জনগণের কণ্ঠরোধে আগে থেকেই অভিযুক্ত ছিল কেন্দ্রের স্বৈরাচারী মোদি সরকার। এবার জনপ্রতিনিধিদের কণ্ঠরোধেও তৎপরতা শুরু হয়েছিল। সংসদ চত্বরে স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ থেকে ‘জয় হিন্দ’, ‘বন্দেমাতরম’ বলার উপর জারি হয় নিষেধাজ্ঞা। প্রতিবাদে একমাত্র বনগাঁ সভা থেকে সরব হন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাতারাতি তাতেই সুর বদল কেন্দ্রের স্বৈরাচারী সরকারের। দুদিনের মধ্যে বদল হল নির্দেশিকার বয়ান। তুলে নেওয়া হল বিতর্কিত অংশ।

সংসদে বলা যাবে না ‘জয় হিন্দ’, ‘বন্দেমাতরম’ স্লোগান-সোমবার সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শুরুর আগে সাংসদদের আচরণবিধি বেঁধে দিতে ২৪ নভেম্বর এই বুলেটিন জারি হয়েছিল। এর তীব্র নিন্দা করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো। জানিয়েছিলেন, বন্দে মাতরম্ তো জাতীয় সঙ্গীত। তাহলে কি বাংলার আইডেনটিটি নষ্ট করতে চাইছে? ওরা ভুলে যাচ্ছে বাংলা ভারতের বাইরে নয়। ক্ষমতায় আছে বলে বিজেপি ভাবছে যা খুশি করবে, তা আমরা বরদাস্ত করব না।

আরও পড়ুন : গেরুয়া ফতোয়া! ‘অশালীন’ বলে সংসদের অধিবেশনে ‘বন্দেমাতরম-জয় হিন্দ’-এ নিষেধাজ্ঞা, বরদাস্ত করব না: মমতা

পাশাপাশি তৃণমূলের তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সংসদের অধিবেশনে এই নিয়ে সুর চড়াবেন সাংসদরা। কোনওভাবে বাংলা-বাঙালির আবেগে আঘাত মেনে নেওয়া হবে না। কংগ্রেস-সহ বিরোধীদলগুলিও এর প্রতিবাদ করে। আর ঠিক এরপরেই কেন্দ্র নির্দেশিকা থেকে বিতর্কিত অংশটি প্রত্যাহার করে নেয়।

২০১০ সালের রাজ্যসভার রুলবুকে ছিল একই কথা। প্রশ্ন, এখন কেন প্রত্যাহার? এর জবাব নেই সরকার তথা সচিবালয়ের কাছে। ১৮৭০ সালে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা বন্দেমাতরম ১৯৫০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের জাতীয় গান হিসেবে গৃহীত হয়। কবিতাটি প্রথমবার ১৮৮২ সালে বাংলা উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’-এ প্রকাশিত হয় ।

–

–

–

–

–

