Saturday, March 14, 2026

বকেয়া মেটানোর দাবিতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ফের সরব বাংলার অর্থমন্ত্রী !

Date:

Share post:

দিনের পর দিন উন্নয়নমূলক কাজ করে চলেছে বাংলা। অথচ মাসের পর মাস ধরে শুধু কেন্দ্রের বঞ্চনা সহ্য করতে হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গকে। বাংলার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর (UNESCO) হেরিটেজ স্বীকৃতি পেয়েছে, মুখ‌্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) দুয়ারে সরকার (Duare Sarkar) কেন্দ্রের ডিজিট‌াল ইন্ডিয়ার প্ল‌্যাটিনাম পুরস্কার পেয়েছে। অথচ কেন্দ্রের বিজেপি সরকার (BJP Government) দিনের পর দিন বাংলাকে বঞ্চনা করে আসছে। বৃহস্পতিবার কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেলে মার্চেন্ট চেম্বার অফ কর্মাসের (Merchant Chamber of Commerce) অনুষ্ঠানে বক্তব‌্য রাখার সময় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বাংলার অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chadrima Bhattacharya)। জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ বকেয়া ২৪০৯ কোটি টাকা দ্রুত মেটানোর দাবি তোলেন তিনি।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী যিনি আবার জিএসটি (GST) কাউন্সিলের চেয়ারপার্সনও বটে, সেই নির্মলা সীতারমন (Nirmala Sitaraman) মাত্র ৮৩৪ কোটি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেটাও আবার শর্তসাপেক্ষে। এই প্রসঙ্গ তুলে ধরে কেন্দ্রীয় সরকারকে ধুইয়ে দেন চন্দ্রিমা। ১০০ দিনের কাজ থেকে শুরু করে আবাস যোজনা – একাধিক প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রের বরাদ্দ থাকা বাংলা এখনও পায়নি। সেই কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, কিন্তু ভালো কাজে অন্যান্য রাজ্যের মতো বাংলাও খুশি হয়। কিন্তু বাংলা যেভাবে এক সম্মান অর্জন করছে তাতে এই রাজ্যের উন্নতির কথা ভাবা কেন্দ্রের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। চন্দ্রিমা এদিন বলেন, বিশ্বের বুকে কন‌্যাশ্রী, সবুজসাথী-র মতো একাধিক প্রকল্প পুরস্কৃত হলেও, এই নিয়ে কেন্দ্রের মুখে বাংলার প্রশংসা শোনা যায়নি।তিনি জানান, ‘এজি’ কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থা। অথচ সেই এজি রিপোর্টের দোহাই দিয়ে বাংলার প্রাপ‌্য টাকা আটকে রাখা হয়েছে।

এদিন কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির তুলনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন,  চলতি বছরে কেন্দ্রের আর্থিক বৃদ্ধি ৬.৯৫ শতাংশ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সেখানে রাজ্যের আর্থিক বৃদ্ধি ৮.৪১ শতাংশ ধরা হচ্ছে। এখানেই শেষ নয়, জাতীয় স্তরে শিল্পবৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ অথচ অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও বাংলায় ৭.৮ শতাংশ শিল্পবৃদ্ধির রেকর্ড হয়েছে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিকল্পনা মতো মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে সরকার। পরিসংখ্যান বলছে দুয়ারে সরকার শিবিরে ৯ কোটি মানুষ অংশ নিয়েছেন। যার মধ্যে প্রায় ৭.৮ কোটি আবেদন জমা পড়েছে। এবং ইতিমধ্যেই ৬.৮ কোটি বঙ্গবাসী পরিষেবা পেয়েছেন। বণিকসভার শিল্পোদ্যোগীদের বৃহস্পতিবার রাজ্যের অর্থমন্ত্রী পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, স্ট‌্যাম্প ডিউটিতে ছাড় দেওয়ায় রাজ্যে জমি-বাড়ির রেজিস্ট্রেশন বেড়েছে। ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২২-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৪ লক্ষ ৪৪ হাজার ০৭৩ টি জমি-বাড়ির রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। MSME-তে ১.০২ লক্ষ কোটি ঋণ দেওয়ার ব‌্যবস্থা হয়েছে। বাম জমানার দেনা ঘাড়ে নিয়েও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের সামাজিক প্রকল্পের বরাদ্দ বাড়িয়েই চলেছেন। শিল্পোদ্যোগীদের ‘ফ্রি হোল্ড ডিড’ দেওয়া হচ্ছে বলেও এদিন জানান চন্দ্রিমা । অনুষ্ঠানে উপস্থিত এমসিসিআই-এর  প্রেসিডেন্ট নমিত বাজোরিয়া ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ললিত বেরিওয়ালা রাজ্যের জনহিতকর প্রকল্পের ভুয়সী প্রশংসা করেন।

 

spot_img

Related articles

হরমুজ থেকে ভারতের দিকে রওনা দিল জাহাজ: আসছে এলপিজি ট্যাঙ্ক

অবশেষে হরমুজে আটকে থাকা ভারতের জাহাজগুলিকে ছাড়ার অনুমতি দিল ইরান। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ব হরমুজে (Strait of...

সাপ্লিমেন্টারি তালিকা কবে? কমিশনের কর্মশালায় একগুচ্ছ প্রশ্ন তৃণমূলের 

বিধানসভা ভোটের রণদামামা বাজার আগেই ভোটার তালিকা নিয়ে নিজেদের আপত্তির কথা আরও একবার স্পষ্ট করল তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার...

মোদি রাজ্যে পা রাখার আগেই ‘গো ব্যাক’! বিরাট হোর্ডিং শহরজুড়ে

বিজেপির রাজ্য নেতাদের কলঙ্কিত অত্যাচারে বিধ্বস্ত গোটা বাংলা। বারবার তাঁদের ডেইলি প্যাসেঞ্জার জাতীয় নেতারা এসে যে পেপ-টক দেওয়ার...

কর্মীদের চোখের চিকিৎসায় উদ্যোগী মার্লিন গোষ্ঠী, দুই কেন্দ্রে আয়োজিত হল পরীক্ষা শিবির 

কর্মীদের শারীরিক সুস্থতা ও স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে অভিনব উদ্যোগ নিল দেশের অন্যতম আবাসন নির্মাণকারী সংস্থা মার্লিন গোষ্ঠী।...