Tuesday, April 14, 2026

হাতে তৈরি পেনের সম্ভার! শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাস মনে করালো পেন উৎসব ২০২৫

Date:

Share post:

বাঁশ বা খাগের শলাকা কেটে পেন বানিয়ে কালিতে ডুবিয়ে লেখার ইতিহাস তৈরি করেছিলেন প্রাচীন মিশরের (Egypt) মানুষ। আজ সেই খাগের কলমও নেই, লেখার প্যাপিরাসও নেই। কিন্তু সেই খ্রীষ্টপূর্ব সাড়ে তিন হাজার বছরের ইতিহাসকে ধরে রাখার নেশা রয়ে গিয়েছে মানুষের মধ্যে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে – ইউরোপ থেকে আমেরিকা, চিন – সব দেশের কয়েক শতাব্দী ধরে হাতে তৈরি পেনের কদর করে এসেছেন মানুষ। সেই পেন তৈরিতে প্রস্তুতকারকদের উৎসাহও কম ছিল না। ভারতে হাতে তৈরি পেনের প্রতি মানুষের আকর্ষণটা অনেকটাই নতুন হলেও আজ সেই ইতিহাসও শতাব্দী প্রাচীন। দেশের ঐতিহ্যের ধারক হ্যান্ড মেড পেনের (hand made pen) বিপুল সম্ভার নিয়ে হাজির পেন উৎসব ২০২৫। উত্তর ভারত থেকে দক্ষিণ ভারত – প্রত্যেক সভ্যতার নিদর্শন তুলে ধরে নিজেদের তৈরি কলম নিয়ে হাজির পেন প্রস্তুতকারকরা।

ভারতে হ্যান্ড মেড পেন তৈরি শুরু হয় ১৯২০-র দশকে। সূচনায় মূল ভূমিকা নিয়েছিল তৎকালীন মাদ্রাজ। সেই শহরে যে আজও হাতে পেন তৈরির প্রতি আবেগ থাকবে মানুষের তা বলাই বাহুল্য। সেই চেন্নাই থেকে নিজেদের হাতে তৈরি পেনের সম্ভার নিয়ে হাজির হয়েছিল রাঙ্গা পেন্স। কর্ণধার কন্যা পদ্মা জানান, প্রায় ৬০ বছর ধরে হাতে পেন তৈরির ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন এম পান্ডুরঙ্গন। রাঙ্গা পেন্স-এর (Ranga Pens) খ্যাতি ভারত জোড়া। কলকাতার ভক্তদের জন্য প্রথমবার পেনের পসরা সাজিয়ে তাঁরা এসেছেন কলকাতায়। সেই পসরায় যেমন রয়েছে অ্যাক্রিলিক পেন, তেমনই রয়েছে তামা, অ্যালুমিনিয়ামের পেনও। রয়েছে শিংয়ের তৈরি পেনও।

দক্ষিণ ভারতের ঐতিহ্যের সম্ভারের পাশাপাশি পেন উৎসব ২০২৫-এ এসেছেন উত্তর ভারতের হাতে তৈরি পেন প্রস্তুতকারকরাও। দিল্লি (Delhi) থেকে হ্যান্ড মেড পেন (Hand made pen) নিয়ে এসেছেন রবি তেওয়ারি। উত্তর ভারতের হাতে তৈরি পেনের ইতিহাস যে দক্ষিণের থেকে কিছুটা নতুন, তা জানালেন রবি। তাঁর সংগ্রহের পেন গুলির মধ্যে গালার উপর সোনা, রুপোর কাজের দেখা মিলল। তাক লাগিয়ে দেবে ডিমের খোসা দিয়ে তৈরি হাতে কাজ। পেনের গায়ে ভারতীয় শিল্পীদের অসামান্য় হাতের কাজ ফুটে উঠেছে। কোনও পেন তৈরি করতে ২০দিন, তো কোনও পেন তৈরি করতে ৩০ দিন সময়ও লাগে বলে জানালেন রবি।

তবে দেশের যে প্রান্ত থেকেই শিল্পী ও কারিগররা এই পেন উৎসব ২০২৫-এ এসেছেন, তাঁদের সকলেরই দাবি, কলকাতাই শিল্পের কদর করে। পেন উৎসবে আসা পেন অনুরাগীদের প্রশ্নের মধ্যে দিয়েই সেটা প্রমাণিত। তাঁরা যে দীর্ঘদিন ধরেই এই সব পেন প্রস্তুতকারকদের খোঁজে ছিলেন, তাও জানালেন তাঁরা। প্রস্তুত কারকরা জানাচ্ছেন, তাঁরা কলকাতায় নিজেদের সামগ্রী তুলে ধরে লাভের মুখ যেমন দেখছেন, তেমনই ভরছে তাদের মনও।

বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পী ও তাঁদের সামগ্রীকে এক ছাদের তলায় নিয়ে আসা যে কষ্টকর ছিল, স্বীকার করছেন উদ্যোক্তা সায়ক আঢ্য। তিনি জানাচ্ছেন, সকলকে এক ছাদের তলায় নিয়ে আসা কষ্টকর হলেও এটাই তিনি ভালোবাসেন। পেনের প্রতি আকর্ষণ থেকেই এই দায়বদ্ধতা অনুভব করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে বহু মানুষের উৎসাহ তাঁকে আরও এগিয়ে দিয়েছে। এবছরই আবার পেন উৎসব আয়োজনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন উদ্যোক্তা ও তাঁর সহযোগীরা।

Related articles

পরীক্ষা শেষের একমাসেই ফল! আজ প্রকাশ হতে পারে CBSE দশমের রেজাল্ট

দশম শ্রেণীর রেজাল্ট (Result) প্রকাশের সম্ভাবনা ঘিরে বাড়ছে অপেক্ষা। মঙ্গলবারই প্রকাশিত হতে পারে CBSE-র (Central Board of Secondary...

শ্রমিক বিক্ষোভে বিপাকে যোগী সরকার, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তেও কমলো না অসন্তোষ

কাজের সঠিক পারিশ্রমিক থেকে কর্মস্থলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক দাবি-দাওয়া নিয়ে শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল বিজেপি রাজ্য উত্তরপ্রদেশের নয়ডা (Noida,...

মাইকের সামনে পারফর্ম করা শিখিয়েছিলেন আশাজি, কিংবদন্তিকে শ্রদ্ধায় স্মরণ কিশোরপুত্রের

ভারতীয় সংগীত জগতকে বিদায় জানিয়ে সুরের আকাশে বিলীন হয়েছেন কিন্নরকণ্ঠী আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle)। রবিবাসরীয় সকালে তার প্রয়াণের...

নববর্ষে দক্ষিণবঙ্গে তাপপ্রবাহের সর্তকতা! বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিতে কমবে না গরম

বাংলা বছরের শেষ দিনে সকাল থেকেই ঘর্মাক্ত দক্ষিণবঙ্গবাসী। পয়লা বৈশাখে (Bengali new year day) জেলায় জেলায় তাপপ্রবাহের সর্তকতা...