Tuesday, March 10, 2026

এমবাপের দুরন্ত পারফরমেন্সে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিল ফ্রান্স

Date:

Share post:

ফ্রান্সের বিপক্ষে ৮ মিনিট ২২ সেকেন্ডে অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে যাওয়ার পর সম্ভবত অনেকের মনে এসেছে আর্জেন্টিনার ভরাডুবির কথা। এর আগে সৌদি আরবের কাছে আর্জেন্টিনার হার।

যদিও শেষ পর্যন্ত ফ্রান্স সে পথে হাঁটেনি। উল্টে ঘুরে দাঁড়িয়ে পেল ৪-১ গোলের দুর্দান্ত এক জয়। ফ্রান্সের জয়ে জোড়া গোল করেছেন অলিভিয়ের জিরু। একটি করে গোল করেছেন আদ্রেঁয়া রাবিও ও কিলিয়ান এমবাপে। একটি গোলই শুধু করেন নি। ম্যাচে জাদু দেখিয়েছেন এমবাপে। দলের দ্বিতীয় গোলটির সূত্রও ছিলেন এই পিএসজি তারকা। এ ছাড়া ম্যাচজুড়ে গতির ঝলকও দেখিয়েছেন বেশ। কাছাকাছি গিয়ে একাধিক সুযোগ হাতছাড়া না করলে গোল সংখ্যা আরও বাড়তেও পারত।
চোটের জন্য করিম বেনজেমা নেই। নেই এনগালো কান্তে, পল পগবা, ক্রিস্টোফার এনকুকু এবং প্রেসনেল কিমপেম্বের মতো তারকারাও। তবে সেসব পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে চেয়েছিল ফ্রান্স। চার ডিফেন্ডার নিয়ে ৪-২-৩-১ ফরমেশনে দল সাজান দিদিয়ের দেশম। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই লক্ষ্যটা পরিস্কার করে দেয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। শুরুতেই গতিময় আক্রমণে অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণ কাঁপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে তারা।
এরই মধ্যে ম্যাচের ৯ মিনিটে আরেকটি অঘটনের সম্ভাবনা জাগিয়ে গোল করে বসে অস্ট্রেলিয়া।
পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে চ্যাম্পিয়নরা। একের পর এক আক্রমণে অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্সকে কাঁপিয়ে দেন এমবাপ্পেরা। তবে অস্ট্রেলিয়ার হলুদ দেওয়ালে বারবার আটকে যাচ্ছিল ফ্রান্সের আক্রমণগুলো। ফ্রান্সের টানা আক্রমণে শেষ পর্যন্ত ২৭ মিনিটে ভেঙে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণ। বদলি নামা থিও হার্নান্দেজের দারুণ এক ক্রসে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন আদ্রেঁয়া রাবিও।

এই গোলের রেশ কাটার আগেই দ্বিতীয় গোল করে ফ্রান্স। এমবাপ্পের দুর্দান্ত এক ব্যাক হিল ফ্লিক দিয়ে শুরু আক্রমণে এবার বল পেয়ে গোলে সহায়তা করেন রাবিও। তাঁর পাস থেকে সহজেই লক্ষ্যভেদ করে দলকে এগিয়ে দেন অলিভিয়ের জিরু।
এগিয়ে থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের দখলে নেয় ফ্রান্স। আক্রমণের ধারায় সকারুজদের কাঁপিয়ে দিতে থাকে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে এমবাপে গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি। পাল্টা আক্রমণে হুটহাট সুযোগ পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়াও। তাদের একটি আক্রমণ প্রতিহত হয় পোস্টে লেগে। এরপর ২-১ ব্যবধানে বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল ফ্রান্সের। হাই প্রেসিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চেপে ধরে একের পর আক্রমণে গিয়ে ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা করে দেশমের দল। অস্ট্রেলিয়াকে কোণঠাসা করে সুযোগও তৈরি করে তারা। ৬৭ মিনিটে গ্রিজমানের শটে গোল লাইন থেকে বল ফিরে আসলে নিরাশ হতে হয় ফ্রান্সকে।

তবে একটু পর উসমান দেম্বেলের ক্রসে দুর্দান্ত এক হেডে লক্ষ্যভেদ করে জানুব স্টেডিয়ামকে মাতিয়ে তুলেন এমবাপে। ৭১ মিনিটে এমবাপের সহায়তায় নিজের দ্বিতীয় গোল করেন জিরু। চার গোলে এগিয়ে থেকে তখন ফ্রান্সের জয় অনেকটাই নিশ্চিত। ব্যবধান অবশ্য আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল ফ্রান্স। তবে সেগুলো আর কাজে আসেনি।

 

spot_img

Related articles

নিজে হাতে লেক কালীবাড়ির মাকে সাজিয়ে ঐশ্বরিক অনুভূতি অভিষেকের

হঠাৎ করে একটা ফোন বদলে দিল ফ্যাশন ডিজাইনার অভিষেক রায়ের (Abhishek Roy)ভাবনা, আধ্যাত্মিক ভাবনায় আপ্লুত তারকা ভাগ করে...

তাপমাত্রা আর কমার সম্ভাবনা নেই, এখনও বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা

শীত শেষে নতুন করে বঙ্গোপসাগর ঘূর্ণাবর্তের জেরে রাতারাতি গরম পড়া কমেছে কিছুটা গোটা বঙ্গে। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত গোটা...

জ্বালানি গ্যাস সরবরাহে নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের: বাণিজ্যিক গ্যাস নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ ইন্ডিয়ান অয়েলের

দীর্ঘদিন ধরে ভারতের জ্বালানি ভাণ্ডারের তথ্য গোপন করার চেষ্টা করেছিল কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। শেষ পর্যন্ত গৃহস্থের হেঁসেলে টান...

আবার লাচেন যাত্রা:  ফের খুলল গুরুদোংমার যাওয়ার পথ

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর অবশেষে আবার খুলে গেল নর্থ সিকিমের (North Sikkim) লাচেন  যাওয়ার রাস্তা (Lachen route reopened )। ভয়াবহ বৃষ্টি ও ধসে...