রাজ্যপালের ভাষণের ওপর আলোচনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বিধানসভা। প্রথমবার বিধায়ক হিসেবে বলতে উঠেই স্বভাবসিদ্ধ আগ্রাসী ভঙ্গিতে বিজেপি সমর্থিত বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র নিশানা করলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। নারী নিরাপত্তার প্রসঙ্গ টেনে ঋতব্রতের বিরুদ্ধে বালুরঘাটের ধর্ষণের পুরনো মামলার এফআইআর-এর কথা তুলে কুণাল প্রশ্ন করেন, একজন ধর্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তি কী করে বিরোধী দলনেতা হন? স্পিকার কীভাবে একে স্বীকৃতি দেন?

কুণাল ঘোষের এই মন্তব্যে বিধানসভায় তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। পরিস্থিতি সামলাতে স্পিকার রথীন্দ্র বসু বারবার কুণালকে বাধা দেন এবং তাঁর বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্পিকারের সঙ্গেই তর্কে জড়িয়ে পড়েন বেলেঘাটার বিধায়ক। স্পিকার তাঁর বক্তব্যকে নিয়ম-বহির্ভূত বললে, কুণাল পাল্টা তোপ দেগে বলেন, আপনি স্পিকারের আসনে বসে আমার সঙ্গে এভাবে কথা বলবেন না। আপনিও প্রথমবার স্পিকার হয়ে এসেছেন। আপনি এমন আচরণ করলে কি আপনাকে রসগোল্লা খাওয়াব?

তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই শাসক শিবির ও ঋতব্রত গোষ্ঠীকে আক্রমণ করে কুণাল বলেন, নির্বাচনে আমরা সংখ্যাতত্ত্বে হেরে সাময়িক ক্ষমতাচ্যুত হয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমি ঋতব্রতের মতো বেইমান বা গদ্দার হয়ে যাইনি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই আছি। একই সঙ্গে কুণালের হুঁশিয়ারি, আমাকে ভয় পান বলেই আপনারা বলতে দিচ্ছেন না। আগামী ৫ বছর এভাবেই আমাকে ভয় পেয়ে চলতে হবে। কুণালের এই প্রথম ভাষণকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী তরজায় মঙ্গলবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিধানসভা।

আরও পড়ুন – পার্ক স্ট্রিটের নস্টালজিয়া নিয়ে ‘নেভারমাইন্ড’, এক ফ্রেমে ঋতুপর্ণা-চৈতী-রূপম

_

_

_

_
_
_
_
