শিক্ষাক্ষেত্রেও এবার বেসরকারীকরণের হাওয়া! রাজ্যে ‘বিদ্যাঞ্জলি’ প্রকল্প চালুর তোড়জোড়

প্রসঙ্গত, তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এতদিন রাজ্যের সরকারি শিক্ষাঙ্গনে বেসরকারীকরণের ছোঁয়া লাগতে দেয়নি। কিন্তু নতুন প্রশাসনিক পরিবর্তনের পরপরই সরকারি শিক্ষাক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার প্রভাব বিস্তারের পথ প্রস্তুত করে দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যে বিদ্যাঞ্জলি প্রোগ্রাম চালু হওয়ার অর্থ, সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের সার্বিক উন্নয়নে এবার সরাসরি অংশ নিতে পারবে বিভিন্ন কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল, স্বেচ্ছাসেবক সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। স্কুলগুলোর পরিকাঠামো উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতির কাজে তারা সরাসরি অংশ নেবে। সমালোচকদের আশঙ্কা, এর ফলে পেছন দরজা দিয়ে বেসরকারি সংগঠনগুলোর হাতে সরকারি স্কুলের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়াও অসম্ভব হবে না। বিরোধীরা একে 'ডাবল ইঞ্জিন' সরকারের চক্রান্ত বলে কটাক্ষ করছেন।
এই প্রোগ্রামের রূপরেখা অনুযায়ী, স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনগুলোর আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করলে এবং তাদের সাহায্য নিলে স্কুলগুলোকে বেঞ্চ, কম্পিউটার, খেলাধুলার সরঞ্জাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন ডিজিটাল পরিকাঠামো দেওয়া হবে। এমনকী স্কুল ভবনের মেরামতির কাজও করতে পারবে এই সমস্ত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। শিক্ষাবিদদের একাংশের আশঙ্কা, এই প্রলোভনের আড়ালে প্রকারান্তরে সরকারি স্কুলে বেসরকারি সংস্থাগুলির কর্তৃত্ব ও মতাদর্শগত প্রভাব প্রতিষ্ঠা হবে। এক সময়ে সরকার শুধু চুক্তি করেই নিজের দায়িত্ব থেকে খালাস পেয়ে যাবে, আর স্কুলগুলো কার্যত বেসরকারি নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।
শিক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের অভিযোগ, বিজেপি সরকারের আমলে জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি) এবং বিভিন্ন নীতিনির্ধারণের মাধ্যমে দেশ জুড়েই শিক্ষার বেসরকারীকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাজেটে সরকারি শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ক্রমাগত কমিয়ে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ সহজতর করা হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, দেশ জুড়ে সরকারি স্কুলের সংখ্যা তাৎপর্যপূর্ণভাবে কমছে এবং বিপরীতে ব্যাঙের ছাতার মতো বাড়ছে বেসরকারি স্কুল। নতুন শিক্ষানীতি লাগু করে বিদেশি বিনিয়োগ এবং স্বায়ত্তশাসনের নামে ফি বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করা হয়েছে, যার ফলে শিক্ষা আজ সাধারণের নাগালের বাইরে গিয়ে কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। এতদিন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এই জাতীয় শিক্ষানীতি ও তার অনুষঙ্গী প্রকল্পগুলি থেকে বাংলাকে দূরে রেখেছিল। কিন্তু এবার বাংলায় নতুন সরকার আসার ফলে বেসরকারীকরণের থাবা থেকে রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী সরকারি শিক্ষাব্যবস্থাকে আর কতদিন দূরে রাখা সম্ভব হবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন- অল্পের জন্য রক্ষা! প্রাণে বাঁচলেন ৩ সেনা আধিকারিক, বিতর্ক ‘চিতা’ নিয়ে
_
_
Sponsored

_
_
_
_
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Related Articles

“কর্মফল তো মিলবেই!” দলবদল প্রসঙ্গে বিধানসভায় মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী
Just now

কবি সুভাষের পর এবার সিটি সেন্টার মেট্রো স্টেশনের পিলারেও ফাটল! উদ্বিগ্ন যাত্রীরা
1h ago

প্রতিশ্রুতি পূরণ মু্খ্যমন্ত্রীর! রাজ্যে গঠিত হল সপ্তম পে কমিশন, চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অতনু চক্রবর্তী
2h ago

‘ঘুষখোর’ পুলিশদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ! খোলা হচ্ছে কন্ট্রোলরুম: ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, ২০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনা
3h ago

গণতন্ত্রের পীঠস্থানে শারীরিক বলপ্রয়োগ! বিধানসভায় কুণালকে টেনে-হিঁচড়ে বের করার তীব্র নিন্দা অভিষেকের
4h ago

আমার নাম কেটেছেন কেন? আখরুজ্জামানকে কুণালের প্রশ্নে ধুন্ধুমার বিধানসভা! টেনে-হিঁচড়ে বের করা হল বেলেঘাটার বিধায়ককে
5h ago
More from রাজ্য
View All →
বিধানসভায় বক্তার তালিকা থেকে নাম কাটা! কণ্ঠরোধের চেষ্টার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ কুণালের
5h ago

ট্রলার ডুবিতে মৃত মৎস্যজীবীদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য-চাকরির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, সিকিমে টানেল বিপর্যয়েও পাশে রাজ্য
6h ago

আজ বিধানসভায় স্বরাষ্ট্রদফতরের বাজেট আলোচনা, গুন্ডা দমন আইন নিয়ে বিবৃতি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী
9h ago

স্ত্রী-পুত্রের পর এবার মদনকে তলব ইডির
10h ago

তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিসকে তলব ইডির
10h ago
