জনগণের নিরাপত্তা ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বিজেপি সরকার যে নতুন বিল (West Bengal Public Safety and Control of Antisocial Activities Bill 2026) আনার চেষ্টা করছে তা আসলে ব্রিটিশের রাওলাট আইনের ২০২৬ সংস্করণ, সোমবার বিধানসভা এই বিল পেশের আগে এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (TMC MLA Kunal Ghosh)। তিনি বলেন ব্রিটিশরা দমন পীড়নের জন্য যে আইন এনেছিল এই বিলটি মূলত সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। চূড়ান্ত স্বৈরাচারী, ফ্যাসিবাদী আইন আনার চেষ্টা হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) বিধানসভার ভেতরে ও বাইরের সর্বাত্মকভাবে এর বিরোধিতা করবে বলে জানিয়েছেন কুণাল (Kunal Ghosh)।

রাজ্যে বিজেপি সরকার (BJP Government) ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। চলতি বাজেট অধিবেশনে জানানো হয়েছে আগামী সোমবার একটি নতুন বিল পেশ করা হবে যার মাধ্যমে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ দমনে বড় পদক্ষেপের পথে হাঁটবে সরকার। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বিলে যেটুকু খসড়া পাওয়া গেছে তার থেকে এটা পরিস্কার যে বিচার ব্যবস্থার হাত থেকে দায়িত্ব খর্ব করে কার্যত অ্যাডভাইজারি বোর্ডের নাম দিয়ে দুর্নীতি বা অপরাধমূলক কাজকর্ম দমনের নামে যে কোনও সন্দেহভাজনকে দীর্ঘদিন আটকে রাখতে পারবে পুলিশ। সেই ব্যক্তি চাইলেও উকিলের সাহায্য পাবেন না, এটা মারাত্মক। গুন্ডা দমনের নামে আসলে নাগরিক অধিকার হরণের চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কুণাল। তিনি বলেন, ‘ অপরাধমূলক কাজকর্ম দমনের জন্য যথেষ্ট আইন আছে। সেইমতো ক্ষমতাও আছে পুলিশের হাতে। কিন্তু তার আড়ালে যে আইন আনা হচ্ছে এটা নিঃসন্দেহে ভয়ঙ্কর। ‘গুন্ডা’ শব্দটার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এমন শাখা-প্রশাখা করে দেওয়া হয়েছে যে চাইলে যে কেউ ওই শব্দের মধ্যে পড়ে যেতে পারেন।’ সে ক্ষেত্রে বিজেপি বিরোধীদের উপর যে এই নিয়ম বলবৎ করার চেষ্টা হবে না তার কোনও নিশ্চয়তা নেই, বরং উল্টো সম্ভাবনাটাই বেশি। এই প্রসঙ্গে তিনি পরাধীন ভারতের ব্রিটিশ আমলে কুখ্যাত রাওলাট আইনের প্রসঙ্গ তুলে এনে বলেন, এটা সেই আইনের ২০২৬ সংস্করণ। নতুন বিল যদি আইনে পরিণত হয় তাহলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা অন্য কোনও কারণে কাউকে অ্যারেস্ট করা হলে সঙ্গে সঙ্গে অ্যারেস্ট মেমো দেওয়া হবে না, পশ্চিমবঙ্গের যেকোনও জেলে তাঁকে পাঠানো হতে পারে, এই বিষয়ে আগে থেকে জানা যাবে না। মানে দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগেই বিনা বিচারে দীর্ঘ সময় ধরে আটক করে রাখা হবে, শুধুমাত্র অনুমান বা আশঙ্কার ভিত্তিতে সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে সব ধরনের কড়া ব্যবস্থা নিতে পারবে প্রশাসন। চাইলেও আইনি সাহায্য মিলবে না। অর্থাৎ আদালতের অধিকারও খর্ব করার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তৃণমূল বিধায়ক।

কুণাল জানিয়েছেন, আপাতদৃষ্টিতে সমাজবিরোধী বা গুন্ডা দমন সংক্রান্ত আইন বিষয়টা যতটা ভালো শুনতে লাগছে, যদি বিস্তারিত পড়া যায় তাহলে বোঝা যাবে এই আইন কতটা আত্মঘাতী হতে চলেছে। তৃণমূল কংগ্রেস বিধানসভার পাশাপাশি নিয়ম মেনে আনুষাঙ্গিক আইনিভাবেও এর বিরোধিতা করবে। এই বিল আইনে পরিণত হলে বিরোধীদের বিরুদ্ধে সবথেকে বেশি প্রয়োগ করা হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বেলেঘাটার বিধায়ক। এমনকি রাজ্য সরকারের সমালোচকরাও যে ছাড় পাবেন না বলাই বাহুল্য। কুণালের কথায়, সরকারকে অনুরোধ করবো সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে তাড়াহুড়ো করে এই বিল যেন পাশ করানো না হয়। এতে অপব্যবহারের প্রবণতা বাড়বে। পাশাপাশি তিনি বলেন, আরও দুটি স্পর্শকাতর আইনের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো পাওয়া গেলে খতিয়ে দেখা হবে। যেখানে মানুষের সমস্যা হতে পারে তৃণমূল তার বিরোধিতা করবে। মানুষের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে যা যা করণীয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সেই সবকিছুই করবে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (AITC)।

–

–

–

–

–
–
