Tuesday, May 26, 2026

সিবিএসই-র ভুল উত্তরপত্র নিয়ে সরব হতেই ‘পাকিস্তানি’ তকমা পেলেন ছাত্র!

Date:

Share post:

নিট (NEET) ছাড়াও চলতি বছর সিবিএসই-র (CBSE) দ্বাদশ শ্রেণির ফিজিক্স পরীক্ষার উত্তরপত্র ঘিরে বিতর্ক এখন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও সংবাদমাধ্যম, দুটি ক্ষেত্রেই বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এর মাঝেই আগুনে ঘি ঢালার মতো দিল্লির ছাত্র বেদান্ত, রি-ইভ্যালুয়েশনের জন্য আবেদন করার পর সিবিএসই পোর্টালে তিনি যে স্ক্যান করা উত্তরপত্র দেখতে পান, সেটিকে নিজের খাতা বলে মানতে অস্বীকার করেন। এই নিয়ে সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করেন তিনি। সেই পোস্টে তিনি বলেন, হাতের লেখা, উত্তর লেখার ধরণ কোনওটাই তাঁর নিজের লেখার সঙ্গে মেলে নি। তাই এই খাতা যে তাঁর নয় এই বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সামাজিক মাধ্যমে এই ছাত্রকে “পাকিস্তানি”, “দেশবিরোধী” এবং “প্রচার চালানো অ্যাকাউন্ট” বলেও কটাক্ষ করা হয়। শুধু তাই নয়, কিছু সংবাদমাধ্যমে বিষয়টিকে বিদেশি ষড়যন্ত্র বা ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখানো হয়।

বেদান্তর এই পোস্ট সমাজ মাধ্যমে নিমেষের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং শিক্ষা জগতের সাথে যুক্ত মানুষ সিবিএসই-র ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে। কিন্তু দেখা যায়, ডিডি নিউজের একজন সঞ্চালক ছাত্রের অভিযোগকে “পাকিস্তানি ন্যারেটিভ” এবং সংগঠিত সামাজিক মাধ্যম প্রচার বলে দাগিয়ে দেন সহজেই। এই নিয়ে শুরু হয় তোলপাড়। নিজেদের ভুল ঢাকতে কীভাবে এক ছাত্রের একাডেমিক সমস্যা যাচাই না করেই জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিদেশি প্রভাবের তত্ত্ব খাড়া করা যায়? বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে যখন সিবিএসই জানায় যে বিষয়টি “টপ প্রায়োরিটি” হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। পরে যদিও বোর্ডের এক আধিকারিক স্বীকার করেন যে উত্তরপত্রের ক্ষেত্রে “মিক্স-আপ” হয়েছিল। যার মানে এটা দাঁড়ায়, ছাত্র যে স্ক্যান করা খাতা পেয়েছিলেন, সেটি তার নিজের উত্তরপত্র ছিল না। এরপর বেদান্তকে সংশোধিত ফিজিক্স উত্তরপত্র পাঠানো হয়।

স্বাভাবিকভাবেই এই স্বীকারোক্তির পর সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে প্রমাণ ছাড়া কেন একজন ছাত্রকে “পাকিস্তানি” তকমা দেওয়া হয়েছিল। আরও কয়েকজন ছাত্রছাত্রী কেমিস্ট্রি-সহ অন্য বিষয়েও উত্তরপত্রের অসঙ্গতির অভিযোগ তোলেন। অনেকের দাবি, রি-ইভ্যালুয়েশনের টাকা কেটে নেওয়া হলেও সঠিক নথি পাওয়া যায়নি। ২০২৬ সালে প্রায় ১৭ লক্ষের বেশি ছাত্রছাত্রী সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা দিয়েছে। এত বড় পরীক্ষাব্যবস্থায় উত্তরপত্র স্ক্যানিং, ডিজিটাল আপলোড এবং মূল্যায়নের স্তরে যদি ভুল থেকে যায়, তাহলে শুধু নম্বর নয়, গোটা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে।

 

 

Related articles

মোহনবাগানের সহ-সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা কুণালের 

বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) ফুটবলপ্রীতি সর্বজনবিদিত। ছোটবেলা থেকেই থেকেই তিনি মোহনবাগান সমর্থক। তবে এবার প্রিয়...

ফের প্যারোলে মুক্তি রাম রহিমের, প্রশ্নের মুখে বিচার ব্যবস্থা

এই নিয়ে মোট ১৬ বার! আরও একবার প্যারোলে মুক্তি পেলেন গুরমিত রাম রহিম সিং (Ram Rahim)। সূত্রের খবর,...

দক্ষিণবঙ্গে কালবৈশাখীর সতর্কতা, সকালে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি কলকাতায়

বাড়ল অস্বস্তিকর গরম। মঙ্গলবার সকালে কলকাতায় একদফা বৃষ্টির (Rain in Kolkata) পর আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি আরও বেড়েছে বলে মনে...

কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রীকে গার্ড অফ অনার, বৈঠকে হাজির তৃণমূল সাংসদ কাকলিও 

মঙ্গলবার সকালে কল্যাণীতে তিন জেলা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) প্রশাসনিক বৈঠক করতে চলেছেন। এদিন সকালে...