ভোট লুট করে নির্বাচনে জেতার পর থেকেই বিজেপির সন্ত্রাস চলছে রাজ্যজুড়ে। নির্মমভাবে মারা হচ্ছে তৃণমূল নেতাদের, ভাঙচুর করা হচ্ছে বাড়ি। এবার এই হিংসা থেকে বাদ গেল না তৃণমূল নেতার শিশুকন্যাও। রবিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে বক্সিরহাট থানার অন্তর্গত তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের মহিষকুচি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের টাকোয়ামারি এলাকায়। যুব তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় এক অঞ্চল সভাপতি এবং এক কর্মীর বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার নেপথ্যে বিজেপির বাইক বাহিনী রয়েছে বলে দাবি আক্রান্ত পরিবারের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বক্সিরহাট থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে মহিষকুচি এলাকার যুব তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি আমিনুর মিয়ার বাড়িতে চড়াও হয় একদল লাঠিসোঁটাধারী দুষ্কৃতী। বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি চারচাকা গাড়ির কাচ ভাঙচুর করার পাশাপাশি ঘরের জানালায় এলোপাথাড়ি আঘাত করা হয়। সেই সময় ঘরের ভেতর নিজের সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে ঘুম পাড়িয়ে রান্না করছিলেন আমিনুরের স্ত্রী আকসানা পারভীন। আচমকা বিকট শব্দ শুনে ঘরের ভেতর ছুটে এসে তিনি দেখেন, জানালার ভাঙা কাচের টুকরো ছিটকে পড়েছে ঘুমন্ত শিশুর বিছানায়। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে শিশুটি। আতঙ্কিত আকসানা জানান, তাঁর স্বামী তৃণমূল করার অপরাধেই বারবার তাঁদের লক্ষ্য করা হচ্ছে। রাতে বোমাবাজি আর দিনে এই ধরণের ভাঙচুর চলায় তাঁরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

পাশাপাশি, একই গ্রামের অপর এক তৃণমূল কর্মী আমিনুর মিয়ার বাড়িতেও এদিন সমান্তরালভাবে তাণ্ডব চালানো হয় বলে অভিযোগ। দুষ্কৃতীরা উঠোনে থাকা চারচাকা গাড়ি এবং মোটরবাইক ভাঙচুর করার পর ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে। আলমারি, ফ্রিজ, ওভেন থেকে শুরু করে রান্নার হাঁড়ি পর্যন্ত ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়। অভিযোগ, বাধা দিতে গেলে পরিবারের মহিলা সদস্যদের মারধর করা হয় এবং শোবার ঘরে থাকা একটি ছোট্ট কন্যাসন্তানকেও চড় মারে দুষ্কৃতীরা। আক্রান্ত তৃণমূল কর্মী আমিনুর মিয়ার দাবি, ভোট মিটে গেলেও বিজেপির বাইক বাহিনী রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এই হামলা চালিয়েছে। তিনি নিজে কোনওমতে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে গেলেও পরিবারের কাউকেই রেহাই দেওয়া হয়নি।

আমিনুরের স্ত্রী তথা পেশায় সিভিক ভলেন্টিয়ার সাইমা খাতুন বলেন, শুধুমাত্র তৃণমূল করার অপরাধে তাঁদের ওপর এই আক্রমণ হয়েছে। বাধা দেওয়ায় তাঁকে এবং তাঁর ছোট মেয়েকে মারধর করা হয়েছে, এমনকি মোবাইল ফোনও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে আক্রান্ত পরিবারগুলি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে এই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন – সুইডেনে বাঙালি অভ্যর্থনায় আপ্লুত মোদি: বাংলায় জানালেন খুশির খবর

_

_

_
_
_
_
