পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসকে (TMC) কোণঠাসা করতে ভয় ভীতি প্রদর্শন করে চারপাশ থেকে চাপ তৈরি করা হচ্ছে। সুপরিকল্পিতভাবে তৃণমূলের শিকড় উপড়ে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু এত সহজে ঘাসফুলকে দমিয়ে দেওয়া যাবে না। বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে, দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে এবার একুশে জুলাই সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নির্দেশে আগামির পথচলা শুরু হবে বলে জানালেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র (MP Mahua Moitra)।

নির্বাচনের তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর থেকে একের পর এক নেতাকর্মীকে অ্যারেস্ট করা হচ্ছে। কখনও ভয় ভীতি প্রদর্শন করে আবার কখনও টাকার লোভ দেখিয়ে দলের বিধায়ক সাংসদদের ভাঙ্গানোর চেষ্টা করছে বিজেপি, এমনই মারাত্মক অভিযোগ করেছেন মহুয়া। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক ও সাংসদরা বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন। মহুয়া যদিও এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষেই রয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “দলের কোনও অঞ্চল সভাপতি বা নীচুতলার ছোট কোনও নেতা যদি কোথাও দলীয় সভা বা বৈঠক করতে চান, তবে পুলিশকে দিয়ে তাঁদের চমকানো হচ্ছে। পুলিশ সুপার কিংবা থানার বড় বাবুদের ব্যবহার করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে যে, বৈঠক করলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে তুলে নেওয়া হবে। এই ধরনের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে আসলে তৃণমূলকে স্তব্ধ করে দেওয়ার এক মরিয়া চেষ্টা চলছে।এ রাজ্যে ২ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছেন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের কণ্ঠস্বরকে এভাবে ক্ষমতার জোরে স্তব্ধ করে দেওয়া যায় না।” দেশের এমারজেন্সি পিরিয়ডের কথা স্মরণ করিয়ে তৃণমূল সাংসদ বলেন, “তখনও মানুষের মুখ বন্ধ করা যায়নি, আর আজকেও কেউ তা পারবে না। তাই সমস্ত কর্মীকে বলব, আগামী ২১ জুলাই আমাদেরই হবে এবং সেদিন নেত্রী নিজে আমাদের আগামী দিনের লড়াইয়ের পথ দেখাবেন। ভয় দেখিয়ে আমাদের দমানো যাবে না।”

মিড ডে মিলে ডিম তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করে মহুয়া বলেন, বিজেপির একটু পড়াশোনা করা দরকার। কারণ ডিম খাওয়া যে স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী এ কথা সকলেই জানেন। পাশাপাশি অন্নপূর্ণা ভান্ডার নিয়েও রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। তাঁর কথায়, ভোটের আগে যাঁরা ১৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০০ টাকা পাওয়ার আশায় বিরোধীদের পিছনে ছুটেছিলেন, চলতি বাজেটের বরাদ্দ এবং নতুন নিয়মের বেড়াজালে তাঁদের অর্ধেক মানুষই এবার তালিকা থেকে বাদ যাবেন। পূর্বতন রাজ্য সরকারের প্রকল্পগুলির প্রসঙ্গ টেনেও ভারতীয় জনতা পার্টিকে বিঁধেছেন মহুয়া।

–

–

–

–

–
–
