পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুকে (Sujit Basu) ইডি (ED) হেফাজতের নির্দেশ দিল ব্যাঙ্কশাল আদালত (Court)। বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি, তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলেছেন ইডি আধিকারিকরা। সেই কারণে তাঁকে হেফাজতে রেখে জেরা করতে চান ইডি আধিকারিকরা। ২১ মে পর্যন্ত ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক।
ম্যারাথন জেরার পরে সোমবার রাতে প্রাক্তন দমকল মন্ত্রীকে গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। এর আগেও মে মাসে একবার হাজিরা দিয়েছিলেন সুজিত। ইডি সূত্রের দাবি, তদন্তের অগ্রগতির স্বার্থে তাঁর বয়ানে কিছু তথ্যের স্পষ্টতা প্রয়োজন ছিল। তবে দীর্ঘ সময় কথা বলার পর তাঁর বক্তব্যে বেশ কিছু অমিল খুঁজে পান আধিকারিকরা। অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে শেষ পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতারের পথেই হাঁটে কেন্দ্রীয় সংস্থা। রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নিয়োগ নিয়ে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তাতে দক্ষিণ দমদম পুরসভার নাম বারবার সামনে এসেছে। সেই সময়কার উপ-পুরপ্রধান হিসেবে সুজিত বসুর দায়বদ্ধতা ঠিক কতটা ছিল, তা নিয়েই মূলত প্রশ্ন তুলছেন তদন্তকারীরা।

মঙ্গলবার সকালে সুজিতকে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে (Hospital) শারীরিক পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। পরীক্ষার পর সুজিতকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়। সুজিতকে ১০ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে রেখে জেরার আবেদন আদালতে জানান ইডি আধিকারিকরা। তাঁর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করে এনফোর্সমেন্ট ডিপার্টমেন্ট। তাদের দাবি করা হয়, পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত অয়ন শীলের কাছে থেকে যে ডিজিটাল তথ্য পাওয়া গিয়েছে তা অনুযায়ী একাধিক চাকরিপ্রার্থীর নাম সুপারিশ করেছেন সুজিত। তাঁর এবং পরিবারের ব্যঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে কোটি কোটি টাকা জমার হিসাব পেয়েছে ইডি। প্রাক্তন দমকলমন্ত্রীর একটি রেস্তরাঁ রয়েছে। সেটি করোনাকালে বন্ধ ছিল। তা সত্ত্বেও আয় হয়েছে কোটি কোটি টাকা। প্রাক্তন মন্ত্রীর আইনজীবী জানান, যে নথির উপর ভিত্তি করে সুজিতকে গ্রেফতার করা হয়েছে সেটি ২০২২ থেকে ২৪-র মধ্যে পাওয়া গিয়েছে। তবে, আদালত সূত্রে খবর, একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে টাকা লেনদেনের হদিশের কোনও আইনগত কারণ দেখাতে পারেননি সুজিতের আইনজীবী।

এরপরেই ইডির আইনজীবী বলেন, “সুজিত প্রভাবশালী ছিলেন। এখন উনি ছাড়া পেলে তদন্ত প্রভাবিত করতে পারেন। সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট করতেও পারেন। তাই তাঁকে হেফাজাতে চায় ইডি।” দুপক্ষের সাওয়াল-জবাবের পরে সুজিতকে ২১মে পর্যন্ত ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক।

–

–

–

–
–
–
