সরকারি দফতরের (Govt. Department) পর এবার সরকারিকর্মীদের বাড়ির অন্দরে ঢুকে পড়লো স্মার্ট মিটার (Smart Meter)। গত ৩ জুন নবান্নের (Nabanna) তরফে রাজ্যের সমস্ত সরকারি অফিসে স্মার্ট মিটার বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশিকার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তা গিয়ে পৌঁছাল সরকারি কর্মচারীদের বাড়িতে। নবান্নের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের তহবিল থেকে যাঁরা বেতন, সাম্মানিক বা পারিশ্রমিক পান— সেই সমস্ত শিক্ষক, অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মীদের নিজেদের বাড়িতেও স্মার্ট মিটার বসাতে হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে।

নবান্ন থেকে জারি করা এই বিজ্ঞপ্তিতে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সমস্ত বিভাগের প্রধান, পুলিশের ডিআইজি/ডিজি, ডিভিশনাল কমিশনার, পুলিশ কমিশনার এবং জেলাশাসকদের। তাঁদের স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই বার্তা যেন দ্রুত সমস্ত স্তরের সরকারি কর্মীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। কেন্দ্র সরকারের ‘রিভ্যাম্পড ডিস্ট্রিবিউশন সেক্টর স্কিম’ (RDSS) অনুযায়ী এই বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে হবে। স্মার্ট মিটারে বাড়বে খরচ। এছাড়াও, এই মিটারগুলি প্রিপেড অর্থাৎ বিদ্যুৎ খরচ করার আগেই টাকা জমা রাখতে হবে। যদিও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পোস্টপেড (ব্যবহারের পর বিল মেটানো)-এরও সুবিধা থাকবে। আরও পড়ুন: কল্যাণকে সমর্থন: মমতার হস্তক্ষেপে ঠিক হবে সব, আশাবাদী কীর্তি

নবান্নের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সরব হয়েছেন বিভিন্ন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। কলকাতার এক নামী স্কুলের প্রধানশিক্ষক ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “স্মার্ট মিটার বিষয়ে আমাদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। বাড়ি আমাদের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত জায়গা। সেখানে সরকারের হস্তক্ষেপের কোনো জায়গাই থাকতে পারে না। আমাদের বাড়িতে আমরা কী বসাব আর কী বসাব না, তা কেন সরকার ঠিক করে দেবে?” একই সুরে সুর মিলিয়েছেন বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল। সরকারের এই সিদ্ধান্তের উপর প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের দাম কমানো হবে। কিন্তু তা না করে উল্টো চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সরকারি অফিসের পর এবার শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারীদের বাড়িতে বাধ্যতামূলক স্মার্ট মিটার লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।”

–

–

–

–

–
–
–
