Friday, April 10, 2026

নতুন খরিফ মরশুমে সহায়ক মূল্যে ধান সংগ্রহে উদ্যোগ রাজ্যের 

Date:

Share post:

নতুন খরিফ মরশুমে ধান সংগ্রহে কোমর বেঁধে নামছে রাজ্য সরকার। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ১ নভেম্বর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় চালু হচ্ছে ধান সংগ্রহ ক্যাম্প। সম্প্রতি খাদ্য ও সরবরাহ দফতর ও সমবায় দফতরের যৌথ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ, সমবায় ও পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার, দুই দফতরের সচিব, বেনফেড, কনফেড এবং একাধিক সমবায় সমিতির প্রতিনিধিরা। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে কুইন্টাল প্রতি ২৩৬৯ টাকা দরে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে ধান সংগ্রহ করা হবে।

খাদ্যসচিব পারভেজ সিদ্দিকি জানিয়েছেন, প্রতিটি ক্যাম্পে প্রচারমূলক ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হবে। থাকবে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং ব্যানার। একই সঙ্গে, ক্যাম্পে বায়োমেট্রিক যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ধান কেনার পর কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা স্থানান্তরের ব্যবস্থাও থাকছে আগের মতোই।

প্রান্তিক অঞ্চলের কৃষকদের সুবিধার্থে চালু করা হয়েছে ১৭৯টি মোবাইল সংগ্রহ কেন্দ্র। যার ফলে কৃষকদের আর দূরে যেতে হবে না, কাছাকাছি ক্যাম্পেই ধান জমা দেওয়া যাবে। গত মরশুমে রাজ্য সরকার সমবায় দফতরের মাধ্যমে ৯১৩টি পিএসএস কেন্দ্র থেকে ৯ লক্ষ টনেরও বেশি ধান সংগ্রহ করেছিল। এছাড়া, ১১টি ল্যাম্পস এবং ১২টি পিএমএসএস-এর মাধ্যমে যথাক্রমে ৬৮২৬ ও ১০৫৫৬ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়।

খাদ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে রাজ্যের রেশন ব্যবস্থার প্রায় সব চালই রাজ্যেই উৎপাদিত ধান থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। বাইরে থেকে চাল আমদানি করার প্রয়োজন পড়ছে না। সমবায়মন্ত্রী জানান, একসময় কৃষকদের ৪২০-৪২৫ টাকা কুইন্টাল দরে ধান বিক্রি করতে হতো, এখন তাঁরা সরকারি সহায়ক মূল্যে অনেক বেশি দাম পাচ্ছেন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ২০১২ সাল থেকেই চাল আমদানি বন্ধ হয়েছে এবং রাজ্যের কৃষকরা সরাসরি সরকারের কাছে ধান বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন। বর্তমানে ৬৫ শতাংশ সমবায়ে নতুন বোর্ড গঠিত হয়েছে, ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাত্রাও বেড়েছে। প্রশিক্ষণ ও পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি নিয়ে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে বেনফেড, কনফেড এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি। প্রাথমিক প্রস্তুতি ৩১ অগস্টের মধ্যে সম্পূর্ণ করে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই ক্যাম্প সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যকলাপ চূড়ান্ত করতে বলা হয়েছে। এই প্রকল্প শুধু ধান কেনার পরিকল্পনা নয়, বরং কৃষকদের ন্যায্য মূল্য, স্বচ্ছ লেনদেন এবং দ্রুততার সঙ্গে অর্থ প্রদান নিশ্চিত করার একটি পরিকাঠামোগত প্রচেষ্টা।

আরও পড়ুন – মেয়েকে ধর্ষণ-খুনে ফাঁসির সাজা বাবার: রায় আসানসোল আদালতের

_

 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

Related articles

অসমের পরে বাংলা! বহিরাগত ঢুকিয়ে ভোট করার বিজেপির চক্রান্ত ফাঁস মমতার

উত্তরপ্রদেশ থেকে ট্রেনে করে ৫০ হাজার লোক নিয়ে গিয়ে ভোট করিয়েছে ডাবল ইঞ্জিন রাজ্য অসমে! বাংলাতেও হাজার হাজার...

উন্নয়ন কার্ডে ‘সাপ বিজেপি’! সাপ-লুডোর খেলায় অভিনব প্রচার তৃণমূলের

ভোটের দামামা বাজছে রাজ্যজুড়ে (2026 West Bengal Election)। ভোটের উৎসবে নজর কাড়তে সব দলই নতুন নতুন প্রচারের পদ্ধতি...

এলিট মানসিকতার বিরুদ্ধে সরাসরি বার্তা, পরমা-সঙ্গীতাকে জবাব পূজারিণীর

সোশ্যাল মিডিয়ার (Social Media) আড়ালে বসে ইংরেজি উচ্চারণ আর উপস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন পরমা বন্দ্যোপাধ্যায় (Parama Banerjee) ও...

বিজেপির ‘সংকল্পপত্র’ নয়া জুমলা! ভিডিও দেখিয়ে বিজেপির দ্বিচারিতা ফাঁস অভিষেকের

বিজেপির ইস্তেহারে রয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে বেকারভাতা। নয়া জুমলা নিয়ে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক...