Sunday, May 10, 2026

রাজস্ব-ঘাটতি মেটাতে ধার বাড়াচ্ছে মোদি! উৎপাদন কোথায়, তোপ তৃণমূলের

Date:

Share post:

ধারই যেন মোদি জমানার সচল অর্থনীতি। একদিকে উৎপাদন ক্ষেত্র মোদির নিজের তৈরি করা লক্ষ্যমাত্রার ধারে কাছেও পৌঁছাতে পারলেন না নির্মলা সীতারমন (Nirmala Sitharaman)। দেশে যখন আয় ও ব্যয়ের ফারাক ক্রমশ বেড়ে চলেছে, সেই সময় সাধারণের মন রাখতে ফের রাজস্ব ঘাটতি (fiscal deficit) কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু প্রশ্ন কীভাবে কমবে সেই ঘাটতি? নির্মলার উত্তর, ফের বাড়ানো হবে ধার। সেখানেই বাংলার শাসকদলের তোপ, তাহলে যে উৎপাদন (manufacturing) বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি, কোথায় গেল সেই উৎপাদন। কেন রাজস্বের ঘাটতি মেটাতে ফের বাড়ানো হচ্ছে ধারের (borrowing) পরিমাণ।

ভারতের অর্থনীতি ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে। শনিবার বাজেট (Union Budget 2025-26) পেশ করতে গিয়ে প্রথমেই দেশের অর্থনীতির গুণগান গাইতে শুরু করেন নির্মলা সীতারমন। তবে গোটা বক্তৃতার শেষে গিয়ে প্রকাশ্যে আসে ভারতের অর্থনীতির আসল চেহারা, যেখানে সীতারমন বলেন ভারতের রাজস্ব ঘাটতি (fiscal deficit) ২০২৫ অর্থবর্ষে ছিল ডিজিপির (GDP) ৪.৮ শতাংশ। এই মাত্রা প্রত্যাশিত ছিল ৪.৯ শতাংশ। কার্যত ০.১ শতাংশ উন্নতির কথা শুনিয়ে পিঠ চাপড়ানি আদায় করার চেষ্টা করেন তিনি।

২০২৬ বর্ষে রাজস্বের ঘাটতি কমিয়ে ডিজিপির ৪.৪ শতাংশ করার প্রতিশ্রুতি দিলেন নির্মলা সীতারমন। তবে এই সামান্য ঘাটতি কমাতে ধারের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ২০২৫ অর্থবর্ষে যেখানে ধারের (borrowing) পরিমাণ ১৪.০১ লক্ষ কোটি ছিল, সেখানে ২০২৬ অর্থবর্ষে তা বাড়িয়ে ধার নেওয়া হবে ১৪.৮২ লক্ষ কোটি।

স্বাভাবিকভাবেই সেই ধারের বোঝা দেশের মানুষের উপর চাপিয়েই ‘আচ্ছে দিন’এর বুলি আওড়াবেন মোদি-নির্মলা। সেখানেই মানুষের ভুল ভাঙলেন রাজ্যের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী তথা অর্থ উপদেষ্টা অমিত মিত্র (Amit Mitra)। তিনি স্পষ্ট তুলে ধরেন, রাজস্ব ঘাটতি (fiscal deficit) মেটাতে মোদি ধার করতে চলেছেন প্রায় ১৫ লক্ষ কোটি। যার ফলে দেশের ধারের পরিমাণ আরও বাড়বে। সবশেষে সাধারণ মানুষ ও যুব সম্প্রদায়ের জন্য এই বাজেটে কিছু নেই।

অথচ এই নরেন্দ্র মোদিই (Narendra Modi) এমন স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন যাতে বাস্তবে হাওয়ায় কাঁচের রাজপ্রাসাদ তৈরি করেছিল ভারতের যুবসমাজ। রাজকোষের দৈন্যের তুলনায় মোদির সেই প্রতিশ্রুতি মনে করিয়ে অমিত মিত্রর প্রশ্ন, সমীক্ষা স্পষ্ট বলছে উৎপাদন কমছে। প্রশ্ন হল, উৎপাদন (manufacturing) জিডিপির মাত্র ১৫ শতাংশ। মোদি নিজে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন উৎপাদন পৌঁছে যাবে জিডিপির ২৫ শতাংশে। কিন্তু বাজেটে কোথায় উৎপাদন বাড়ানোর কথা? যদি দেশের উৎপাদন ক্ষমতা না বাড়বে তবে স্বাভাবিকভাবেই বিকাশ (growth) থমকেই যাবে। ঠিক সেভাবেই ভারতের বিকাশ মুখ থুবড়ে পড়েছে।

Related articles

জ্বলল ৬০ দোকান! বিজেপি ভয় তাড়ানোর প্রতিশ্রুতিকে কটাক্ষ অভিষেকের

নির্বাচনে জয়ের পর থেকে বাংলার শহর থেকে গ্রাম - সব প্রান্তে রাজনৈতিক হিংসার ছবি স্পষ্ট হয়েছে। বিজেপির নেতারা...

বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই কলকাতা পুলিশের ৯৩ অফিসারের বদলি

বাংলার নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জয় পেয়ে প্রথমবারের জন্য পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়েছে বিজেপি (BJP)। ক্ষমতার হাত বদল হতেই শুরু...

ঘরে ফিরেছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান শুভেন্দু, মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে সকালেও ভিড় শান্তিকুঞ্জে

পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পঁচিশে বৈশাখ ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে (Brigade Parade Ground) শপথ গ্রহণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী (Subhendu...

‘সূর্যমুখী তত্ত্ব’, উৎপল সিনহার কলম 

" আমি সূর্যমুখী ফুলের মতো দেখি তোমায় দূর থেকে, দলগুলি মোর রেঙে ওঠে তোমার হাসির কিরণ মেখে " সবাই জানে সূর্যমুখীর স্বভাব।...