এসআইআর প্রক্রিয়ার নির্ঘণ্ট নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপানৌতনের মধ্যে অবশেষে এক সপ্তাহ পিছিয়ে গেল খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ-সহ গোটা কার্যসূচি। রবিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে এই সিদ্ধান্তকে কমিশনের “স্বীকারোক্তি” বলেই দাবি করলেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও সাংসদ পার্থ ভৌমিক। তাঁদের অভিযোগ, পরিকল্পনা ছাড়াই তাড়াহুড়ো করে এসআইআর চাপিয়ে দেওয়ার ফলেই রাজ্যে একাধিক মৃত্যু ঘটেছে—এবার সেই দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতেই হবে।
চন্দ্রিমা বলেন, “আমরা এসআইআরের বিরুদ্ধে নই। তবে যেভাবে তাড়াহুড়ো করে মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তার প্রতিবাদ শুরু থেকেই তৃণমূল করেছে। এত অল্প সময়ে এই বিশাল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয়—আমরা বলেছিলাম। এখন কমিশনের সিদ্ধান্তেই প্রমাণিত হল, আমাদের কথাই ঠিক।”

তৃণমূলের বক্তব্য, ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে এসআইআর শেষ করে, ৯ তারিখ খসড়া তালিকা প্রকাশ এবং ৭ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের যে সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা বাস্তবসম্মত নয়। চন্দ্রিমার কথায়,
“যে কাজ আগে দু’ বছর লেগেছিল, সেটাকে দু’-এক মাসে শেষ করার চেষ্টা—এটা কখনও সম্ভব নয়। আমরা বারবার বলেছিলাম, হবে না। অবশেষে কমিশন সাত দিন পিছিয়ে দিয়ে ঘুরিয়ে স্বীকার করল, তৃণমূলের বক্তব্যই ছিল সঠিক।”

পার্থ ভৌমিকও একই অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, “যে কোনও বড় কাজ করতে গেলে পরিকল্পনা লাগে, পরিকাঠামো লাগে। এখানে কিছুই তৈরি করা হল না। বিএলওদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না দিয়েই তাঁদের ঘাড়ে দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে এতগুলো মৃত্যু ঘটল—এর জবাব দেবেন কে? কমিশন কি দায় নেবে?”

তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, তড়িঘড়ি করে প্রক্রিয়া শুরুর ফলে মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি। শুনানি শুরু হলে আরও বহু সমস্যা মাথা তুলতে পারে বলেও তাঁদের আশঙ্কা। কমিশনের তরফে এখনো কোনও বিস্তৃত প্রতিক্রিয়া না এলেও রাজনৈতিকমহলে প্রশ্ন উঠছে—বিধানসভা নির্বাচনের আগে এসআইআর-এর এই সময়সূচি বদল কতটা প্রভাব ফেলবে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতিতে।

আরও পড়ুন- এসআইআর বড় বালাই! ৭০ বছর বয়সে ‘বাবা’ হলেন লালগোলার নূরাল শেখ

_

_

_

_
_

