Sunday, February 8, 2026

ডবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলিতে বেলাগাম নয়ছয়: একশো দিনের কাজে বাংলার বঞ্চনায় তথ্য পেশ তৃণমূলের

Date:

Share post:

হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট। প্রমাণিত হয়ে গেছে বাংলার প্রতি কেন্দ্রের বিজেপির বঞ্চনা। নির্লজ্জ কেন্দ্রের সরকারের এরপরেও বাংলা সাধারণ মানুষের স্বার্থে ১০০ দিনের কাজ (MGNREGS) চালু করেনি বাংলায়। এই পরিস্থিতিতেও বঙ্গ বিজেপির নেতারা ভুল বোঝানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন বাংলার মানুষকে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তথ্য পেশ করে স্পষ্ট করে দেওয়া হল, কিভাবে গুজরাট (Gujarat) থেকে উত্তর প্রদেশ (Uttarpradesh) – ১০০ দিনের কাজে দুর্নীতি হয়েছে। তা সত্ত্বেও বঞ্চনা শুধুমাত্র বাংলার ক্ষেত্রেই হয়েছে। বিজেপির বাংলা বিরোধী মুখোশ খুলে দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার, বীরবাহা হাঁসদা এবং সাংসদ প্রতিমা মন্ডল।

সোমবার সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) তাদের রায়ে বাংলায় দ্রুত ১০০ দিনের কাজ চালু করার কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) নির্দেশকেই বহাল রেখেছে। বিজেপির গালে এই সুপ্রিম চড়ের পরেও বঙ্গ বিজেপি নেতারা দাবি করছেন, বাংলায় ১০০ দিনের কাজে বেনিয়মের (scam) জেরে এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকাটাই দস্তুর। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার (Pradip Mazumdar) স্পষ্ট করে দেন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দলগুলি কত টাকার বিনিয়মের দাবি করেছিল। তা মিটিয়ে দেওয়ার পরেও তিন বছরে কত কোটির বঞ্চনা করা হয়েছে বাংলাতে।

তথ্য পেশ করে মঙ্গলবার তৃণমূলের তরফে জানানো হয়, ২০১৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত ছয় বছরে রাজ্যের ১৯ টি রাজ্যে তদন্ত চালিয়ে ১৬ কোটি ৩ লক্ষ টাকার তথ্য দিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দলগুলি। রাজ্য সরকার এই প্রকল্পে কাজ না হওয়ার দরুণ বকেয়া এই টাকা ফিরিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রের ঘরে।

এরপরই মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার তথ্য পেশ করেন, ১০০ দিনের কাজ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির (PAC) বৈঠকে গুজরাটে (Gujarat) ৭১ কোটি টাকার বেনিয়মের তথ্য পেশ করা হয়। তারপরেও সেখানে কেন্দ্র সরকার প্রকল্পে টাকা বরাদ্দ করা বন্ধ করেনি। একইভাবে উত্তরপ্রদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে এই প্রকল্পে ৪৯ কোটি টাকার বেনিয়মের। বিহারের (Bihar) ক্ষেত্রে অভিযোগ ১৭.৭৬ কোটির বেনিয়মের। মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) বিনিয়ম ১৫.২০ কোটি টাকার। বলা বাহুল্য, এই প্রতিটি ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে বেনিয়মের হিসাবটা বাংলার থেকে অনেক বেশি।

এ পরেও ২০২২ সাল থেকে কখনই এই ডবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলিতে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা বরাদ্দ বন্ধ হয়নি। অথচ তিন বছর ধরে এই প্রকল্পে বাংলার বকেয়া ৬ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা। যদি ১৯ টি জেলায় এই প্রকল্প কার্যকর হত সঠিকভাবে, তবে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বাংলার বরাদ্দ দাঁড়াত ৫০ হাজার ৩৪৪ কোটিতে। এর বাইরে পুরোনো কাজ করিয়ে টাকা না দেওয়ার, বরাদ্দ তো রয়েছেই। যে টাকা ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের তহবিল থেকে মিটিয়ে দিয়েছেন বাংলার শ্রমিকদের।

আরও পড়ুন: প্রতারণা মোদি সরকারের! ১০০ দিনের গ্যারান্টি নেমেছে ৩১ দিনে, কটাক্ষ ডেরেকের

তৃণমূল তরফে সাংবাদিক বৈঠকে সাংসদ প্রতিমা মন্ডল (Pratima Mandal) তুলে ধরেন রাজ্যের প্রাপ্য টাকা আদায়ে যখন দিল্লিতে আন্দোলন হয়েছিল, তখন কিভাবে যোগ্য প্রাপকদের উপর অত্যাচার চালানো হয়েছিল। সাধারণ বাংলার নাগরিক বলেই তাঁরা অত্যাচারিত হয়েছিলেন। মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা (Birbaha Hansda) তুলে ধরেন, দিল্লির ঠান্ডা ধরে বসে থাকা বিজেপির নেতারা বাংলার মাঠে ঘাটে একশো দিনের কাজের অপেক্ষায় মাথায় ঝাঁকা নিয়ে অপেক্ষা করা দরিদ্র মানুষের জীবন সম্পর্কে কতটা অজ্ঞ বিজেপির নেতারা। যে মানুষদের দুর্দশা বুঝেছিলেন একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাই তিনি কর্মশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। সাংবাদিক সম্মেলন থেকে দাবি করা হয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে যেন রাজ্যের প্রাপ্য বরাদ্দ মিটিয়ে দেয় কেন্দ্রের স্বৈরাচারী বিজেপি সরকার।

spot_img

Related articles

‘নার্সিসাস’, উৎপল সিনহার কলম

' আপন গন্ধে মাতোয়ারা হরিণ ' এমন একটি রূপক, যা নিজের ভেতরের সম্পদকে বাইরে খুঁজে বেড়ানোর বিড়ম্বনাকে বোঝায়।...

বিধানসভায় সর্বসম্মতিক্রমে পাশ: নাম বদল হলো মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের

মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের সংশোধনী বিল শনিবার বিধানসভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হল। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু সভায় এই বিলটি পেশ...

T20 WC: সূর্যের ব্যাটিং বিক্রমের পর বল হাতে নবাব সিরাজ, জয় যাত্রা শুরু ভারতের

টি২০ বিশ্বকাপের(T20 World Cup) প্রথম ম্যাচে জয় পেল ভারত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে হারাল ২৯ রানে।  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রথমে...

ভোটার তালিকায় নাম তুলতে এবার বৈধ ‘ডোমিসাইল’, নয়া নির্দেশিকা নির্বাচন কমিশনের

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজে বড়সড় বদল আনল নির্বাচন কমিশন। এখন থেকে স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র বা পার্মানেন্ট...