শুভেন্দু অধিকারীর (Subhendu Adhikari) ব্যক্তিগত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ (Chandranath Rath) খুনের ঘটনায় বড়সড় সাফল্য পেল তদন্তকারী দল। মাত্র চার দিনের মধ্যেই উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh) ও বিহারে (Bihar) অভিযান চালিয়ে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার ধৃতদের বারাসাত আদালতে তোলা হলে আদালত তাঁদের ১৩ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে এক কুখ্যাত শার্প শুটারও (Sharp Shooter)। এই ঘটনায় বিজেপির নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিরোধীদের দাবি, শীর্ষ নেতার ঘনিষ্ঠ সহায়ক খুন হওয়ার পরও বিজেপির তরফে তেমন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
তদন্তে নেমে পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হাতে পায়। চন্দ্রনাথের পথ আটকানো গাড়ির ফাস্ট্যাগের তথ্য এবং রাজ্যের বিভিন্ন টোল প্লাজার সিসিটিভি ফুটেজ (CCTV footage) খতিয়ে দেখেই তদন্তে গতি আসে। নিবেদিতা সেতু, ডানকুনি ও দ্বিতীয় হুগলি সেতুর টোল প্লাজার ক্যামেরায় ধরা পড়ে সন্দেহভাজন গাড়ির গতিবিধি। সেই সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা পৌঁছে যান অভিযুক্তদের কাছে। ধৃত বিশালকে জেরা করতেই সামনে আসে মূল শার্প শুটার রাজ সিংয়ের (Raj Singh) নাম। উত্তরপ্রদেশের বালিয়ার বাসিন্দা রাজ ঘটনার পর অযোধ্যায় (Ayodhya) গা ঢাকা দিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। পরে তার অবস্থানের খবর মিলতেই অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে খবর, এই হত্যাকাণ্ডে মোট আটজন জড়িত থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। বিহারের বক্সার এলাকা থেকেও আরও দুই অভিযুক্ত ময়ঙ্ক মিশ্র (Mayank Mishra) ও ভিকি মৌর্যকে (Vicky Maurya) গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ময়ঙ্ক একটি কুখ্যাত সুপারি কিলার চক্রের সদস্য। কে বা কারা এই খুনের সুপারি দিয়েছিল, কী ছিল হত্যার আসল উদ্দেশ্য এবং এর নেপথ্যে আরও কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে গুলি করে খুন করা হয় চন্দ্রনাথ রথকে। ঘটনার পর থেকেই তদন্তে নামে পুলিশের বিশেষ দল। প্রথম থেকেই ভিনরাজ্যের যোগসূত্রের ইঙ্গিত মিলেছিল তদন্তে। এরপর উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে দল পাঠানো হয়। তদন্তকারীদের দাবি, এই ঘটনায় রাজনৈতিক যোগ সহ সমস্ত সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

–

–

–

–
–
–
–
