Friday, June 26, 2026

বড়িশা ক্লাবে পরিযায়ী মা-এর রূপে ধরা দেবেন দশভুজা দুর্গা

Date:

Share post:

করোনা আবহ ও আমফান পরবর্তী বাংলায় এবার পালিত হবে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। আর পরিস্থিতির সঙ্গে প্রাসঙ্গিকতা রেখেই এবার কলকাতায় বেশিরভাগ পুজোর থিম ফুটে উঠেছে। কঠিন এক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে চলেছি আমরা। অজ্ঞাত ভাইরাসের থাবায় বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। দীর্ঘ লকডাউনে অর্থনীতি তলানিতে। কাজ হারিয়েছেন বহু মানুষ। অনেকের বেতন কমেছে।

লকডাউন পর্বে পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশার সাংবাদই প্রথমসারিতে। এই দেশ দেখেছে, সুটকেসের উপর ঘুমন্ত শিশুকে নিয়ে পরিযায়ী মায়ের হাজার মাইল পথ হাঁটা। এই দেশ দেখেছে, রেল স্টেশনে অনাহারে চিরঘুমে চলে যাওয়া পরিযায়ী মা-কে ছোট্ট শিশু ঘুম ভাঙানোর চেষ্টা করছে। এই দেশ দেখেছে, খিদের জ্বালায় শিশু কোলে ত্রাণের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মা-কে। শুধু দেশ নয়, বিশ্ব দরবারে দারিদ্রের এই করুণ ছবি প্রকট দৃশ্য এবার ফুটে উঠবে বেহালা বড়িশা ক্লাবের ৩২ তম বছরের দুর্গা পুজোয়। যেখানে পরিযায়ী মা-এর রূপে ধরা দেবেন দশভুজা দুর্গা। শিল্পী রিন্টু দাসের সৃজনশীলতায় এবার বড়িশা ক্লাবের থিম ”ত্রাণ”।

 

বিশ্বজননী মা দুর্গা। তাঁর সংগ্রামী স্বভাবে ছেদ পড়েনি। লড়াইয়ের মানসিকতাও অটুট। আসলে তিনি মা। পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক, সন্তান অভুক্ত থাকলে মা-এর হৃদয় কাঁদে। যিনি খিদের যন্ত্রণা হাসি মুখে মেনে সন্তানের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার অপরিসীম তৃপ্তি লাভ করেন, তিনিই মা। যিনি নিজের জীবন বাজি রেখে সন্তানকে রক্ষা করেন, তিনিই মা। আর সেই মা এবার বড়িশা ক্লাবে। পরিযায়ী মা রূপে। করোনা-আমফান বিধ্বস্ত মা রূপে তিনি ধরা দেবেন।

শিশুসন্তান কোলে এক পরিযায়ী মা–কে শিশু কার্তিক কোলে দেবীর রূপে ভেবেছেন সরকারি আর্ট অ্যান্ড ক্রাফ্‌ট কলেজের দুই প্রাক্তন ছাত্র রিন্টু দাস এবং পল্লব ভৌমিক। প্রতিমা, মন্ডপের মূল ভাবনা রিন্টুর। আর ফাইবার গ্লাসে সেই প্রতিমা গড়েছেন পল্লব। প্যাঁচা কোলে লক্ষ্মী এবং হাঁস কোলে সরস্বতীর রূপেও রয়েছে পরিযায়ী শ্রমিক সন্তানদের ছায়া। থাকছে গণেশের মূর্তিও। চারজনকে নিয়ে ওই পরিযায়ী মা হেঁটে যাচ্ছেন দেবী দুর্গা প্রতিকৃতি রূপ দশভুজার।

অন্যদিকে, মণ্ডপের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে কয়েক হাজার চটের ব্যাগ। পুজো কমিটির এক কর্তার দাবি, এই ব্যাগগুলি মণ্ডপ তৈরির জন্য বাজার থেকে আলাদাভাবে কিনে আনা হয়নি। এই ব্যাগগুলিতে গত ৮ মাস ধরে ত্রাণ সামগ্রী এসেছে বড়িশা ক্লাবে। সেগুলি দুর্গত মানুষদের মধ্যে বিলি করা হয়েছে। উৎসবের দিনগুলোতেও ত্রাণ-এর কাজ বন্ধ থাকবে না বড়িশা ক্লাবে। এই চটের ব্যাগগুলি দেখেই শিল্পীর মধ্যে মণ্ডপ ও প্রতিমার থিম মাথায় এসেছিল।

শিল্পী রিন্টু দাস বলেছেন, ”খিদে পেটে, চড়া রোদ মাথায় নিয়ে পরিযায়ী শ্রমিক মাকে হাজার কিলোমিটার হাঁটতে হয়েছে। সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে মা বদ্ধপরিকর ছিল। তাই হাজার কষ্ট উপেক্ষা করেও খাবারের খোঁজ চালিয়ে গিয়েছে। এমনকী একটু খাবার জলের জন্যও লকডাউন-এর সময় পরিযায়ী শ্রমিকদের কত কষ্ট করতে হয়েছে। তাই এই ভাবনা।”

আরও পড়ুন-বিধি মেনে এবার ঘট পুজো বার্মিংহামের ‘নবারুণ’-এ

Related articles

শুভেন্দুর ক্ষতি করার বদবুদ্ধির নায়ক এখন নিজেকে বাঁচাতে বিক্ষুব্ধ সাজতে চাইছে

অভিষেকের (Abhisek Banarjee)এক আইনি উপদেষ্টা( Legal Advisor)। যিনি একসময় ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে বসতেন। অভিষেক বসতেন সাত তলায়। আর...

অপারেশন সিন্দুরে শহিদ জওয়ানদের তথ্য প্রকাশ! এক বছর পর জানাল কেন্দ্র

পহেলগামে (Pahelgam) পাকিস্তানের হামলার কয়েক দিনের মধ্যেই পাল্টা হামলা চালিয়েছিলেন ভারত (India)। অপারেশন সিন্দুর ('Operation Sindoor')। দিন কয়েক...

প্রাক্তন মন্ত্রীর PSO-র বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা, ফের খারিজ জামিনের আবেদন

ফের প্রাক্তন মন্ত্রীর নিরাপত্তা রক্ষী সঞ্জু শর্মার (Sanju Sharma) জামিনের আবেদন (Bail Plea) খারিজ করল আদালত। ঘটনার ২২...

তারাতলা বিপর্যয়ে আর্কিটেক্ট-ডিজাইনার সংস্থাকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যে বেআইনি নির্মাণ ও দুর্ঘটনা রুখতে এবার কঠোর পদক্ষেপ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Shuvendu Adhikari)। তারাতলা বিপর্যয়ের (Taratala...