Sunday, January 11, 2026

সতীর একান্ন পীঠের এক পীঠ শালবাড়ির ভ্রামরি মন্দির

Date:

Share post:

সতীর একান্ন পীঠের এক পীঠ এটি। কিন্তু প্রচারের আলোয় না আসায় তীর্থস্থান হতে পারেনি শালবাড়ির ভ্রামরি মন্দির। নাহলে হয়তো কামাখ্যা বা কালীঘাটের মতোই হতে প্রসিদ্ধ তীর্থস্থান হতে পারত জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি ব্লকের শালবাড়ির ভ্রামরি মন্দির। কিছুটা প্রচারের অভাবে লোকচক্ষুর অন্তরালে রয়েছে এই মন্দির । যদিও প্রায় সারা বছর ধরে ভারতবর্ষের বিভিন্ন জায়গার মানুষ এই মন্দিরে পুজা ও মানত করতে আসেন। স্থানীয়দের আক্ষেপ, সরকার বা প্রশাসন যদি নজর দিত তাহলে হয়তো তীর্থস্থান হতে পারত শালবাড়ি। যদিও এলাকার বিধায়ক থাকাকালীন মিতালি রায় এই মন্দিরের উন্নয়নের চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি বিধায়ক মিতালি ও ধূপগুড়ি থানার বিদায়ী আইসি সুবীর কর্মকারের উদ্যোগে মন্দিরের প্রাচীর, জলের ব্যবস্থা ও অন্যান্য পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়। তবে তা তুলনায় সামান্য বলা চলে।

 

 

সেই ভ্রামরি মন্দিরে এবারের কালিপূজার প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। সম্পূর্ণ সরকারি বিধি নিষেধ মেনেই আয়োজন করা হচ্ছে পূজার। মূলত স্থানীয়দের উদ্যোগেই এখানে পুজোর আয়োজন করা হয়। তবে পূজার চাঁদার জন্য আলাদা করে কারো বাড়িতে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না সকলেই মন্দিরে এসে চাঁদা দিয়ে যান। পুজো উপলক্ষে চণ্ডীপাঠ এবং খিচুড়ি প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা থাকে। এখানে এখনও প্রচলিত আছে বলি প্রথা ‌। এই দেবী জাগ্ৰত বলে অনেকেই মনস্কামনা করতে প্রতিবছর আসেন। পুজো কমিটির উদ্যোক্তা হিরু রায় জানান, ” সরকারি বিধিনিষেধ মেনেই পূজার আয়োজন চলছে। সেরকম বড়ো করে পূজার আয়োজন করা না হলেও এখানে গভীর রাত পর্যন্ত পূজা অর্চনার আয়োজন করা হয়। এখানে বলি প্রথা রয়েছে। কবে এই পূজা শুরু হয়েছে আমরা জানি না। এই পূজার জন্য সারাবছর অপেক্ষায় থাকেন স্থানীয়রা।”

স্থানীয় বাসিন্দা তথা পূজা উদ্যোক্তা প্রকাশ সূত্রধর বলেন,” সতী দেবীর বা পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল এখানে পড়েছে বলে জন্মের পর থেকে শুনে আসছি। তাই এটাকে ৫১ পীঠের এক পীঠ বলা হয়। প্রতি বছর এখানে নিয়ম নিষ্ঠার সহিত কালি পূজা করা। সারা বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এখানে পূজা দিতে আসে। তবে মন্দিরের সেভাবে উন্নয়ন হয়নি। বিধায়ক থাকাকালীন মিতালি রায় এই মন্দিরের উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করেছিলেন। কিছুটা কাজও করেছিলেন। তবে সরকার বা প্রশাসন যদি নজর দিত তাহলে হয়তো এই মন্দিরো অন্যান্য মন্দিরের মতো তীর্থস্থান হতে পারত।”

বিমল রায় বলেন,” পঞ্জিকাতে এই মন্দিরের উল্লেখ আছে তাছাড়া গুগল ম্যাপেও দেখা যায়। ওইসব দেখেই অনেকেই মন্দিরে পূজা দিতে আসেন। এই দেবী ভীষণ জাগ্ৰত।”

আরো জানা যায়, একটা সময় ফালাকাটা রেল স্টেশন মাস্টার এখানে পূজা দিতে আসতেন। সেসময় তিনি ফালাকাটা রেল স্টেশনে ফালাকাটা থেকে শালবাড়ি ভ্রামরি মন্দির যাওয়ার ম্যাপ তৈরি করে দেন। তবে এবছর স্টেশনটি নতুন করে তৈরি করা হয়েছে তাই তার চিহ্ন এখন নেই।

উল্লেখ্য ৫১ পীঠের এক পীঠ এই ভ্রামরি মন্দির। বাংলা পঞ্জিকা এবং আরো কয়েকটি ধর্ম গ্রন্থে উল্লেখ আছে ত্রিস্রোতা নদীর পাশে অবস্থিত ভ্রামরি দেবীর মন্দিরে আছে দেবীর বাম পদ। যদিও এই নিয়ে তর্ক বিতর্ক রয়েছে। তবে অনেকেই দূর দূরান্ত থেকে এখানে এসে প্রতিনিয়ত পূজা দিয়ে যান। অনেকের মতে এই মন্দিরে পূজা দিয়ে অনেকেরই মনস্কামনা পূর্ণ হয়েছে। তাই তাদের মতে এখানকার দেবী জাগ্ৰত। এমনকি বিশেষ দিনগুলোতে এখানে রাতের বেলায় নূপুরের আওয়াজ শোনা যায় বলে স্থানীয়রা জানান।

spot_img

Related articles

IND vs NZ ODI: চোটের জেরে ছিটকে গেলেন পন্থ, পরিবর্ত বেছে নিলেন নির্বাচকরা

আশঙ্কাই সত্যি হল। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজ শুরুর দিনেই বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে। চোট পেয়ে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে একদিনের...

কার নির্দেশে কোথা থেকে আচমকা আইপ্যাকে ইডি তল্লাশি: তথ্য ফাঁস কুণালের

কয়লা মামলার অজুহাতে আড়াই বছর পরে রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের দফতর ও কর্ণধারের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান। আদতে নির্বাচনের...

চাকরির টোপ দিয়ে পাচার, মায়ানমারে উদ্ধার ২৭ ভারতীয়

বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই চলছিল উৎকণ্ঠা। অবশেষে সেই টানটান উত্তেজনার অবসান। মায়ানমারের(Myanmar) দুর্গম এলাকায় পাচার হয়ে যাওয়া ২৭...

অশ্লীল কনটেন্ট বরদাস্ত নয়, কেন্দ্রের চিঠির পরই পদক্ষেপ এক্সের

ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের (Ministry of Electronics and Information Technology) কড়া চিঠির পর আসবে অশ্লীল কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগে এখনও...