নেতাজি নগরের একটি বেসরকারি স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র আয়ুষ কুমার নাথের(Ayush Kumar Nath) মর্মান্তিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য আগেই ছড়িয়েছিল, এবার রহস্য ক্রমশ দানা বাঁধছে। আয়ুষের (Ayush Kumar Nath) মৃত্যুর বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ শুরু করেন অভিভাবকরা। বৃহস্পতিবার প্রতিবাদ অবস্থান হলেও শুক্রবার স্কুলের সামনে দেখা গেল সম্পূর্ণ অন্য দৃশ্য। প্রতিবাদের চিহৃ মাত্র নেই, প্রতিবাদী অভিভাবকদের দেখা নেই। শুধু স্কুলের দরজায় লাগানো অভিযুক্তদের পোস্টার, আয়ুষের (Ayush Kumar Nath) ন্যায় বিচারের দাবিতে ফ্লেক্স।

প্রশ্ন উঠছে আন্দোলন থেমে গেলে কেন, স্থানীয় সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাবেলায় ডিসি আন্দোলনকারীদের উঠে যেতে বলেন আর একইসঙ্গে জিজ্ঞেস করেন তারা কী চায়, IO র বদলি নাকি সাসপেনশন? তার বদলি জানালে তৎক্ষণাৎ অর্ডার বের হয় এবং তারা আন্দোলন স্থগিত করে কিন্তু রাতের দিকে ফের আন্দোলনে বসে কারণ জানা যাচ্ছে না, তখন ১১-১১৩০ নাগাদ পুলিশ লাঠিচার্জ করে তুলে দেয়।

স্থানীয় এবং অভিভাবকদের সূত্র থেকে আরও বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে, স্কুলের অধ্যক্ষ এবং বাকিরা ছিলেন কার্যত কাঠের পুতুল। স্কুলটি পরিচালনা করতেন মূলত অ্যাকাউনটেন্ট। তিনি খুবই প্রভাবশালী। তবে সেটা বর্তমান সরকারের না পূর্বতন সরকারের সেটা জানা যায়নি। অভিযুক্তদের গ্রেফতার হলেও জামিন পেয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ধামাচাপার কাজ সহজ। ছাত্রের শরীরে টিউমর ছিল। পড়ুয়ায় বাবা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ক্লাসে শরীর খারাপ লাগছে এবং বাড়িতে খবর দিতে বললেও দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

গত ১৩ মে স্কুলের গরমের ছুটি যেদিন পড়ে সেদিন স্কুলে প্রথম পিরিয়ডের সময় অসুস্থ বোধ করে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র আয়ুষ কুমার নাথ। তা সত্বেও অভিযোগ বিজ্ঞানের শিক্ষক তাকে মাথা নিচু করে বসে থাকতে বাধ্য করেন। এবং সেই অবস্থায় ছয়টি পিরিয়ড ক্লাস করে আয়ুষ পরে ভারী ব্যাগ নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় সে পড়ে যায়। এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পায়। খবর পেয়ে আয়ুষের বাবা স্কুলে এসে ছেলেকে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান, সেখানে কোমায় চলে যায় আয়ুষ। পরে তাঁর মৃত্য়ু হবে। প্রতিবাদের শহর কলকাতা, কিন্তু আয়ুষের মৃত্যুর পর কেন অকালেই থেমে গেলে প্রতিবাদ, বর্তমান সরকার দ্রুত অ্যাকশন নেওয়ায় বিশ্বাসী, এই ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেন ? বিচারের অপেক্ষায় আয়ুষ।

–

–

–

–
–
