Thursday, June 4, 2026

ঘরে ঘরে থাকবে বই, গোটা গ্রামকে গ্রন্থাগার বানানোর লক্ষ্যে সৌম্যদীপ্ত

Date:

Share post:

শিক্ষিত হয়ে উঠুক সমাজ। এই লক্ষ্য নিয়েই ছোট ছোট পদক্ষেপে বৃহৎ লক্ষ্যে পা বাড়ালো ডায়মন্ড হারবারের দেরিয়া গ্রামে বাসিন্দা সৌম্যদীপ্ত বসু(soumyadipta Basu)। গোটা একটা গ্রামকে গ্রন্থাগার(library) বানানোর লক্ষ্যে নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন এই যুবক। তাঁর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বহু মানুষ।

শৈশব থেকে গ্রামে বড় হয়ে উঠেছেন সৌম্যদীপ্ত বসু। তাই গ্রামের সমস্যাগুলো নিজের মত করে সমাধান করতে অভিনব এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়(Vishva Bharati University) সোশ্যাল ওয়ার্ক বিভাগের স্নাতকোত্তর স্তরের প্রথম বর্ষের ছাত্র সৌম্যদীপ্ত। বর্তমানে বাড়িতেই অনলাইনে চলছে পড়াশোনা। আর সেইসঙ্গে জারি রয়েছে সমাজসেবার কাজ। সৌম্যদীপ্তর ইচ্ছে আস্ত একটি গ্রামকে গ্রন্থাগারে পরিণত করা। বর্তমানে নিজের গ্রাম থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে বড়বেড়িয়া গ্রামকেই গ্রন্থাগার হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি। এ প্রসঙ্গে সৌম্যদীপ্ত বলেন, ‘নির্দিষ্ট একটি বাড়িতে এই গ্রন্থাগার হবে না। গ্রামের এক-একটি পাড়ায় তৈরি হবে এক-একটি ছোট ছোট গ্রন্থাগার। প্রতিটি পাড়ার নির্দিষ্ট একটি বাড়িতে একটি র‌্যাকে কম করে ৫০টি বই রাখা হবে। আগ্রহী পাঠক যাঁর যে পাড়ায় গিয়ে বই নেওয়ার সুবিধা, সেখান থেকে বই নেবেন। পড়বেন।’

অভিনব এই উদ্যোগকে সাধারণ মানুষ সাধুবাদ জানালেও এই কাজের জন্য প্রয়োজন প্রচুর বই। যার ফলে সোশ্যাল মিডিয়াতে বইয়ের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। সাড়াও মিলেছে ভালো রকম। সৌম্যদীপ্ত বলেন, যে সমস্ত বাড়িতে বই রাখা হবে, সেই বাড়ির মালিকেরাই পড়ুয়াদের বই দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। সৌম্যদীপ্ত আরো বলেন, তাঁর এই কাজে প্রধান উৎসাহদাতা হলেন তাঁর বাবা শুভেন্দু বসু, মা দ্রৌপদী বসু এবং কাকা লাল্টু মিদ্যা। করোনাকালীন সময়ের ধাক্কা পেরিয়ে শুভেন্দুবাবু আপাতত কর্মহীন। তবে ছেলের উদ্যোগের সঙ্গে তিনি সব সময়ে রয়েছেন। সৌম্যদীপ্ত লেখাপড়া চালান তাঁর পাওয়া দু’টি মেধাবৃত্তির টাকায়।

আরও পড়ুন:কোভিড বেড সংকট রুখতে ৪ সদস্যের টাস্ক ফোর্স গঠন রাজ্য সরকারের

তবে গ্রন্থাগারের পাশাপাশি এর আগে সৌম্যদীপ্ত নিজের গ্রামে তৈরি করেছেন কমিউনিটি বুক ব্যাংক। যেখানে পাঠ্যপুস্তকের অভাবে পড়াশোনা বন্ধ হতে বসা পড়ুয়াদের দেওয়া হতো পাঠ্যপুস্তক। পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর সেই সমস্ত বই ফেরত দিয়ে যেতে হতো বুক ব্যাংকে। যাতে পরবর্তী বছরে পড়ুয়ারা সেই বই পড়তে পারেন। নিজের গ্রামের পাশাপাশি শান্তিনিকেতনেও এমন কমিউনিটি বুক ব্যাংক তৈরি করেছেন তিনি। কোনকিছুর পরোয়া না করেই সামাজিক কাজে বরাবর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন তরুণ এই যুবক। বর্তমানে তাঁর লক্ষ্য সফলভাবে একটি গ্রামকে গ্রন্থাগারে পরিণত করা।

Advt

Related articles

পথে নামছে ককরোচ পার্টি: নেতৃত্বে দীপকের পাশে সোনম ওয়াংচু

সোশ্যাল মিডিয়ার পরে এবার পথে নেমে ভারতের ছাত্রসমাজ ও যুবসমাজের দাবি তুলে ধরতে চলেছে ককরোচ জনতা পার্টি। সেই...

জীবনতলায় NIA: ছেলেকে নিয়ে প্রাক্তন বিধায়ক শওকতের খোঁজে আধিকারিকরা

আবারও রাজ্যে সক্রিয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। ভাঙড়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় এবার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার খোঁজে বৃহস্পতিবার...

কুয়েতের বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় নিহত ভারতীয়, নিন্দায় ভারত

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে ফের বলি এক ভারতীয়ের। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে নতুন করে যে ইন্ধন ইজরায়েল জুগিয়েছে, এবার তার খেসারতন...

রাজ্যে শিল্প ও কর্মসংস্থানের নয়া সুযোগ! নবান্নে বৈঠক শুভেন্দু-আদানির

দায়িত্বভার গ্রহণের এক মাসের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করলেন দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি গৌতম আদানি। বুধবার নবান্নে...