Wednesday, June 24, 2026

যোগী-রাজ্যে ঝলসে মৃত তরুণীর নিথর দেহ এল জগৎবল্লভপুরের বাড়িতে 

Date:

Share post:

উত্তরপ্রদেশের লখনৌয়ে আগুনে পুড়ে মৃত হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের তরুণী অনামিকা সামন্তর (২৭) কফিনবন্দী নিথর দেহ বুধবার আনা হল জগৎবল্লভপুরের গড়বালিয়ার পৈতৃক বাড়িতে। তাঁকে শেষ দেখা দেখতে ভিড় জমান এলাকার বহু মানুষ। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা। জানা গেছে, লখনৌয়ের অলিগঞ্জের একটি আবাসনের দোতলায় ছিল ‘হেড হপার স্টুডিওস’ নামে একটি স্টুডিও। সেখানেই গত প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে কাজ করতেন অনামিকা। সেই সূত্রেই লখনৌয়ে থাকতেন তিনি। গত সোমবার ওই বিল্ডিংয়েই আগুন লেগে যায়। নীচে একটি পেট শপ ছিল। দোতলায় স্টুডিও। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রথমে গ্রাউন্ড ফ্লোরের পেট শপেই আগুন লাগে। সেখান থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাড়িটিতে। ওই আবাসনে কার্যত ছিল না কোনও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা। যোগি-রাজ্যে এই ধরনের বহুতল আবাসনে যথাযথ অগ্নিনিরোধক ব্যবস্থা ছাড়াই কি করে এইরকম স্টুডিও বা পেট-শপের মতো ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানগুলি চলতো তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্টুডিওতেই কাজ করতেন অনামিকার হবু স্বামী নীলেশ কুমার (২৮)। তাঁর সঙ্গে নভেম্বরে বিয়ে ঠিক হয়েছিল অনামিকার। এই উদ্দেশ্যে সমস্ত তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছিল দুই পরিবার। কিন্তু আগুনে পুড়ে অনামিকা ও তাঁর হবু স্বামী নীলেশ দু’জনেরই মৃত্যু হয়। সোমবার সন্ধ্যাতেই খবর আসে অনামিকার বাড়িতে। জগৎবল্লভপুরে পৈতৃক বাড়ি হলেও অনামিকারা সপরিবারে থাকতেন নিউ আলিপুরে। ওখানে অনামিকার বাবা বিশ্বনাথ সামন্তর গ্যারাজের ব্যবসা আছে। তাঁর মা সুলেখা গৃহবধূ। মঙ্গলবার অনামিকার মা-বাবা, কাকা এবং ভাই লখনৌয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বিমানবন্দর থেকে তাঁরা যান মর্গে। সেখানেই অনামিকাকে শনাক্ত করেন তাঁরা। মৃতার কাকা বিদ্যুৎ সামন্ত বলেন, ‘ভাইঝির পুরো দেহটাই আগুনে ঝলসে গিয়েছিল। চেনাই মুশকিল হচ্ছিল। শেষে মুখের কিছুটা অংশ দেখে ভাইঝিকে শনাক্ত করে দাদা-বৌদি।’ বিশ্বনাথ ও সুলেখার এক ছেলেও রয়েছে। তবে অনামিকাই বড়। গত সপ্তাহে চূড়ান্ত কথাবার্তা সারতে লখনৌয়ে মেয়ের হবু শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন অনামিকার বাবা-মা ও কাকা। আগামী সপ্তাহে নীলেশের বাড়ির লোকের কলকাতায় আসার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই আগুনে পুড়ে গেল সব। বুধবার মেয়ের কফিনবন্দি নিথর দেহ নিয়ে বাড়ি ফিরলেন তাঁরা।

অনামিকার কাকা বিদ্যুৎ সামন্ত বললেন, ‘গ্রামের বাড়িতে মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান হবে বলে পরিকল্পনা চলছিল। কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে গেল।’ তাঁদের পরিবারের অভিযোগ, ওই আবাসনটি কার্যত জতুগৃহ। তাই আগুন লাগার পর ভেতর থেকে অনামিকা ও তাঁর হবু স্বামী নীলেশকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ভেতরেই আটকে পড়ে কার্যত ঝলসেই মৃত্যু হয় দুজনের। উত্তরপ্রদেশ সরকার মৃত্যুর পরেও তাদের দেহ বাড়ি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে খুব একটা সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ। তাঁরা মূলত নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে অনামিকার দেহ ফিরিয়ে নিয়ে আসেন।

Related articles

শুভেন্দুর সঙ্গে কোন স্মৃতি এখনও অমলিন মহুয়ার?

অকপট মহুয়া মৈত্র (Mahua Maitra)। শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি হলেও আবেগের সম্পর্ক রয়ে...

বিশ্বকাপ বিদায়ের আগে সাপোর্ট স্টাফদের জন্য মিষ্টির প্যাকেট জর্ডনের প্লেয়ারদের!

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের (FIFA Football World Cup) চলতি মরশুমে আলজেরিয়ার কাছে হেরে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই বিশ্বকাপ থেকে...

ভাঁওতার বাজেট বিজেপির, ঘোষণা-বাস্তবে বিস্তর ফারাক

ভাঁওতার বাজেট (Budget), জুমলার বাজেট। একেবারে দিশাহীন। দেখনদারি রয়েছে সঠিক দিশা নেই। নেই আয়ের হদিশ। শিল্প-কর্মসংস্থান, বেকারত্ব দূরীকরণের...

ত্রুটিপূর্ণ প্ল্যানের কারণেই তারাতলা বিপর্যয়, প্রাথমিকভাবে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

বুধবার দুপুরে তারাতলার নির্মীয়মান গোডাউনের ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ প্ল্যানকেই দায়ী করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM...