ক্রীড়া জগতে এক যুগের অবসান ঘটিয়ে মঙ্গলবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতি স্বপন সাধন বোস (Swapan Sadhan Bose)। ৭৮ বছর বয়সী টুটু বোস (Tutu Bose) গত এক বছর ধরে নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকবার্তা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতা তথা সাংবাদিক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh), প্রাক্তন ফুটবলার শিলটন পালদের।
মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি, প্রাক্তন সাংসদ তথা বর্ষীয়ান ক্রীড়া প্রশাসক শ্রী স্বপন সাধন বোস মহাশয়ের প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত।মোহনবাগান ক্লাব ও টুটু বোস একে অপরের পরিপূরক ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়া প্রশাসনে ওনার অসামান্য অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ওনার নেতৃত্ব, দূরদৃষ্টি এবং খেলাধুলার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। আমি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, পরিজন, শুভানুধ্যায়ী এবং অসংখ্য অনুরাগীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে ওনার বিদেহী আত্মার চিরশান্তি প্রার্থনা করি।ওঁ শান্তি।’ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, প্রয়াত স্বপন সাধন বোস (টুটু বোস) ভারতীয় ফুটবল ও মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব পরিবারের এক অবিস্মরণীয় নাম।সবুজ-মেরুনের সাফল্য, আধুনিকীকরণ ও ঐতিহ্য রক্ষায় তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ক্রীড়া প্রশাসক, সাংসদ ও সংগঠক হিসেবে তিনি বাংলার ক্রীড়াজগতে এক অনন্য অধ্যায়ের সৃষ্টি করেছেন। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় ফুটবল তথা বাংলার ক্রীড়াঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি হল।শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।’ বিধানসভার প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় বলেন, “একটা বড় যুগের অবসান হল। আমার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। ক্লাব নিয়ে এমন উন্মাদনা খুব কম মানুষের মধ্যে দেখা যায়। পরিবারকে সমবেদনা জানানোর ভাষা নেই।”

বর্ষীয়ান টুটু বোসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক তৃণমূল বিধায়ক তথা সাংবাদিক কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh)। তিনি বরাবরই মোহনবাগান সমর্থক। সবুজ মেরুন ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতির প্রয়াণে শোকাহত তিনি। নিজের সমাজ মাধ্যমের পোস্টে স্বপন সাধন বোসের ছবি পোস্ট করে কুণাল লেখেন, ‘প্রণাম। আপনি থেকে যাবেন চিরকাল।’ ক্রীড়া প্রশাসক অভিষেক ডালমিয়া বলেন, সারা জীবন ময়দান ওনাকে মনে রাখবে। টুটু বোসের মৃত্যুতে স্মৃতির পাতায় ডুব দিয়েছেন শিলটন(Shilton Paul)। সমাজ মাধ্যমে লেখেন, ‘সালটা ২০০৯। আজও স্পষ্ট মনে আছে, আমার সেই সিজনটা কতটা বিশেষ ছিল। দুবাই থেকে ফোন করে বলেছিলেন—“তুই কোথাও যাবি না, তুই মোহনবাগানেই থাকবি।” সেই ভরসা, সেই টান—আজও মনে গেঁথে আছে। তারপর ২০১৫-১৬। আমরা আই-লিগ জিতলাম, আর আমি অধিনায়ক। টুটু বাবু ক্লাবে এসে আমার কাঁধে হাত রেখে বলেছিলেন—“তোরা শুধু মন দিয়ে খেল, ট্রফি জিত, বাকিটা আমি দেখে নেব।” সেই কথার মধ্যে যে সাহস, যে নির্ভরতা—তা আমাদের এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।মোহনবাগান যখনই কঠিন সময়ে পড়েছে, তিনি বারবার ত্রাতার মতো সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন।আজ মোহনবাগান এক বিশাল বটগাছ হারাল—যিনি সারাজীবন নিজের ছায়ায় এই ক্লাবকে আগলে রেখেছিলেন, শক্তি দিয়েছেন, বিশ্বাস দিয়েছেন। Once a #Mariner always a Mariner, perhaps the greatest one! ভালো থাকবেন মোহনবাগান রত্ন। আপনি চিরকাল আমাদের হৃদয়ে থাকবেন।’

–

–

–

–

–
–
–
