মঙ্গলবার সল্টলেকের রাজ্য বিজেপির দফতরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) জনতার দরবারে (Janatar Darbar) সাধারণ মানুষের ভিড় চোখে পড়ার মতো। কেউ এসেছেন চাকরির সমস্যার কথা বলতে, কেউ আবার সরাসরি অভিযোগ এনেছেন এলাকার পুলিশকর্তাদের বিরুদ্ধে। তবে সবার মাঝে আচমকাই নজর কাড়লেন সঙ্গীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় (Riddhi Bandopadhyay) । তৃণমূল সরকারের আমলে সরকারি অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার জন্য রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।

রাজ্যে বিজেপি (BJP) সরকার গড়ার পর অনেকটা পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ‘দিদিকে বলো’র কর্মসূচির আদলে ‘জনতার দরবার’ শুরু করেছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। এক্ষেত্রে অবশ্য সরাসরি শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত থাকেন মানুষের অভাব অভিযোগের কথা শোনার জন্য। সরকার গড়ার পর থেকে এই নিয়ে তৃতীয়বার বসল জনতার দরবার। ছিলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ও। প্রবীণ নবীনদের ভিড়ে এদিন দেখা গেল শিল্পী ঋদ্ধিকে। রাজ্য সরকারের পালাবদল হতেই সোজাসুজি ইন্দ্রনীলকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। দাবি করেছেন, সরকারি অনুষ্ঠানে যদি কখনো গান গাওয়ার সুযোগ পেতেন তাহলে তার থেকে টাকা চাওয়া হত। এমনকি তৎকালীন সরকারের কাছের মানুষেরাই অনুষ্ঠানের সুযোগ পেতেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। যদিও এই দাবি নস্যাৎ করে প্রাক্তন বিধায়ক জানিয়েছেন ঋদ্ধির সঙ্গে গত ৮-৯ বছর তাঁর কোনও যোগাযোগই নেই। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিজের বক্তব্য পেশ করেছেন গায়িকা। পরবর্তীতে এই সংক্রান্ত কোনও নতুন তথ্য উঠে আসে কিনা সেদিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

এদিন জনতার দরবারে হাজির হয়েছিলেন বালির নিহত তৃণমূল নেতা তপন দত্তের স্ত্রী প্রতিমা দত্ত (Pratima Dutta)। তিনি বলেন এতদিন ধরে সিবিআই তদন্ত চললেও সঠিকভাবে তদন্ত এগোচ্ছে না ২০১১ সালের ৬ মে গুলি করে খুন করা হয় তপন দত্তকে।এই ঘটনায় তৃণমূলের স্থানীয় নেতা কর্মীসহ ১৩ জনের নাম জড়িয়েছিল। প্রতিমা বলেন, “আমার এই লড়াইয়ের কথা উনি (শুভেন্দু অধিকারী) জানেন। বলেছেন সরাসরি সিবিআইকে তো কোনও নির্দেশ দিতে পারবেন না। তবে চেষ্টা করবেন যাতে তাড়াতাড়ি তদন্ত শেষ করা যায়।” মঙ্গলবার পানিহাটি থেকে একটি পরিবার জনতার দরবারে আসেন শ্বশুরবাড়িতে মেয়ের মৃত্যুর সঠিক তদন্তের আশায়। তাঁরা বলেন, এক বছর হয়ে গেল মেয়েকে খুন করা হয়েছে। অথচ পুলিশ সমানে টালবাহানা করছে। কিছুদিন আগে যোগাযোগ করলেও বলা হয় চার্জশিট দেওয়া হয়ে গেছে। কিন্তু আসলে কিছুই হয়নি। সেই কারণেই সঠিক বিচারের আশায় তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এসেছেন বলে জানান। মৃতার মা জানান, পানিহাটির বিধায়িকার রত্না দেবনাথ তাঁদের আসার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

–

–

–

–

–
–
