কোভিডের আগে পর্যন্ত গড়পড়তা ভারতীয় পরিবারে অনলাইন চিকিৎসা পরিষেবার কথা ভাবতেই পারতেম না। আচমকা বিশ্বজুড়ে অতিমারি এবং তার জেরে লকডাউন। তাতেই বিপ্লব ঘটে গেল চিকিৎসার দুনিয়ায়।তথ্য বলছে, ২০২০-র মার্চ পর্যন্ত টেলিমেডিসিন নিয়ে আলোচনা, তার ব্যবহার ছিল হাতে গোনা। অথচ সেই পরিষেবাই করোনার ধাক্কায় ওলোটপালট হয়ে যায়।গোটা বিশ্বে চার দেওয়ালের বন্দি জীবনে অনলাইন হয়ে ওঠে চিকিৎসার একমাত্র বিশ্বস্ত পরিকাঠামো।

এ দেশেও কোভিড-পরবর্তী সময়ে ক্রমশ আস্থা বেড়েছে ই-ক্লিনিকের উপরে। ২০২২-এর অগস্টে এক সমীক্ষার রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ২২ শতাংশ মানুষ শারীরিক অসুস্থতায় ইতিমধ্যেই অনলাইন চিকিৎসার সাহায্য নিয়েছেন।এদের মধ্যে ৩৮ শতাংশ মানসিক সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে টেলিমেডিসিনে ভরসা রেখেছেন । কোভিড-কালের মতো স্রেফ সংস্পর্শ-বিহীন চিকিৎসাই নয়, ই-ক্লিনিক এখন সময় ও খরচ বাঁচানোর অন্যতম মাধ্যম। পাশাপাশি নিজের পছন্দসই জায়গা থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসা কর্মীদের পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে এই ব্যবস্থা।

এই পরিষেবায় রোগীদের ভরসা জোগাচ্ছে আস্তিক হেলথ কেয়ার লিমিটেড। ই-ক্লিনিকের মাধ্যমে একঝাঁক নামী চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের কাছে প্রতিটি মূহূর্তে চিকিৎসা পরিষেবা দিতে জোরকদমে প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। সাত জন প্রোমোটারের সম্মিলিত উদ্যোগে ২০২৪-এ গড়ে ওঠা এই সংস্থা সার্বিক সুস্থতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের পরিষেবাকে ভাগ করে নিতে চলেছে সাধারণ ক্লিনিক, ফার্মাসি এবং ই-ক্লিনিক ও অনলাইন ফার্মাসিতে।

সংস্থার তরফে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই আধিকারিক সৌরভ দাস এবং সঞ্জয় সাউ বলেন, আপাতত অনলাইন ফার্মাসি এবং কয়েকটি সাধারণ ফার্মাসি চালু হয়ে গিয়েছে কলকাতায়। ই-ক্লিনিক, সাধারণ ক্লিনিক ও বাকি ফার্মাসিগুলি শুরু করার প্রস্তুতিও তুঙ্গে। ভারতের চিকিৎসা ক্ষেত্রে আগামীতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য সচেতনতা ও উন্নত চিকিৎসার চাহিদা এবং আয়বৃদ্ধির অঙ্ক। সেই সুযোগটাকেই কাজে লাগাতে চেয়ে ৩৭২ বিলিয়ন ডলারের এই চিকিৎসা দুনিয়ায় পা রেখেছে আস্তিক হেলথ কেয়ার।


প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে দাঁড়িয়ে এক ছাতার নীচে সব রকম চিকিৎসার সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যে তৈরি হচ্ছে আস্তিক হেলথ কেয়ার। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসার পরিষেবাকে সাধ্যের মধ্যে হাতের নাগালে নিয়ে আসতে সংস্থা আস্থা রাখছে আধুনিকতম প্রযুক্তিতে। উদ্দেশ্য, সাধারণ অনলাইন চিকিৎসা পরিষেবার ধারণাকে আমূল পাল্টে ফেলে একেবারে নতুন ধাঁচের ই মেডিসিন এবং ই-ডক্টর প্ল্যাটফর্মগুলোতে পরিষেবার মাধ্যমে দাতা ও গ্রহীতার আদানপ্রদানের গোটা পদ্ধতিটাই এক ক্লিকে হাতের মুঠোয় এনে দেওয়া। সংস্থার আর এক আধিকারিক জেন জি বিশেষজ্ঞ ভূমিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, এখনকার তরুণ প্রজন্ম গতিশীল জীবনে অভ্যস্ত। কিন্তু সেই সঙ্গেই তারা স্বাস্থ্য সচেতনও বটে। আমাদের ই-ক্লিনিক এবং ই-ডক্টর প্ল্যাটফর্ম তাই নতুন প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতেই পারে। কারণ একদিকে যেমন এই পরিষেবা তাদের শারীরিক ও মানসিক ভাবে সুস্থ এবং সচল থাকতে সাহায্য করবে তেমনই সময় ও খরচ দুটোই বাঁচাবে।


সাবেক এবং ডিজিটাল চিকিৎসা পরিষেবার মধ্যে সেতু বন্ধন করে এক সর্বাঙ্গীন পরিকাঠামো হয়ে ওঠার লক্ষ্যে এগোচ্ছে আস্তিক হেলথ কেয়ার।তাদের লক্ষ্য চিকিৎসার দুনিয়ায় আগামী দিনের দিশারী হয়ে ওঠা।

–

–

–
–

–
