অগ্নিপথ বিতর্ক: সুপ্রিমকোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করল কেন্দ্রীয় সরকার

কেন্দ্রের সেনা নিয়োগের নয়া প্রকল্প অগ্নিপথকে(Agnipath) কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠ্যেছে গোটা দেশ। এবার অগ্নিপথ ইস্যু গড়াল শীর্ষ আদালতে। কেন্দ্রের অগ্নিপথ কেন্দ্রের বিরোধিতায় ইতিমধ্যেই শীর্ষ আদালতে(Supreme Court) দায়ের হয়েছে ৩ টি মামলা। পাল্টা এই ইস্যুতে সুপ্রিমকোর্টে ক্যাভিয়েট দখল করল কেন্দ্র সরকার(Central Govt)।

মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে কেন্দ্রের তরফে ক্যাভিয়েট দাখিল করে আবেদন জানানো হয়েছে, দায়ের হওয়া মামলার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রের বক্তব্য না শুনে শীর্ষ আদালত যেন কোনও সিদ্ধান্ত না নেয়। অন্যদিকে, শীর্ষ আদালতে অগ্নিপথ প্রকল্পের প্রেক্ষিতে ৩ টি পিটিশন দাখিল হয়েছে শীর্ষ আদালতে। আর এই পিটিশন দাখিল করেছেন আদালতের তিন আইনজীবী বিশাল তিওয়ারি, এমএল শর্মা ও অজয় সিং। যেখানে অগ্নিপথকে ঘিরে দেশ জুড়ে যে হিংসাত্মক প্রতিবাদ হচ্ছে এবং তার জেরে সরকারি সম্পত্তির কত ক্ষতি হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করার আর্জি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, এই প্রকল্প খতিয়ে দেখার জন্য সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করার আবেদন করেছেন মামলাকারী।

উল্লেখ্য, অগ্নিপথ প্রকল্পের মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে অগ্নিবীর নিয়োগের ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, দেশের সশস্ত্র বাহিনীর তিন বিভাগ অর্থাৎ স্থল, নৌ এবং বায়ুসেনায় চার বছরের জন্য চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ করা হবে। সাড়ে ১৭-২১ বছরের তরুণ-তরুণীরা এতে যোগ দিতে পারবেন। যদিও পরে এই বয়সসীমা বাড়িয়ে ২৩ বছর পর্যন্ত করা হয়েছে। চুক্তিভিত্তিক এভাবে সেনা নিয়োগের ঘোষণার পর রীতিমতো ফুঁসে ওঠে দেশের যুবসমাজ। বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে বিহার, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, তেলঙ্গানা সহ ১৩ টি রাজ্যে। একাধিক ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় বিহারে। বিক্ষোভের জেরে শুধুমাত্র এইরাজ্যেই ভারতীয় রেলের প্রায় ২০০ কোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর আকার ধারন করেছে যে বাধ্য হয়ে ভোর ৪ টে থেকে রাত্রি ৮ টা পর্যন্ত এই রাজ্যে সমস্ত রকম ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ভারতীয় রেল।