বিশ্ব পরিবেশ দিবস (World Environment Day) উপলক্ষ্যে শুক্রবার সকালে নলবনে ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বৃক্ষরোপণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ও শংকর ঘোষও। মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের পাশাপাশি দেখা যায় বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ও। মুখ্যমন্ত্রী এদিন চারা গাছ লাগানোর পাশাপাশি জলাশয়ে মাছও ছাড়েন। একদিকে যেমন বৃক্ষরোপণ (Tree Plantation Program) অন্যদিকে পরিবেশের বাস্তুতন্ত্র রক্ষার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। এই কর্মসূচি প্রসঙ্গে শুভেন্দু জানান, গোটা রাজ্যে সাড়ে চারশো থেকে পাঁচশো জায়গায় এই কর্মসূচি হচ্ছে। বিভিন্ন থানা, বিডিও অফিস, সরকারি প্রতিষ্ঠানে এই কর্মসূচি হচ্ছে।

নলবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজ রাজ্যজুড়ে একযোগে ৬ লক্ষ ফলের গাছ রোপণ করা হল। প্রধানমন্ত্রী দু’বছর আগে ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ কর্মসূচি করেছিলেন। বাংলায় সরকার পালাবদলের পর এবার গোটা রাজ্য জুড়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় পশ্চিমবঙ্গকে এক নম্বর স্থানে নিয়ে যাওয়ার বার্তাও দেন শুভেন্দু।তিনি বলেন, বাংলায় পরিবেশ এবং গাছ সংক্রান্ত যে ঘাটতি ছিল তা পূরণ করে এ বছর মোট ১ কোটি ১০ লক্ষ গাছ লাগানো হবে এবং তার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ হবে। স্কুলগুলি যদি ইকো ক্লাব তৈরি করে তাহলে সরকার আর্থিক সহায়তা করবে। পড়ুয়াদের একেবারে প্রাথমিক স্তর থেকেই পরিবেশ সচেতন করে তুলতে হবে। ছোটদের পাঠ্যক্রমে বৃক্ষরোপণের উপযোগিতার কথা আরও বেশি করে প্রবেশ করাতে চায় সরকার। যাতে স্কুল স্তর থেকেই এ বিষয়ে সচেতনার প্রসার হয়। তার জন্য পাঠ্যক্রমের মূল্যায়ন করা হবে।’ মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ভালো স্বাস্থ্য পরিষেবা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দিকে যেমন নজর দিতে হবে পাশাপাশি পরিবেশ সম্পর্কেও সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে।

এদিন মুখ্যমন্ত্রীর (CM Speech) বক্তব্যে উঠে আসে তীর্থস্থানের স্বচ্ছতা ও সৌন্দর্যায়নের প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, তারাপীঠ, দক্ষিণেশ্বর, মদনমোহন মন্দির, জল্পেশ মন্দির থেকে শুরু করে যে সমস্ত তীর্থক্ষেত্র রয়েছে তার বাইরের। পরিবেশ স্বচ্ছ ও সুন্দর করে তোলার প্রয়োজন। এই প্রসঙ্গে পাহাড় থেকে সাগরের স্বচ্ছতা অভিযানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। দশটা শহরে অ্যাপ চালু হয়েছে, আগামীতে রাজ্যের অন্যান্য শহরতা কার্যকরী হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিনের অনুষ্ঠান থেকে শুভেন্দু জানান, আগামী ১৪ জুলাই থেকে ২০ জুলাই অরণ্য সপ্তাহে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

–

–

–

–

–
