Tuesday, February 3, 2026

কেন রাজ্যপাল চলবেন কেন্দ্রের অঙ্গুলি হেলনে: প্রশ্ন প্রাক্তন বিচারপতি নরিম্যানের

Date:

Share post:

রাজ্যের সঙ্গে রাজ্যপালের সংঘাত যেন সাম্প্রতিক ভারতে একটা রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিরোধী রাজ্য হলেই রাজ্য সরকারগুলির উন্নয়নের ধারা আটকাতে রাজ্যপালদের (Governor) ব্যবহার করেছে কেন্দ্রের সরকার (Central Government)। আর তার কারণ রাজ্যপালের নিয়োগ ও অপসারণ পদ্ধতি। দেশের গণতন্ত্রের এই মূল ব্যবস্থা নিয়েই এবার প্রশ্ন তুললেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি আর নরিম্যান (Rohinton Nariman)।

কেরালা থেকে তামিলনাড়ু, বাংলা থেকে মনিপুর। সর্বত্র রাজ্যপালকে দিয়ে রাজ্যের ক্ষমতা খর্ব করা ও উন্নয়নে বাধা দেওয়ার কাজ করছেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। এই বিরোধ ও অচলাবস্থা কাটাতে রাজ্যপাল নিয়োগ ও অপসারণ নিয়ে নরিম্যানের ব্যাখ্যা, সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি (President) ও রাজ্যপালের (Governor) শপথবাক্য একই।‌ দু’জনেরই কর্তব্য সংবিধান ও জনগনের‌ স্বার্থ রক্ষা করা। অথচ দু’জনের নিয়োগ বা অপসারণের পদ্ধতি ভিন্ন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সাংসদ ও বিধায়কদের দ্বারা। কিন্তু রাজ্যপালকে নিয়োগ করে কেন্দ্রীয় সরকার। রাষ্ট্রপতিকে (President of India) অপসারণের একমাত্র পথ ইমপিচমেন্ট। রাজ্যপালকে (Governor) ইচ্ছে করলেই রাতারাতি সরিয়ে দেওয়া যায়। নরিম্যানের পর্যবেক্ষণ, এই কারণেই রাজ্যপাল কেন্দ্রীয় সরকারের মুখাপেক্ষী থাকেন।

শুক্রবার কলকাতার ওয়েস্ট বেঙ্গল ন্যাশানাল ইউনিভার্সিটি এফ জুরিডিকাল সায়েন্সেস-এ একটি বক্তৃতায় যোগ দেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রোহিন্টন নরিম্যান (R Nariman)। ‘রাজ্যপাল কি কেন্দ্রের প্রহরী না, রাজ্যের প্রকৃত প্রধান’ শীর্ষক  সপ্তম এম কে নাম্বিয়ার স্মারক ভাষণ দিতে এসেছিলেন তিনি। সেখানে অতীতের একের পর এক মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় ও সাংবিধানিক ধারার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি।

আরও পড়ুন: মোদি-সফরের পাঁচদিনেই অশান্ত মনিপুর: সেনা কনভয়ে হামলায় নিহত ২ জওয়ান

সেখানেই রাজ্যপালের নিয়োগ ও অপসারণ সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি রাজ্যপালের কর্মপদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর ব্যাখ্যা, বিধানসভায় পাশ হওয়া বিল ফেরত পাঠানোর পর ফের পাশ করে অনুমোদনের জন্য আসলে তা কতদিন আটকে রাখা যাবে, তার স্পষ্ট কোনও সময়সীমা নেই। তবে সেই বিল ফেরত পাঠালে রাজ্যপাল অনুমোদন দিতে বা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাতে বাধ্য।‌ এখানেই সমস্যার সূত্রপাত।

spot_img

Related articles

সশরীরে বিধানসভায়! চত্বরে থেকেও অধিবেশন বয়কট করলেন বিরোধী দলনেতা

বিধানসভা চত্বরে সশরীরে উপস্থিত থেকেও অধিবেশন কক্ষে ঢুকলেন না বিরোধী দলনেতা-সহ বিজেপি বিধায়কদের একাংশ। মঙ্গলবার সপ্তদশ বিধানসভার শেষ...

আরও বড় ব্যবধানে জিতব: দিল্লি থেকে বাংলা জয়ের বার্তা তৃণমূল সভানেত্রীর

বিধানসভা ভোটে বাংলার শাসকদলের রণকৌশল কী? মঙ্গলবার, দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনে এই প্রশ্নের জবাবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল (TMC)...

কলকাতার ধোঁয়া না কি গ্রামের ধুলো, বেশি ঘাতক কে? কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সন্ধানে রাজ্য

শহরের শিল্পাঞ্চলের ধোঁয়া আর গ্রামের বাতাসের ধুলো— দুইয়ের বিষক্রিয়া কি সমান? নাকি জনস্বাস্থ্যের ওপর এদের প্রভাব ভিন্ন? দূষণের...

দেশবাসীর গোপনীয়তায় আপস করলে ভারত ছাড়ুন! মেটা-কে কড়া বার্তা প্রধান বিচারপতির

ভারতীয় নাগরিকদের ব্যক্তিগত পরিসরে নাক গলালে ব্যবসা বন্ধ করে বিদায় নিতে হবে মেটার (Meta)হোয়াটসঅ্যাপকে (Whatsapp) । হোয়াটসঅ্যাপের বিতর্কিত...