জাতীয় শিক্ষানীতি সহ শিক্ষার উৎকর্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এবার এরাজ্যেও কার্যকর হতে চলেছে। বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এই আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে যে সমস্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়নি, নতুন দফতর সেই সমস্ত প্রকল্প দ্রুত চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, আগের রাজ্য সরকারের আমলে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০, পিএম শ্রী স্কুল প্রকল্প এবং পিএম উষা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি কেন্দ্রীয় সহায়তা এবং উন্নয়নমূলক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বতন সরকার আরইউএসএ প্রকল্পের ক্ষেত্রেও অধিকাংশ ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট জমা দেয়নি। এমনকি দ্বিতীয় পর্যায়ে ১১১টি প্রকল্পের মধ্যে মাত্র দু’টির কাজ এগিয়েছিল।

কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জানান, কল্যাণীর ট্রিপল আইটি প্রকল্পেও রাজ্যের আর্থিক অংশীদারিত্বের ঘাটতি ছিল। তিনি দাবি করেন, মাত্র ৬ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা না দেওয়ার কারণে প্রকল্পের কাজ আটকে ছিল। সেই বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনা হয়েছে এবং শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষা দফতরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে।

সুকান্ত মজুমদার বলেন, খুব শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের উপস্থিতিতে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হতে পারে। সেখানে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ কার্যকর করা, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির উন্নয়ন এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরি করা হবে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, একসময় এই প্রতিষ্ঠান ‘ইনস্টিটিউট অফ এমিনেন্স’ পাওয়ার দৌড়ে ছিল। আগামিকাল ও আগামী দিনে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে জাতীয় স্তরে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করবে নতুন সরকার।

কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সুকান্ত মজুমদার বলেন, আপাতত সরকারের মূল লক্ষ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও পরিকাঠামো শক্তিশালী করা। তাঁর কথায়, প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হলে ছাত্র নেতৃত্বও আরও কার্যকর হবে। ধাপে ধাপে সব বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ আবার জাতীয়তাবাদ এবং শিক্ষার উৎকর্ষের কেন্দ্র হয়ে উঠবে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, ক্ষুদিরাম বসুদের স্মরণ করে তিনি বলেন, এই বাংলাই একসময় জাতীয় চেতনার আঁতুড়ঘর ছিল। আগামী দিনে আবার সেই অবস্থানে ফিরবে বাংলা।

আরও পড়ুন – হকার উচ্ছেদ ও ‘বুলডোজার নীতি’র প্রতিবাদ! বৃহস্পতিবার পথে নামছে তৃণমূল
_
_
_
