Saturday, March 14, 2026

বুটের শব্দে কাঁপছে ঢাকা, প্রাণহাতে ফেরা ৭৭৮ ভারতীয় পড়ুয়ার

Date:

Share post:

কার্ফু জারি করেও এতটুকু নিয়ন্ত্রণে আসেনি বাংলাদেশের অশান্ত পরিবেশ। ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার ছোট্ট দেশটা যেন গোটা পৃথিবী থেকে এক রাতের মধ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। তারপরেও সরকার বিরোধী কোটা আন্দোলনে বাড়ল মৃতের সংখ্যা। কোনও মতে ভারতের বিভিন্ন স্থলসীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরলেন ৭৭৮ জন ভারতীয় পডু়য়া। সেই সঙ্গে ফিরলেন নেপাল ও ভুটানের পড়ুয়ারাও। সরকারের পক্ষ থেকে অরাজকতা থামাতে ছাত্রনেতাদের বৈঠকে ডাকা হলেও দুজন আন্দোলনকারীকে গ্রেফতারের ঘটনায় পরিস্থিতি ফের আলোচনার ঊর্ধ্বে চলে যায়। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ পুলিশের প্রায় ১৫০ কর্মী আহত বলেও দাবি প্রশাসনের।

শুক্রবার রাত থেকেই ঢাকা সহ বাংলাদেশের শহরগুলিতে কার্ফু জারি হয়। রবিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত জারি থাকবে কার্ফু। তারমধ্যেই আন্দোলনে ‘মদত’ দেওয়ার অপরাধে নাহিদ ইসলামকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশ প্রশাসন। আন্দোলনকারী দলগুলির এক নেতাকেও বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় রাতেই। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় আন্দোলনকারীদের তিন নেতা সারজিস আলম, তানভীর আহমেদ এবং হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠক করে প্রশাসন। কিন্তু এখনও কোনও রফাসূত্র বেরোয়নি। তবে কার্ফুর কারণে শনিবার সকাল থেকে ঢাকার রাস্তাঘাট ছিল শুনশান। শুধু বাংলাদেশ পুলিশ ও সেনার টহলদারি বুটের শব্দ আর ট্যাঙ্কারের আওয়াজ প্রতিফলিত হচ্ছিল।

সব সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়। তারপরেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফের রামপুরা এলাকার রাস্তায় বেরিয়ে আসেন প্রতিবাদীরা। তাঁদের দাবি, তাঁদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছে। ফলে যে কোনও উপায়ে সরকারের আইন বদল করানো ছাড়া আর কোনও পথ দেখছেন না তাঁরা। পুলিশ ও সেনাবাহিনী তাঁদের পাখির মত লক্ষ্যভেদ করছে প্রাণে মারছে বলেও দাবি করেন তাঁরা। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও হাসপাতাল থেকে পাওয়া সূত্র অনুযায়ী এপর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১১৫ আন্দোলনকারীর।

সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা প্রধানের দাবি, আন্দোলনকারীদের মধ্যে মিশে রয়েছে বিরোধী বিএনপি ও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের কর্মীরা। মূল অরাজকতা তারাই তৈরি করছে। আন্দোলনকারীদের হামলায় আহত হয়েছেন যে পুলিশ কর্মীরা তাঁদের মধ্যে ১৫০ জন ভর্তি হাসপাতালে। আরও প্রায় ১৫০ পুলিশকর্মীকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি খবর পরিবেশন দফতরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ায় দেশের খবর বিদেশে সম্প্রচারেও সমস্যা তৈরি হয়েছে।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে জঘন্য় ও সমর্থনের অযোগ্য বলে দাবি করেছে। দেশের প্রশাসনকে অশান্তি থামাতে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে বক্তব্য পেশের অধিকার ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকারকে মৌলিক অধিকার বলে জানানো হয়েছে। কার্যত তার পরেই আন্দোলনকারীদের বৈঠকে ডাকতে বাধ্য হয় আওয়ামি লিগ প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার স্পেন ও ব্রাজিল সফর বাতিল করেছেন এই অশান্তির পরিবেশে।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে দাবি করা হয়েছে ইতিমধ্যেই ভারতীয় ও নেপাল-ভুটানের পড়ুয়ারা ভারতের স্থলসীমান্ত ও বিমান পথে দেশে ফিরেছে। তবে বাংলাদেশের আন্দোলনকারীদের থেকে রীতিমত প্রাণ হাতে করে তাঁদের ফিরতে হচ্ছে বলেই জানিয়েছেন পড়ুয়ারা। বিভিন্ন জায়গায় গাড়ি থামিয়ে তাঁদের থেকে জোর করে চাঁদা তোলারও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। তবে কোনওমতে অশান্ত বাংলাদেশ থেকে দেশে ফিরতে পেরে নিশ্চিন্ত তাঁরা। বাংলাদেশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে বিমান পরিষেবা সচল রাখা হয়েছে, তার জন্য বিদেশ মন্ত্রকের তরফে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

 

spot_img

Related articles

পশ্চিমের পর এবার অশান্ত পূর্ব? পরপর ১০ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

পশ্চিম এশিয়ায় (West Asia) যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই এবার পূর্ব এশিয়াতেও (East Asia) বাড়ছে উত্তেজনা। শনিবার (Saturday) একসঙ্গে একাধিক...

ব্রিগেডে মোদির ১৮ হাজার কোটির ললিপপ: পাল্টা ২ লক্ষ কোটি দাবি তৃণমূলের

ব্রিগেডে সভা করে বড় কিছু ঘোষণা করবেন। অন্তত নির্বাচনের আগে এমনটা গোটা বাংলার মানুষ প্রত্যাশা করেছিলেন। অথচ দেশের...

দিলীপকে কোন কথা বলতেই হেসে উঠলেন বিজেপি নেতারা

EXCLUSIVE অভিজিৎ ঘোষ ব্রিগেডে মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী। রয়েছেন বঙ্গ বিজেপির প্রথম সারির সমস্ত নেতৃত্ব। প্রত্যেকের সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে কুশল বিনিময় করছিলেন...

মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে বাংলার সিনে টেকনিশিয়ানদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের রেজিস্ট্রেশন, ক্যাম্প পরিদর্শনে দেব-কোয়েল

একজন লোকসভার সাংসদ, অপরজন রাজ্যসভার। শনিবার দুপুরে দুজনেই হঠাৎ হাজির হলেন টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে (Technicians Studio)। দেব ও কোয়েল...