ভোটাধিকার হরণ করেছে, সেভাবেই হরণ করেছে দেশের শ্রমিক স্বার্থও। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনকে (ECI) দিয়ে ভোটচুরির প্রতিবাদে মে দিবসের মঞ্চ থেকে সরব তৃণমূল নেতৃত্ব। একদিকে শ্রমিকের অধিকার রক্ষা সরব তৃণমূল নেতৃত্ব, অন্যদিকে ভোটাধিকার রক্ষার বার্তা তৃণমূলের মে দিবসের (May Day) মঞ্চে।

শুক্রবার মে দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হল তৃণমূল ভবনে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতা‌ নেত্রীদের উপস্থিতিতে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শ্রমিক দিবসের অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আইএনটিটিইউসির সর্বভারতীয় সভানেত্রী ও সাংসদ দোলা সেন (Dola Sen)। উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী মনীশ গুপ্ত, পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাদ্রাসা টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সভাপতি একেএম ফারহাদ, সুবীর মজুমদার-সহ আরও অনেক নেতা।

দোলা সেন জানান, ২০১০ সাল থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে প্রতি বছরই তৃণমূল ভবনে মে দিবস পালন করা হয়। সংগঠিত ও অসংগঠিত‌ সব শ্রমিকদের সম্মান জানাতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়। ছোট করে হলেও পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শ্রমিকদের লড়াই ও অধিকার রক্ষার বার্তা তুলে ধরা হয়।

মে দিবসের মঞ্চ থেকেই কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন দোলা সেন।‌ বলেন, শুধু ভোটের ক্ষেত্রেই নয়, শ্রমিকদের অধিকার নিয়েও কেন্দ্র অগণতান্ত্রিক ও বেআইনি পথে চলছে। আট ঘণ্টা কাজের অধিকারের বদলে ১২, ১৪ এমনকি ১৬ ঘণ্টা কাজের চাপ বাড়ানো হচ্ছে। সরকারি ও বড় বড় সংস্থা বেসরকারি এবং বিদেশি হাতে তুলে দিয়ে স্থায়ী শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করা হচ্ছে। নতুন লেবার কোডের মাধ্যমে শ্রমিকদের কাজের সময় বাড়িয়ে মালিকপক্ষকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। তিনি বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে বাংলায় কখনও এই লেবার কোড কোনওভাবেই মানা হবে না।

আরও পড়ুন : গণনার আগে বৈঠক অভিষেকের: শনিবার ভার্চুয়াল নির্দেশ প্রার্থী-এজেন্ট-কর্মীদের

একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগও তোলা হয়। দাবি করা হয়, কমিশনকে কার্যত বিজেপির দলীয় শাখা সংগঠনের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া থেকে শুরু করে স্ট্রংরুমে সিল করা ইভিএম (EVM) খোলা – সব ক্ষেত্রেই গণতন্ত্রকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে দীর্ঘ সময় স্ট্রংরুম পাহারা দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়। তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা হোক বা গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াই, দুই ক্ষেত্রেই বিজেপির বিরুদ্ধে এই আন্দোলন চলবে শেষ পর্যন্ত।

Related articles

CJP-র দ্বিতীয় কর্মসূচি: শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা চেয়ে আজ পুনেতে জমায়েতের ডাক ককরোচদের

দিল্লির যন্তরমন্তরে সফল কর্মসূচির পর এবার দেশের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) ইস্তফা চেয়ে বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের পুনেতে শান্তিপূর্ণ...

কাঁচরাপাড়ার বেসরকারি স্কুল থেকে উদ্ধার পৌনে ২ কোটি!

কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজের পর এবার উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার হার্নেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে (Kanchrapara Harnett English Medium School)...

আজ হাইকোর্টে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে স্পিকারের বিরুদ্ধে শোভনদেবের মামলার শুনানি

তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Ritabrata Banerjee) পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করে নিয়ম বহির্ভূত কাজ...

সই জাল মামলায় স্বস্তি পাবেন কি অভিষেক, আজ নজর হাইকোর্টে 

বিধানসভায় বিধায়কদের সই জাল মামলায় সিআইডির (CID) অতিসক্রিয়তার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অভিষেক...