Saturday, May 23, 2026

শিক্ষাক্ষেত্রেও এবার বেসরকারীকরণের হাওয়া! রাজ্যে ‘বিদ্যাঞ্জলি’ প্রকল্প চালুর তোড়জোড়

Date:

Share post:

বিজেপির বাংলায় শিক্ষাক্ষেত্রেও এবার বেসরকারীকরণের থাবা! কেন্দ্রের নতুন প্রকল্প চালুর নামে শিক্ষাঙ্গনে বেসরকারি পুঁজি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে সযত্নে ঢুকিয়ে দেওয়া হল। অতীতে এয়ার ইন্ডিয়া, বিএসএনএল, এলআইসির মতো লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিক্রি করা ছাড়াও কেন্দ্রের বিজেপি সরকার দীর্ঘমেয়াদি লিজে রাস্তা, বিমানবন্দর এবং রেলওয়ে স্টেশনের মতো সরকারি পরিকাঠামো বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দিয়েছে। এবার সেই একই ধাঁচে শিক্ষাক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে অন্তর্ভুক্ত করতে আনা হল বিদ্যাঞ্জলি প্রকল্প। পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পক্ষকাল কাটতে না কাটতেই এই প্রকল্প রাজ্যে লাগু করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এতদিন রাজ্যের সরকারি শিক্ষাঙ্গনে বেসরকারীকরণের ছোঁয়া লাগতে দেয়নি। কিন্তু নতুন প্রশাসনিক পরিবর্তনের পরপরই সরকারি শিক্ষাক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার প্রভাব বিস্তারের পথ প্রস্তুত করে দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যে বিদ্যাঞ্জলি প্রোগ্রাম চালু হওয়ার অর্থ, সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের সার্বিক উন্নয়নে এবার সরাসরি অংশ নিতে পারবে বিভিন্ন কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল, স্বেচ্ছাসেবক সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। স্কুলগুলোর পরিকাঠামো উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতির কাজে তারা সরাসরি অংশ নেবে। সমালোচকদের আশঙ্কা, এর ফলে পেছন দরজা দিয়ে বেসরকারি সংগঠনগুলোর হাতে সরকারি স্কুলের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়াও অসম্ভব হবে না। বিরোধীরা একে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের চক্রান্ত বলে কটাক্ষ করছেন।

এই প্রোগ্রামের রূপরেখা অনুযায়ী, স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনগুলোর আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করলে এবং তাদের সাহায্য নিলে স্কুলগুলোকে বেঞ্চ, কম্পিউটার, খেলাধুলার সরঞ্জাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন ডিজিটাল পরিকাঠামো দেওয়া হবে। এমনকী স্কুল ভবনের মেরামতির কাজও করতে পারবে এই সমস্ত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। শিক্ষাবিদদের একাংশের আশঙ্কা, এই প্রলোভনের আড়ালে প্রকারান্তরে সরকারি স্কুলে বেসরকারি সংস্থাগুলির কর্তৃত্ব ও মতাদর্শগত প্রভাব প্রতিষ্ঠা হবে। এক সময়ে সরকার শুধু চুক্তি করেই নিজের দায়িত্ব থেকে খালাস পেয়ে যাবে, আর স্কুলগুলো কার্যত বেসরকারি নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।

শিক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের অভিযোগ, বিজেপি সরকারের আমলে জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি) এবং বিভিন্ন নীতিনির্ধারণের মাধ্যমে দেশ জুড়েই শিক্ষার বেসরকারীকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাজেটে সরকারি শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ক্রমাগত কমিয়ে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ সহজতর করা হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, দেশ জুড়ে সরকারি স্কুলের সংখ্যা তাৎপর্যপূর্ণভাবে কমছে এবং বিপরীতে ব্যাঙের ছাতার মতো বাড়ছে বেসরকারি স্কুল। নতুন শিক্ষানীতি লাগু করে বিদেশি বিনিয়োগ এবং স্বায়ত্তশাসনের নামে ফি বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করা হয়েছে, যার ফলে শিক্ষা আজ সাধারণের নাগালের বাইরে গিয়ে কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। এতদিন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এই জাতীয় শিক্ষানীতি ও তার অনুষঙ্গী প্রকল্পগুলি থেকে বাংলাকে দূরে রেখেছিল। কিন্তু এবার বাংলায় নতুন সরকার আসার ফলে বেসরকারীকরণের থাবা থেকে রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী সরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে আর কতদিন দূরে রাখা সম্ভব হবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন- অল্পের জন্য রক্ষা! প্রাণে বাঁচলেন ৩ সেনা আধিকারিক, বিতর্ক ‘চিতা’ নিয়ে 

_

_

_

_

_

_

Related articles

অল্পের জন্য রক্ষা! প্রাণে বাঁচলেন ৩ সেনা আধিকারিক, বিতর্ক ‘চিতা’ নিয়ে 

বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন তিন ভারতীয় সেনা আধিকারিক। লেহতে ভেঙে পড়ল ভারতীয় সেনার চপার।...

গ্রেফতার হবে ছেলে! ঘুম উড়েছে CJP প্রতিষ্ঠাতা অভিজিতের বাবা-মায়ের

সন্তানকে শিক্ষা দিয়ে, বিদেশে শিক্ষিত করার অর্থ সঞ্চয় করে, উচ্চশিক্ষিত করে সব বাবা-মাই চান তাঁদের সুস্থ সুন্দর জীবন।...

৯৬’এর সিপিআইএম আর ২৬’এর বিজেপি সমান: হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদ তৃণমূলের

রাজ্যে ক্ষমতা দখলের আগে থেকে বুলডোজারের ভয় তৈরি করেছিলেন বিজেপির নেতারা। বিজেপি প্রথমবার বাংলায় ক্ষমতা দখলের পরে সেই...

বুকে ব্যথা হলে কার্ডিওলজিস্ট দেখান: রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য পদের আমন্ত্রণ পেয়ে কেন বললেন কুণাল!

বেলেঘাটার তৃণমূল (TMC) বিধায়ক কুণাল ঘোষকে (Kunal Ghosh) বিধানচন্দ্র রায় শিশু হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির পদে আহ্বান জানানো...