ভোট-ময়দান থেকে প্রচারের শেষ লগ্নে পিছু হটেছিলেন খোদ তৃণমূল প্রার্থী। আর রবিবার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ফলপ্রকাশ হতেই দেখা গেল, সেখানে কার্যত সুনামি বইয়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা। ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬৬৬টি ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিএমের শম্ভুনাথ কুড়মিকে ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটে পরাজিত করেছেন তিনি।
ফলতার ফলাফলের পর বামেদের দিকে তীব্র কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবার বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, এই ফলাফল আসলে সিপিএমেরই লজ্জা! বিধায়কের কথায়, “তৃণমূল সরে যাওয়ার পরও সিপিএম জিততে পারে না? ওদের জেতানোর জন্য তো সিপিআইএমএল-ও সমর্থন করেছিল। তৃণমূল তো না হয় হেরেই গিয়েছে, তারপরও সিপিএম কেন বিজেপিকে হারাতে পারল না? এটা তো ওদের পার্টির লজ্জা।”

ভোটের ঠিক আগে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের ময়দান ছাড়া নিয়ে দলের অন্দরে যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা অবশ্য আড়াল করেননি কুণাল ঘোষ। ক্ষোভের সুরে তিনি বলেন, “ওখানে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান সরে দাঁড়িয়েছে। আমরা ওকে তিরস্কার করছি। ভোটের আগে নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলে সরে যাওয়াটা মোটেই শোভনীয় নয়। এটা দলের জন্য ভালো বিজ্ঞাপন নয়, জাহাঙ্গির অন্যায় করেছে।” একই সঙ্গে পুলিশি অতিসক্রিয়তার দিকে আঙুল তুলে তাঁর সংযোজন, “জেতার জন্য আমাদের এতগুলো লোককে গ্রেফতার করানো হল, তাহলে ভোটটা করবে কী করে? সমস্যাটা বুঝতে হবে। তবে হারলেও জাহাঙ্গিরের উচিত ছিল বুক চিতিয়ে লড়াই করা।”

ফলতার এই ফল নিয়ে দলের নিচুতলার কর্মীরা যে চরম বিরক্ত, তা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন কুণাল ঘোষ। তবে শাসকদলের দাবি, ফলতা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে আত্মসমালোচনার অনেক জায়গা থাকলেও দিনের শেষে এই নির্বাচন প্রমাণ করে দিল— বাংলায় বিজেপিকে রুখতে তৃণমূলেরই কোনও বিকল্প নেই। কুণালের খোঁচা, “এই ফল তৃণমূলের ক্ষেত্রে ব্যক্তির দোষ হতে পারে, কিন্তু সিপিএমের ক্ষেত্রে এটা পার্টির লজ্জা।”

আরও পড়ুন – IPL: ইডেনে খেলতে নেমেই কেকেআরের বিদায়, প্লে অফে রাজস্থান

_

_

_
_
_
_
