বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় (Vote Counting) শুধু কেন্দ্রীয় সরকারই কর্মী কেন, কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) মামলা করেতৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার দেশের শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিল কমিশন নিজের জারি করা সার্কুলার অনুযায়ী কাজ করতে পারবে। গণনার কাজে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ব্যবহারে কোনও বাধা নেই। অর্থাৎ কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) যে রায় দিয়েছিল তাই বহাল রাখল সুপ্রিম আদালত।

রাজ্যে এবার দুই দফায় বিধানসভা নির্বাচন (Bengal Election 2026) হয়েছে। ২৩ তারিখ প্রথম ও ২৯ তারিখ দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ হয়। আগামী সোমবার ভোট গণনা হবে। নির্বাচন কমিশন এবার গণনায় সুপারভাইজার হিসাবে শুধু কেন্দ্র সরকারের কর্মীদের নিযুক্ত করেছে। এই সিদ্ধান্ত নিয়েই ক্ষোভপ্রকাশ করেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের নিয়োগ করা হবে এ প্রশ্ন তুলে কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। কিন্তু সে মামলা খারিজ হয়ে গেছে। এরপরই সুপ্রিম দ্বারস্থ হয় তৃণমূল। রাজ্যের তরফে আইনজীবী কপিল সিব্বল (Kapil Sibbal) বলেন, কমিশন যখন নির্দেশিকা জারি করল তখন সেটা কেন আগে থেকে জানানো হয়নি। ২৯ এপ্রিল গোটা বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরেছেন। পাশাপাশি তাঁর আশঙ্কা, এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে যা পরিস্থিতি তাতে ভোট গণনায় শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কর্মীরা থাকলে সে ক্ষেত্রে গণনার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। পাশাপাশি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না গন্ডগোলের আশঙ্কাও। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি (Joymalya Bagchi) তখন বলেন, যেহেতু কাউন্টিং সেন্টারে সব দলের এজেন্টরা থাকবে তাই এখানে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারি কর্মী সংক্রান্ত বিভাজন যথাযথ নয়। বিচারপতি পিএস নরসিনহা বলেন,কাউন্টিং সুপারভাইজার এবং কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্টরা কমিশনের নিয়ন্ত্রণে কাজ করলে তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী না রাজ্যের কর্মী এ প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?
এদিন শীর্ষ আদালতের শুনানি চলাকালীন কমিশনের তরফে আইনজীবী বলেন, ‘‘গণনায় রিটার্নিং অফিসারের সর্বোচ্চ ক্ষমতা রয়েছে। তিনি রাজ্য সরকারের ক্যাডারেরই আধিকারিক। তা ছাড়া, প্রত্যেক প্রার্থীর নিজস্ব কাউন্টিং এজেন্ট গণনায় থাকবেন। তাই মামলায় যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’’ এরপরই গণনা কেন্দ্রের ফুটেজ সংরক্ষণের কথা বলে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, নির্বাচন কমিশন (ECI) গত ১৩ এপ্রিল যে নির্দেশিকা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকদের তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে। আপাতত আর কোনও নির্দেশের প্রয়োজনীয়তা নেই বলেই জানিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ।

–

–

–

–

–
–
–
–
