রাজধানীর আনাচে-কানাচে এখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে কংগ্রেসেই (Congress) নাকি মিশে যাচ্ছে তৃণমূল (TMC)! যদিও এই বিষয়ে দুদলের শীর্ষ নেতৃত্ব কোনও মন্তব্য করেননি। তবে, বিষয়টি নিয়ে সংবাদ মাধ্যম থেকে সমাজ মাধ্যম-চর্চা চলছে বিস্তর। যদি এই ঘটনা ঘটে, তাহলে কি এই প্রথম কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে কোনও দল ফের হাতে হাত রাখছে? ইতিহাস কিন্তু তা বলছে না। একনজরে কী হয়েছে অতীতে।

স্বরাজ পার্টি
মহাত্মা গান্ধী ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করায় কংগ্রেসের ভিতরেই মতবিরোধ দেখা দেয়। ১৯২৩ সালের ১ জানুয়ারি ‘স্বরাজ পার্টি’ (Swaraj Party) গঠন করেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ এবং পণ্ডিত মতিলাল নেহরু। কিন্তু ১৯৩৫ সালে ফের ‘স্বরাজ পার্টি’ কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যায়।

বাংলা কংগ্রেস
১৯৬৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে মত পার্থক্যের কারণে অজয় মুখোপাধ্যায় বাংলা কংগ্রেস (Bangla Congress) প্রতিষ্ঠা করেন। পরে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীও হন। কিন্তু ১৯৭১ সালে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের আমলে এই দলটি ভেঙে যায়। ফের মিশে যায় কংগ্রেসের সঙ্গে।

তামিল মানিলা কংগ্রেস
১৯৯৬ সালে কংগ্রেস নেতৃত্ব তামিলনাড়ুতে এআইএডিএমকে (AIADMK) দলের সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতিবাদে দল ত্যাগ করে তামিল মানিলা কংগ্রেস (Tamil Maanila Congress) গঠন করেন জি কে মুপানার (G. K. Moopanar)। ২০০১ সালে মুপানার মৃত্যুর পরে ২০০২ সালে তাঁর ছেলে জি কে বাসানের নেতৃত্বে তামিল মানিলা কংগ্রেস আবার কংগ্রেসের মিশে যায়।

মধ্যপ্রদেশ বিকাশ কংগ্রেস
১৯৯৬ সালেই তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি পি ভি নরসিমা রাওয়ের সঙ্গে মত পার্থক্যের কারণে মাধবরাও সিন্ধিয়া (Madhavrao Scindia) দল ত্যাগ করেন। গঠন করেন মধ্যপ্রদেশ বিকাশ কংগ্রেস (Madhya Pradesh Vikas Congress)। ১৯৯৮ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরে দলসহ মাধব রাও সিন্ধিয়া কংগ্রেসে ফেরেন।

কর্নাটক কংগ্রেস পার্টি
১৯৯৪ সালে কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের সঙ্গে বিরোধের জেরে কর্নাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এস বঙ্গারপ্পা (S. Bangarappa)কর্নাটক কংগ্রেস পার্টি (Karnataka Congress Party) গঠন করেন। কিন্তু ১৯৯৭ সালে ফের পুরনো দলে ফেরেন বঙ্গারপ্পা।

হিমাচল বিকাশ কংগ্রেস
১৯৯৭ সালে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হিমাচল প্রদেশের প্রবীণ নেতা সুখ রাম (Sukh Ram) হিমাচল বিকাশ কংগ্রেস (Himachal Vikas Congress) গঠন করেন। ২০০৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে এই দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে আবার মিশে যায় কংগ্রেসে।

রাষ্ট্রীয় সমাজবাদী কংগ্রেস
১৯৮৬ সালে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রয়াত প্রণব মুখোপাধ্যায় রাষ্ট্রীয় সমাজবাদী কংগ্রেস (Rashtriya Samajwadi Congress) গঠন করেন। ওই বছর ১৯৮৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হত্যার পরে নিজেকে দলের যোগ্য উত্তরসূরি মনে করেছিলেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। কিন্তু রাজীব গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। রাজীব গান্ধীর মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়ার পরে ১৯৮৬ সালে কংগ্রেস ছাড়েন প্রণব। প্রতিষ্ঠা করেন রাষ্ট্রীয় সমাজবাদী কংগ্রেস। কিন্তু নিজের রাজ্যেই আশানুরূপ পায়নি প্রণবের তৈরি এই দল। জনসমর্থনও ছিল না তেমন। রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক সমঝোতা হয়। ফলে, দল গঠনের তিন বছর পরে ১৯৮৯ সালে দল-সহ প্রণব কংগ্রেসে মিশে যান। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কংগ্রেসেই ছিলেন তিনি।
১৯৯৮-এ তাঁকে প্রদেশ সভাপতি হতে না দেওয়া এবং সিপিএম-এর সঙ্গে সোমেন মিত্র গোষ্ঠীর সেটিং-এর অভিযোগ তুলে আলাদা দল গঠন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১-তে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়েই রাজ্যে ক্ষমতায় আসেন। কিন্তু সিপিএম-এর সঙ্গে কংগ্রেস সমঝোতা করায় জোট ভাঙেন মমতা (Mamata Banerjee)। ১৫ বছর রাজ্যে ক্ষমতায় থাকার পরে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরে তৃণমূলের অন্দরেই ভাঙন শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সোনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi) সঙ্গে মমতার বৈঠক তাঁর কংগ্রেসে ফেরার জল্পনা উসকে দিয়েছে। যদিও মমতা এখনও এরকম কোনও ঘোষণা করেননি। তবে, এরকম কোনও ঘটনা ঘটলে তা অস্বাভাবিক কোনও বিষয় নয়, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি মাত্র।
–
–
