Wednesday, March 18, 2026

গরিব মানুষই দেশের করদাতা, ধনীরা দিচ্ছে মাত্র ৩ শতাংশ: বলছে সমীক্ষা

Date:

Share post:

দেশে ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি। বেকরত্বের জ্বালায় জর্জরিত দেশের ৫০ শতাংশ মানুষ। করোনা পরিস্থিতির পরে সর্বস্বান্ত হয়ে যাওয়া সেই নিম্নবিত্ত ভারতীয়ের ঘাড়ে বন্দুক রেখেই যে গোটা দেশের অর্থনীতি চলছে তা স্পষ্ট হল আন্তর্জাতিক সংস্থা অক্সফ্যামের রিপোর্টে। ‘সার্ভাইভাল অফ দ্য রিচেস্ট: দ্য ইন্ডিয়া স্টোরি’ (Survival of the Richest: The India Story) শীর্ষক প্রতিবেদনে অক্সফ্যাম (Oxfam) দাবি করেছে, দেশের ৮০ শতাংশ আর্থিক ক্ষমতা যাঁদের হাতে, তাঁরাই মাত্র ৩-৪ শতাংশ জিএসটি (GST) দিচ্ছেন দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে। এমনকি করোনা পরিস্থিতিতে চরম আর্থিক বৈষম্য তৈরি হওয়ার পরেও এর পরিবর্তনের দিকে নজর দেয়নি ভারতের সরকার, দাবি রিপোর্টের।

আন্তর্জাতিক সংস্থা অক্সফ্যাম (Oxfam)-এর দাবি, দেশের ৫০ শতাংশ গরিব মানুষ জিএসটি (GST)-র মাধ্যমে দেশের ভাঁড়ারে দিচ্ছেন দুই তৃতীয়াংশ। যা শতাংশের হিসাবে ৬৪.৩ শতাংশ। দুঃখের বিষয় বিভিন্ন পণ্য থেকে পরিষেবার মাধ্যমে সবথেকে বেশি জিএসটি (GST) দেয় দেশের সবথেকে নিম্নবিত্ত ৫০ শতাংশ নাগরিক। যাঁদের হাতে রয়েছে দেশের সম্পদের মাত্র ৪০.৬ শতাংশ। এমনকি মধ্যবিত্তের থেকেও তাঁদের অবদান বেশি।

ব্রিটিশ (British) সংস্থা অক্সফ্যাম ২১টি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সম্মিলিত একটি সংস্থা। মূলত দারিদ্র দূরীকরণ ও আর্থিক সাম্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করে এই সংস্থা। অক্সফ্যামের (Oxfam) রিপোর্টে দাবি, যেখানে দুই তৃতীয়াংশ জিএসটি (GST) বহন করে দেশের দরিদ্র শ্রেণি, সেখানে মধ্যবিত্ত শ্রেণি জিএসটি-র মাধ্যমে ৪০ শতাংশ তুলে দেয় সরকারের ঝুলিতে। তবে সবথেকে হাস্যকর পরিস্থিতিতে দেশের সবথেকে অর্থবান ১০ শতাংশ, যাঁরা জিএসটির মাধ্য়মে সরকারের ভাঁড়ারে দেয় মাত্র ৩-৪ শতাংশ।

দেশের সম্পদের ৮০ শতাংশের বেশি ধারণ করছে বিত্তবান ১০ শতাংশ। অথচ মোদি সরকারের কর ব্যবস্থার এমন কাঠামো যে তাঁদের উপর থেকে করের বোঝা তুলে নিয়ে চাপানো হয়েছে দরিদ্র শ্রেণির উপর। অক্সফ্যামের রিপোর্টে দাবি, দরিদ্র শ্রেণির মানুষ ভারতের কর কাঠামোর কারণে পরোক্ষ কর (indirect tax) জিএসটির মাধ্যমে দিতে বাধ্য। এমনকি ২০২১-২২ সালে জিএসটির মাধ্যমে ভারত সরকার যেখানে ১৪.৭ লক্ষ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল, সেই অনুপাতে ২০২২-২৩ সালে সেই সংগ্রহ ১৮ লক্ষ কোটি টাকা হওয়ার কথা। কিন্তু ধনবান শ্রেণির (richer class) উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কর কম থাকায় সেই উপার্জন থেকেও বঞ্চিত হয়েছে দেশ, দাবি সমীক্ষায়।

spot_img

Related articles

দিল্লি-ইন্দোরে অগ্নিকাণ্ডে ঝলসে মৃত ১৪, আশঙ্কাজনক একাধিক

সকাল থেকে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। বুধবার মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর শহরের (Indore City) ব্রজেশ্বরী অ্যানেক্স এলাকার এক...

মুখ্যমন্ত্রীর চিঠির উত্তর নেই, আবার ৫ DIG বদল কমিশনের!

প্রশাসনিক পদ থেকে পুলিশের শীর্ষ পদ। রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের ধারাবাহিক স্বেচ্ছাচারিতা অব্যাহত। একদিকে যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata...

বিমানে হিডেন চার্জ! ৬০ শতাংশ ‘ফ্রি’ রাখার নতুন নির্দেশ

যাত্রীদের জন্য স্বস্তির খবর। বিমান সংস্থাগুলিকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বলা হয়েছে, এবার থেকে প্রতিটি উড়ানে অন্তত...

সাংসদ হলেন নীতীশ, দল ছাড়লেন ২৩ বছরের সঙ্গী কে সি ত্যাগী

নিজের জীবনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নীতীশ কুমার। বিহারের মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছেড়ে রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার দিকে পা বাড়িয়েছেন। নীতীশের...