Saturday, March 14, 2026

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদলে বাংলার শিকে ছিঁড়তে পারে, কণাদ দাশগুপ্তের কলম

Date:

Share post:

রাজধানীর ক্ষমতার অলিন্দের জোর জল্পনা, কিছুদিনের মধ্যেই রদবদল হতে চলেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার৷ আর এই রদবদলে মূলত অগ্রাধিকার পেতে চলেছে তিন রাজ্য, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড এবং বাংলা৷
বিহারে JDU-র সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনে জোট বা অনিশ্চিত হলে, বিহার থেকেও বাড়তি মন্ত্রী করার প্রস্তাব বিজেপির শীর্ষস্তরের বিবেচনাধীন৷

মহারাষ্ট্র এবং ঝাড়খণ্ডে বিরোধী বেঞ্চে চলে গিয়েছে বিজেপি৷ খুব বড়সড় অঘটন না ঘটলে এই দু’রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল হয়েই পাঁচ বছর থাকতে হবে বিজেপিকে৷ তাই দুই রাজ্য সরকারের উপরই চাপ বাড়াতে চাইছে বিজেপি’র হাই কম্যাণ্ড৷ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার আসন্ন রদবদলে এই দু’রাজ্য থেকে তাই মন্ত্রী আনার সিদ্ধান্ত প্রায় পাকা৷

ওদিকে বাংলায় বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা একুশে৷ তবে শাসক তৃণমূল চাইলে ভোট এগিয়েও আসতে পারে৷ ফলে হাতে বিশেষ সময় নেই৷ লোকসভা নির্বাচন ছিলো মোদির নির্বাচন৷ রাজ্য থেকে বিজেপির 18 আসন পাওয়ার পিছনে ‘মোদিকে ভোট’ দেওয়ার লজিক জোরালোভাবে কাজ করেছিলো৷ বিধানসভা ভোটে সেই ‘মোদি-ম্যাজিক’- এর সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে৷ তাছাড়া মোদির বিশ্বাসযোগ্যতায় যে টান পড়েছে, তা প্রবলভাবে স্পষ্ট হয়েছে ঝাড়খণ্ডের ভোটে৷ মোদির নামে এখন আর সেভাবে ভোট আনতে পারছে না গেরুয়া-শিবির৷ পাশাপাশি দিল্লি নিশ্চিত, ক্ষমতা দখল করার মতো ‘মুখ’-এর অভাব রয়েছে বঙ্গ-বিজেপিতে৷ বাংলার বিজেপির কোনও মুখকে এখনও ‘কাজের মানুষ’ হিসেবে পেশ করাই যায়নি৷ কিন্তু তাই বলে তো তৃণমূলকে ওয়াকওভার দেওয়া যায়না৷ তাই চালু পদ্ধতিই কাজে লাগাতে চাইছেন মোদি-শাহ৷

এই মুহুর্তে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বাংলার প্রতিনিধিত্ব যে দু’জন করছেন, ধারে ও ভারে তাঁরা কেউই তৃণমূলকে টেক্কা দেওয়ার মতো প্রভাবশালী নন৷ ফলে ফাঁক একটা থেকেই গিয়েছে৷ তার উপর বাড়তি বিড়ম্বনা এখন NRC-CAA নিয়ে বিরোধীদের পাল্টা বিশ্বাসযোগ্য প্রচার চালানো৷ বিশ্বাসযোগ্য প্রচার চালানোর জন্য বিশ্বাসযোগ্য অবস্থানে থাকা কোনও মুখ দরকার৷ তেমন মুখ দলে না থাকলে, তা তৈরি করে নিতে হবে৷ কারন, একুশের ভোটের জমি তৈরি করতে শুধুই বক্তৃতা যথেষ্ট নয়, ‘কাজের কাজ’ কিছু করতে হবে৷ কিন্তু কীভাবে হবে সেই কাজের কাজ ! সূত্রের খবর, ‘বিশ্বাসযোগ্য’ মুখ তৈরি করতে বলিয়ে- কইয়ে সাংসদদের মধ্য থেকে 2 অথবা 3 জনকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দেওয়ার কথা সিরিয়াসলি ভেবেছে টিম-মোদি৷ এই নাম বাছাই নিয়ে যথেষ্টই হোমওয়ার্ক করেছে দিল্লি৷ সমাজের সর্বস্তরে যাতে মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সম্প্রসারণে গোটা রাজ্যে প্রভাব পড়ে এবং আগামী বিধানসভা ভোটে দলও লাভবান হয়৷

জানা গিয়েছে, দিল্লি প্রাথমিকভাবে সেই নামের যে তালিকা নিয়ে আলোচনা করছে, তাতে আছেন, লকেট চট্টোপাধ্যায়, কুনার হেমব্রম, জন বার্লা, জয়ন্ত রায়, সুকান্ত মজুমদার, সুভাষ সরকার৷ দিলীপ ঘোষের নাম এক নম্বরে থাকলেও, তিনি ফের দলের রাজ্য সভাপতি হতে চলেছেন বলে খবর৷ তাই মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা দিলীপবাবুর কম৷ তবে বিশেষক্ষেত্রে এই নিয়মের বদল হতেই পারে, যেভাবে অমিত শাহ নিজেই দল ও সরকারে আছেন৷

মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা সব থেকে বেশি উজ্জ্বল অবশ্যই লকেট চট্টোপাধ্যায়ের৷ দলের নেত্রী হিসাবে গত দু-তিন বছর তাঁর পারফরম্যান্স অসাধারন৷ সুবক্তা তো বটেই, পাশাপাশি সামনে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন৷ সাংসদ হিসেবেও এই ক’দিনেই নজর কেড়েছেন৷ লকেটের একটাই অভাব, ‘কথা দেওয়ার’ মতো অবস্থানে তিনি নেই৷ তাই লকেটকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আনলে বাংলায় তাঁর গ্রহনযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে বলেই দিল্লি-বিজেপির ধারনা৷ কুনার হেমব্রম বা জন বার্লা’র মধ্যে একজন আসতে পারেন মন্ত্রিসভায়৷ এই দু’জন যথাক্রমে ঝাড়গ্রাম এবং আলিপুরদুয়ারের সাংসদ। আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত৷ লোকসভা ভোটে আদিবাসী- আসনগুলিতে তৃণমূল ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে৷ বিধানসভা নির্বাচনেও সেই সাফল্য ধরে রাখতে এই দু’জনের একজনকে মন্ত্রী করা হতে পারে৷ বিবেচনায় আছে সুভাষ সরকার, জয়ন্ত রায়, সুকান্ত মজুমদারের নাম৷ এই তিনজনের প্রথম দু’জন নামজাদা চিকিৎসক৷ তৃতীয়জন গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। সরকারি কর্মী, চিকিৎসক, শিক্ষক তথা শিক্ষিতসমাজের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করতে মরিয়া বিজেপি। তাই এই তিনজনের একজন মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সম্প্রসারণে জায়গা পেতে পারেন৷

আরও পড়ুন-সাইরাসের পুনর্বহালকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে টাটা সন্স

 

spot_img

Related articles

মঞ্চ থেকে পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদ, সেন্ট্রাল পার্কে হেনস্থার শিকার শিলাজিৎ! 

সল্টলেকের বইমেলা প্রাঙ্গনে (Boimela Prangan) শো করতে গিয়েছিলেন শিলাজিৎ ( Shilajit )। আর সেখানে পুলিশের আচরণের বিরুদ্ধে তীব্র...

চাপের মুখে পিছু হঠল শাহর দফতর: সোনম ওয়াংচুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি তোলা হচ্ছে

লাদাখের পরিবেশ আন্দোলন কর্মী সোনম ওয়াংচুকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতারি আদৌ আইনসিদ্ধ কী? প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ...

কলকাতায় শুষ্ক আবহাওয়া, শনিবার বৃষ্টি উত্তরবঙ্গে!

উইকেন্ডে সকাল থেকে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকলেও বেলা বাড়তে রোদের দাপট চওড়া হচ্ছে দক্ষিণবঙ্গে (South Bengal weather)। কলকাতায়...

IPL শুরুর আগেই নাইটদের বিরাট ধাক্কা, টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলেন হর্ষিত!

আগামী মাসের শুরু হচ্ছে আইপিএলের (IPL) নতুন সিজন। ইতিমধ্যেই প্রত্যেক দল নিজেদের টিম মেম্বারদের নিয়ে আলোচনায় বসার প্রস্তুতি...