ক্ষমতা হস্তান্তর ও নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পরেই রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করলেন সিউড়ির বিজেপি বিধায়ক তথা নবনিযুক্ত উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, বিগত পাঁচ দশক ধরে কেন্দ্রের সঙ্গে কেবল রাজনৈতিক লড়াইয়ের সংস্কৃতি বজায় রাখার কারণেই পশ্চিমবঙ্গ আজ প্রগতির দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছে। বিশেষত ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার না হওয়ার সব থেকে বড় প্রভাব পড়েছে রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে।
এ দিন দায়িত্ব নিয়েই পূর্বতন বাম ও তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন নতুন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী। তাঁর মতে, গত ৫০ বছর ধরে রাজ্যে যে রাজনৈতিক ধারা চলেছে এবং গত ১৫ বছরে যা চরম আকার ধারণ করেছে, তাতে ভালো বলার মতো কোনো ক্ষেত্র অবশিষ্ট নেই। বাম আমলের ‘মধ্যমেধার চাষ’ থেকে শুরু করে তৃণমূল জমানার ‘শিক্ষাহীনতা’— রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার এই অধঃপতনের উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, কলেজে এখন লাইব্রেরি বা কম্পিউটার ল্যাবের বদলে ‘বেডরুম’ পাওয়া যায়। এই চেনা অস্বাস্থ্যকর ব্যবস্থা বদলের লক্ষ্যেই রাজ্যের মানুষ এবার পরিবর্তন এনেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার পুনরুজ্জীবনে কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতিকেই মূল হাতিয়ার করতে চলেছেন সিউড়ির বিধায়ক। তিনি জানান, দেশের অন্য প্রান্তের ছাত্রছাত্রীরা যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা পায়, পশ্চিমবঙ্গের পড়ুয়ারাও যাতে ঘরের মাঠে সেই একই সুবিধা পায়, তা নিশ্চিত করা হবে। এই উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতির প্রতিটি বিষয়কে হুবহু এ রাজ্যে প্রয়োগ ও একত্রীকরণ করা হবে। শিক্ষামন্ত্রীর কথায়, পশ্চিমবঙ্গ একসময় জ্ঞানসাগর ও গুণসাগর হিসেবে পরিচিত ছিল। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে রাজ্যকে পুনরায় সেই অধিনায়কের আসনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। কেরল বা তামিলনাডুর উদাহরণ টেনে তিনি মনে করিয়ে দেন, রাজনৈতিক ভিন্নতা থাকলেও ওই রাজ্যগুলি কখনো কেন্দ্রকে বাদ দিয়ে সরকার চালানোর মানসিকতা দেখায়নি, যা বাংলা দেখিয়েছে এবং নিজেকে পিছিয়ে দিয়েছে।
শিক্ষা সংস্কারের পাশাপাশি বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য কর্মসংস্থানের বড় আশ্বাস দিয়েছেন নতুন মন্ত্রী। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং দুর্নীতি রুখতে বছর বছর পরীক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। মন্ত্রী জানান, দলের সংকল্পপত্র অনুযায়ী এখন থেকে প্রতি বছর এসএসসি, সিএসসি, পিএসসি, মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশন ও কোঅপারেটিভ সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পুলিশ, পুরসভা এবং পঞ্চায়েত স্তরেও প্রতি বছর নিয়মিত নিয়োগ হবে। প্রশাসনকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘুষমুক্ত করাই নতুন সরকারের প্রধান সংকল্প বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন – দিল্লিতেও ঝালমুড়ি-রাজনীতি! মোদিকে নিজে হাতে পরিবেশন শুভেন্দুর
_
_

_

_

_

_

