Tuesday, June 2, 2026

“পরিব্রাজক” বিধায়ক এবার বিজেপিতে, তৃণমূল বলছে বাঁচা গেল!

Date:

Share post:

শিয়রে বিধানসভা ভোট (Assembly Election)। তার আগে দলবদলে একের পর এক চমক শাসক-বিরোধী দুই শিবিরে। শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নয়, সমাজের বিশিষ্ট জনেদের নিজেদের দিকে টেনে বার্তা দিচ্ছে শাসক তৃণমূল (TMC) ও মূল বিরোধী বিজেপি (BJP)। তবে এই দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গেরুয়া শিবির। দল বদলকে বিজেপি কার্যত শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে।

তারই অঙ্গ হিসেবে শাসকদলের আরও এক বিধায়ক যোগ দিলেন বিজেপিতে। এবার নদিয়া (Nadia) শান্তিপুরের (Shantipur) বিধায়ক (MLA) অরিন্দম ভট্টাচার্য (Arindam Bhattacharya) আজ, বুধবার বিজেপিতে যোগ দিলেন। দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে বিজেপি সদর দফতরে বাংলার পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়র (Kailash Vijayborgy) হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নিলেন অরিন্দম। সব মিলিয়ে গত দু’মাসে অন্য দল থেকে১০ বিধায়ককে নিজেদের পার্টিতে সামিল করল বিজেপি। যার সিংহভাগই শাসক দল থেকে আসলেন।

বিজেপিতে যোগ দিয়ে শান্তিপুরের বিধায়ক বলেন, “আমি যুবকদের নিয়ে ভাল কিছু করতে চাই। বারবার তৃণমূল নেতৃত্বকে বলেও কোনও কাজ হয়নি। কোনও যুবক যখন কিডনি বিক্রির কথা বলছে সেটা অনেকটা লজ্জাজনক। বাংলায় চাকরি হচ্ছে না, শুধুই দুর্নীতি হচ্ছে। আমার হাত-পা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।”

অন্যদিকে, তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা দিয়ে বলেন, “সুযোগ সন্ধানী কিছু লোক আছে। তারা যত তাড়াতাড়ি যায় ততই ভাল। যাদের কাজ করার ইচ্ছে আছে, তারা অনেক কাজই করতে পারে। অনেকেরই লোভ আছে। যাদের যাওয়ার চলেই যাক আমাদের দল তাহলে পরিশুদ্ধ হয়। যে কাজ করতে চায় না, তার বাহানাও কম হয় না।”

কে এই অরিন্দম ভট্টাচার্য?

একটু পিছনে ফিরে তাকাতে হবে।

২০১৬ সালে গত বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী হিসেবে নদিয়ার শান্তিপুর থেকে লড়েছিলেন কংগ্রেসের প্রার্থী অরিন্দম ভট্টাচার্য। সেই সময় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হেভিওয়েট অজয় দে’কে তিনি ১৯ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে শিরোনামে চলে আসেন। এরপর ২০১৭ সালের এপ্রিস মাসে তিনি যোগ দেন তৃণমূলে। সেই সময় অরিন্দম ভট্টাচার্য ছিলেন যুব কংগ্রেসের সভাপতি। কিন্তু, তৃণমূলেও পাঁচ বছর কাটাতে না কাটাতে বিজেপিতে যোগ দিলেন তিনি।

নতুন প্রজন্মের নেতা অরিন্দম সম্পর্কে রাজনৈতিক মহলের বিশ্লেষণ, তিনি সুযোগ সন্ধানী। যখন যেদিকে পাল্লা ভারী বুঝেছেন, সেদিকেই ঝুঁকেছেন। তাই শান্তিপুরের বিধায়কের এই দল বদলকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন না কেউ। বরং, তাঁকে “পরিব্রাজক” তকমা দিচ্ছেন এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক মহল। কারণ, আরিন্দমের বিশ্বাস যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, কী গ্যারান্টি আছে, ভোটের পর ফের দল বদলাবেন তিনি? আর তাঁর পুরোনো দল তৃণমূল বলছে, “বাঁচা গেলো…!”

আরও পড়ুন- নাম না করে শুভেন্দুকে এ কী বললেন অনুব্রত!

Advt

Related articles

‘তোলাবাজি’র অভিযোগে এফআইআর পদত্যাগী কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে

কয়েক কোটি টাকা 'তোলাবাজি'র অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের পদত্যাগী কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই দায়ের করা হল এফআইআর। ১০৮...

আবেগে-ভালোবাসায় টুটু স্মরণ, প্রাণ পুরুষকে অনন্য সম্মান দেওয়ার ভাবনা বাগানের

সোমবার নেতাজি ইন্টার স্টেডিয়ামে প্রয়াত  টুটু বোসের  (Tutu Bose) স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হলো।এই সভায় উপস্থিত ছিলেন মাজের বিভিন্ন...

রাজনীতিমুক্ত হোক খেলার ময়দান, এক সুর শাসক-বিরোধী থেকে প্রাক্তনীদের

রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে মাত্র কয়েক সপ্তাহ। ক্রীড়া ক্ষেত্রকে (Sports sector)রাজনীতির(Politics)  প্রভাব মুক্ত রাখার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।...

কথা দিয়েও কথা রাখল না প্রশাসন, মঙ্গলাহাটে পুলিশের লাঠিচার্জে ধুন্ধুমার

কথা দিয়েও কথা রাখল না হাওড়া জেলার পুলিশ ও প্রশাসন। সোমবার ভোররাত থেকে এশিয়ার বৃহত্তম কাপড়ের হাট, মঙ্গলাহাটের...