Friday, June 5, 2026

পাকিস্তানে বন্দি কাঁথির মৎস্যজীবীর অস্বাভাবিক মৃত্যু! শোকস্তব্ধ গ্রাম

Date:

Share post:

পাকিস্তানের কারাগারে প্রায় দু’বছর ধরে বন্দি থাকার পর অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর এল পূর্ব মেদিনীপুরের জুনপুটের মৎস্যজীবী স্বপন রানা (৫৫)-র। সীমান্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে পাক পুলিশের হাতে আটকের পর থেকে তাঁর অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি পরিবারের। মৃত্যুর কারণ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে প্রশাসন থেকে গ্রামবাসীর মধ্যে। আগামী ৪ ডিসেম্বর পাকিস্তান ওই মৎস্যজীবীর দেহ ভারত সরকারের হাতে তুলে দেবে বলে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, দক্ষিণ ডাউকি গ্রামের বাসিন্দা স্বপন রানা বহু দিন ধরেই পেশায় মৎস্যজীবী ছিলেন। মাঝখানে তিনি সোনার ব্যবসায় নামলেও লোকসানের কারণে দোকান বন্ধ করে ফের ট্রলারেই মাছ ধরার কাজে যোগ দেন। দু’বছর আগে কেরালার একটি ট্রলারে যোগ দিয়ে পরে গুজরাট থেকে আরও ছ’জনের সঙ্গে মাছ ধরতে বের হন তিনি। অভিযোগ, আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রম করায় পাকিস্তানি মেরিন পুলিশ তাঁদের আটক করে। এরপর দীর্ঘ সময় পরিবার কোনও যোগাযোগই পায়নি।

অনেক চেষ্টার পর স্বপনবাবুর স্ত্রী টুটুরানি রানা জানতে পারেন, স্বপন পাকিস্তানের জেলেই রয়েছেন। মাঝে কয়েকবার হোয়াটসঅ্যাপে ছেলের সঙ্গে দু’-তিন মিনিট কথা বলতে পেরেছিলেন তিনি। শেষ কথা হয় প্রায় পাঁচ-ছ’মাস আগে। কোথায় তাঁকে রাখা হয়েছে, কী অবস্থায় বন্দি ছিলেন—তা কিছুই জানানো হয়নি। স্বপনের ছেলে চন্দ্রকান্ত রানা বলেন, “একজন পরিচিত মেসেজ করে বিষয়টা জানায়। পরে প্রশাসনের আধিকারিকেরা এসে বাবার মৃত্যুর খবর দেন। কীভাবে মৃত্যু হল, কিছুই জানি না।”

এখনও পাকিস্তানে বন্দি রয়েছেন ভারতের আরও ছ’জন মৎস্যজীবী। তাঁদেরও ভাগ্যে কী অপেক্ষা করছে, তা নিয়ে শঙ্কিত পরিবারেরা। মৃতদেহ আনতে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা শুরু করেছে প্রশাসন। কাঁথি ১ ব্লক প্রশাসনের আধিকারিক থেকে মেরিন দফতরের কর্তারা জানিয়েছেন, পাকিস্তান সরকার স্বপনের মৃত্যুর বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছে। মৃতদেহ আনার সমস্ত খরচ সরকারই বহন করবে। গ্রামজুড়ে এখন শোকের ছায়া। আত্মীয় থেকে প্রতিবেশীরা কেউই বিশ্বাস করতে পারছেন না পাকিস্তানের জেলেই শেষ হয়ে গেল স্বপন রানার জীবন। প্রতিবেশী দিপালী রানা বলেন, “দু’বছর আগে পাকিস্তানের হাতে ধরা পড়েছিল। ওখানেই সব শেষ।” আর এক আত্মীয় পূর্ণিমা রানা জানালেন, “সোনার দোকান বন্ধ করে আবার ট্রলারে কাজ শুরু করেছিলেন। কে জানত এমন পরিণতি অপেক্ষা করছে!” স্বপনের স্ত্রী টুটুরানীর চোখে শুধু একটাই প্রশ্ন—“কবে ফিরবে ওর দেহ?” বাড়ির আঙিনায় অপেক্ষা এখন শুধু শেষ বিদায়ের।

আরও পড়ুন- আইনি লড়াইয়ের মাঝে মৃত্যু! বাবাকে শেষবার দেখাও হল না মেয়ের

_

 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

Related articles

কমলা সর্তকতা কলকাতায়, সাতসকালে প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন শহরের একাধিক রাস্তা

শুক্রবার ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই আকাশ কালো করে প্রবল ঝড়-বৃষ্টির সাক্ষী রইল মহানগর (Kolkata Rain)। একই ছবি...

শান্তি ও উন্নয়ন, বুদ্ধ পিস অ্যাওয়ার্ডের মঞ্চে বার্তা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের

রবীন্দ্রতীর্থের সান্ধ্য আসরে চাঁদের হাট। সমাজসেবা এবং বিশ্ব শান্তি প্রসারের ধারাকে কুর্নিশ জানাতে শহর কলকাতায় বসেছিল ‘আন্তর্জাতিক বুদ্ধ...

জৌলুসহীন বেঙ্গল টি২০ লিগের সূচনা, শামিকে নিয়ে আশায় CAB

  শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে বেঙ্গল টি২০ লিগ। এবার জৌলুসপূর্ন কোন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হচ্ছে না। কিছুটা নমঃ নমো করেই...

প্রয়াত সাংবাদিক নারায়ণ বসু

শতায়ু হওয়ার মাত্র পাঁচ মাস আগে চলে গেলেন সাংবাদিক নারায়ণ বসু। সল্টলেকের বাড়িতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রয়াত হন। মূলত...