Sunday, February 22, 2026

অসম চুক্তিকে মান্যতা! নাগরিকত্ব আইনের ৬এ -র সাংবিধানিক বৈধতা বহাল সুপ্রিম কোর্টে

Date:

Share post:

এক যুগান্তকারী রায়ে সুপ্রিম কোর্ট ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের ধারা ৬এ  এর সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রাখল।এটি অসম চুক্তির আওতায় আসা অভিবাসীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদানের সঙ্গে সম্পর্কিত।যার নিট ফল, বকলমে বৈধতা পেয়ে গেল অসম চুক্তি। পাঁচ বিচারপতির মধ্যে চারজন নাগরিকত্ব আইনের ৬-এ ধারার সাংবিধানিক বৈধতাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। একজন বিচারপতি ভিন্নমত পোষণ করেছেন।

প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় এবং বিচারপতি সূর্যকান্ত, এমএম সুন্দরেশ, জেবি পারদিওয়ালা এবং মনোজ মিশ্রের সাংবিধানিক বেঞ্চ ৪:১ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিধানটির বৈধতা বহাল রেখেছেন, বিচারপতি পারদিওয়ালা ভিন্নমত পোষণ করেছেন। ৬-এ ধারাকে ‘অসাংবিধানিক’ বলেছেন বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৫ সালে তৎকালীন রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার, তৎকালীন অসম সরকার এবং অসমের অনুপ্রবেশ বিরোধী আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের মধ্যে অসম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে যে সব শরণার্থী অসমে প্রবেশ করেছেন, তাঁরা সকলেই দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী। ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের পর যারা ভারতে এসেছেন তাঁদের নাগরিকত্ব বাতিল হবে। অসম চুক্তির ওই শর্তকে বৈধতা দেওয়ার জন্য ‘মানবিকতার খাতিরে’ ভারতের নাগরিকত্ব আইনে ৬-এ ধারাটি যোগ করা হয়।

প্রধান বিচারপতি বলেছেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে অসম চুক্তি ছিল একটি রাজনৈতিক সমাধান। যাতে ৬এ ধারাটি ছিল আইনি সমাধান। বেঞ্চের সংখ্যাগরিষ্ঠের মত এই যে, এ ধরনের ব্যবস্থা চালুর ক্ষমতা সংসদের রয়েছে। বেঞ্চের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য মনে করেন যে, ৬এ ধারা কার্যকর হয়েছিল স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে একটি মানবিক দৃষ্টিকোণের সামঞ্জস্য রক্ষা করতে। বেঞ্চের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য এও মনে করেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সীমান্তবর্তী অন্য রাজ্যগুলি যেমন পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় অসম অনুপ্রবেশ সমস্যায় বেশি ভুক্তভোগী হয়েছিল। তাই পশ্চিমবঙ্গ ও অসম কে এক করে ভাবলে চলবে না।

২০১২ সালে সংবিধানের এই ৬এ অনুচ্ছেদকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয় অসম সম্মিলিত মহাসংঘ। তাদের দাবি ছিল, এই অনুচ্ছেদটি অসাংবিধানিক। কারণ এর মাধ্যমে আলাদা আলাদা অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার আলাদা আলাদা শর্ত দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্র ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, নাগরিকত্ব আইনের এই ৬-এ ধারায় ২০১৭ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ১৪ হাজার ৩৪৬ জন অনুপ্রবেশকারীকে দেশ থেকে বিতড়িত করা হয়েছে। নাগরিকত্ব পেয়েছেন ১৭ হাজার ৮৬১ জন। আরও ৩২ হাজার ৩৮১ জনকে ‘বিদেশি’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।









 

spot_img

Related articles

কংগ্রেসের সবটাই তৃণমূলে: সাম্প্রতিক নেতৃত্বের সমালোচনায় মণিশঙ্কর আইয়ার

কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে যেভাবে বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সবরকমভাবে সরব হয়েছে, এবং সাফল্যের মুখ দেখেছে, তাতে একের...

সাফল্য তেলেঙ্গানায়: আত্মসমর্পণ মাও রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের

মাওবাদী দমনে নতুন করে সাফল্য কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের। তেলেঙ্গানায় আত্মসমর্পণ শীর্ষ মাওবাদী নেতা টিপ্পিরি তিরুপতি (Tippiri Tirupati) ওরফে...

পাকিস্তানের জেলে বাংলার মৎস্যজীবীরা: খোঁজ নেই দুবছর, উদ্বেগে পরিবার

তিন বছর ধরে ঘরে ফেরেননি। বন্দি পাকিস্তানের জেলে (Pakistan Jail)। প্রায় দুবছর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। গুজরাটের উপকূল...

বিজেপির মধ্যপ্রদেশে ফের আক্রান্ত বাঙালি: মালদার শ্রমিককে ছুরির কোপ!

ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে একের পর এক বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর আক্রমনের ঘটনা অব্যাহত। এই নিয়ে বারবার সরব...