রাজ্যে সরকার বদলাতেই টলিপাড়ার ভোলবদল। এতদিন ধরে ফেডারেশনের (FCTWEI) বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবার বাইরে আসতে শুরু করেছে। বিধায়ক হয়েছেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh), বাংলা বিনোদন জগতের হাল ফেরানোর দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে তাঁকে। বুধবার সতীর্থদের অনুরোধে টলিউডের কলাকুশলী, প্রযোজক, পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিধায়ক-অভিনেতা। ২৬ টি গিল্ডের ৩২ জন সদস্যর সব কথা শোনেন মন দিয়ে। অতীতের কথা মনে করে সাংবাদিকদের সামনেই প্রায় কেঁদে ফেলেন অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় (Parambrata Chatterjee)। বলেন, ‘সদ্যোজাত ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে কম্প্রোমাইজ করতে বাধ্য হয়েছি। আশা করছি, এরকম পরিস্থিতি আর তৈরি হবে না।’

টালিগঞ্জে ফেডারেশন নিয়ে কলাকুশলী থেকে শুরু করে পরিচালক প্রযোজকদের সমস্যা নতুন কিছু নয়। তবে সরকার বদলাতেই এবার কি ফেডারেশন অস্তিত্ব হারাতে চলেছে? FCTWEI-র অফিস গঙ্গাজল দিয়ে ‘শুদ্ধ’ করে অনেকটা সেরকমই বার্তা দিতে চেয়েছেন অভিনেত্রী-বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী (Papiya Adhikari)। রুদ্রনীল অবশ্য বলেন, , “ফেডারেশন থাকবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আমি বা রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী, হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের নেই। আমরা টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি, কলাকুশলীদের অভাব-অভিযোগ, চাহিদার কথা মুখ্যমন্ত্রীকে জানাব। তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।” গত কয়েক বছরে স্টুডিও পাড়ায় রাজনীতির আধিক্যের কারণে বিনোদন জগত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেই জানিয়েছেন কলাকুশলীরা। কেউ তৎকালীন সরকারের আস্থাভাজন না হওয়ায় কাজ হারিয়েছেন, কেউ আবার তৃণমূল কংগ্রেসের নীতির বিরোধিতা করায় বয়কট হয়েছেন ইন্ডাস্ট্রি থেকে। অভিনেতা-রাজনীতিবিদ রুদ্রনীল বলেন, ‘এখন থেকে এইসব সংস্কৃতি চলবে না।ফেডারেশন, গিল্ড-সহ টলিউডের সমস্ত সংগঠনের প্রতিনিধি বাছা হবে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে। ভোট দিয়ে প্রতিনিধিদের বাছবেন সদস্যরা। আসুন, সবাই মিলে নতুন ভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখি।’

বুধবারের বৈঠকে পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়, ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, জয়দীপ মুখোপাধ্যায়, সৃজিৎ রায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়রা উপস্থিত ছিলেন প্রযোজকদের মধ্যে ছিলেন অশোক ধানুকা, নিসপাল সিংহ রানে, ফিরদৌসল হাসান, সুশান্ত দাস, সৌরভ দাস-সহ অনেকেই। সকলেই চান, টলিপাড়ায় সুষ্ঠুভাবে কাজ হোক। ইন্ডাস্ট্রির বহিরাগতরা যাতে কোনও সংগঠনের প্রতিনিধি না হন তাও নিশ্চিত করার অনুরোধ করা হয় রুদ্রনীলকে। পরমব্রত বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হতেই পারে কিন্তু কাজে যেন তার ছায়া না পড়ে। সৃজিত থেকে ইন্দ্রদীপরা সকলেই সুস্থ সংস্কৃতি বজায় রেখে ইন্ডাস্ট্রির উন্নতির স্বার্থে কাজ করার কথা তুলে ধরেন।

–

–

–

–

–
–
