Tuesday, June 23, 2026

বাংলায় কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধ: খালি হাতে আসা মোদিকে পাল্টা তোপ তৃণমূলের

Date:

Share post:

প্রত্যেকবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্যে সফরের সময় বাংলার বঞ্চনা নিয়ে সরব হয় বাংলার শাসকদল তৃণমূল। নদিয়ার তাহেরপুরে ভার্চুয়াল সভাতেও তার ব্যতিক্রম হল না। তবে এবার বকেয়া না দিতে অদ্ভুত পন্থা নিলেন নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। কেন্দ্র থেকে কোনও টাকা (central fund) দেওয়া তো দূরের কথা, বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের উপর দোষ চাপানোর মরিয়া চেষ্টা চালালেন নরেন্দ্র মোদি। পাল্টা তাঁর দফতরের রিপোর্ট পেশ করে বঞ্চনা নিয়ে পাল্টা তোপ শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভার্চুয়াল সভা (virtual meeting) থেকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেন বাংলায় উন্নয়নের টাকা আটকে রয়েছে শাসকদলের কারণে। তিনি দাবি করেন, বাংলার বিকাশের জন্য পয়সা, ইচ্ছা বা প্রকল্পের ঘাটতি নেই। আজও বাংলার সঙ্গে যুক্ত হাজার কোটি টাকার প্রকল্প আটকে রয়েছে। আপনাদের সামনে স্পষ্টভাবে বলছি, তৃণমূলের মোদির বিরোধিতা করতে হলে করুক। বিজেপির বিরোধিতা করতে হলে করতে পারে। কিন্তু বাংলার বিকাশকে কেন বন্ধ করে রাখছেন? তাই আমি বারবার বলি, মোদির বিরোধিতা করলেও বাংলার মানুষের অধিকার থেকে বঞ্চিত করবেন না।

কোন যুক্তিতে বাংলায় প্রকল্প আটকে রয়েছে তার কোনও ব্যাখ্য়া প্রধানমন্ত্রী দিতে পারেননি। কেন্দ্রের মোদি সরকারের দোষ যেভাবে প্রধানমন্ত্রী বাংলার শাসকদলের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করে গিয়েছেন শনিবার, তার পাল্টা তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বিজেপিকে বাংলার মানুষকে ভাতে মারার পরিকল্পনার বিরোধিতা করেন। উল্টে তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী খালি হাতে এসেছেন। বকেয়া নিয়ে একটি শব্দ উচ্চারণ করেননি। বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছেন, তৃণমূল নরেন্দ্র মোদির বিরোধিতা করুক। আমরা উল্টে বলছি, আপনি ক্ষমতা থাকলে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতা করুন। গণতান্ত্রিক পরিসরে, রাজনৈতিক বিরোধিতা করুন। কিন্তু সেটা করতে না পেরে আপনারা বাংলার মানুষকে ভাতে মারছেন। অসম্মান করছেন। বাংলাভাষা যারা বলছেন তাঁদের অন্য রাজ্যে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) আজ মূল যে সমস্যাগুলো সেগুলো সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে গিয়েছেন।

আরও পড়ুন : মোদির মুখে ‘অনুপ্রবেশকারী’: SIR-এর উল্লেখ করে তালিকা প্রকাশের চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের

নিজেদের দায় এড়াতে নরেন্দ্র মোদি বাংলায় কাটমানির অভিযোগ তোলেন। আর সেখানেই পাল্টা বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে কাটমানির কারণে একের পর এক দুর্নীতির পরিসংখ্যান তুলে ধরেন কুণাল ঘোষ। তিনি স্পষ্ট করে দেন, আপনি বলছেন বাংলায় কমিশন। আপনার রাজ্যে যখন একের পর এক ব্রিজ ভাঙে। আপনার রাজ্যের মন্ত্রীর ছেলে গ্রেফতার হচ্ছে একশো দিনের কাজের কেলেঙ্কারিতে। উত্তরপ্রদেশে ভুয়ো জবকার্ডে সবথেকে উপরে নাম রাখে। নরেন্দ্র মোদি আপনি রাজনৈতিক কুৎসা করছেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে। আর সেখানেই যে কতটা এগিয়ে বাংলা, তার উত্তরও কেন্দ্রীয় সরকারের পরিসংখ্যান ধরেই তিনি তুলে ধরে জানান, আপনার সরকারি দফতর একের পর এক বিভাগের রিপোর্টে দেখিয়ে দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সারা ভারতবর্ষের মধ্যে উন্নয়নের বিচারে, মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সেরা কাজ করছে।

Related articles

২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে দোকান-অফিস, রাজস্ব ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বড় পদক্ষেপ রাজ্যের

রাজ্যের রাজস্ব বৃদ্ধি ও বাণিজ্যের পরিবেশ বদলাতে বড় উদ্যোগ নিল নতুন সরকার। এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে ২৪ ঘণ্টা দোকান,...

শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ! ফিরহাদ-অরূপদের শোকজ করল তৃণমূল কংগ্রেস 

দলের শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং দলবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস ও অরূপ রায়ের মতো প্রথম সারির...

অন্নপূর্ণা যোজনায় কাটছাঁট বাজেটে, অর্ধেকেরও বেশি উপভোক্তা বাদ পড়ার আশঙ্কা 

রাজ্য সরকারের পেশ করা নতুন বাজেটে অন্নপূর্ণা যোজনার বরাদ্দ ঘিরে দানা বেঁধেছে তীব্র বিতর্ক। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের ঢাকঢোল...

পরিকাঠামো উন্নয়নের নামে ভাঁওতা? গঙ্গাসাগর সেতুতে ‘টোকেন’ বরাদ্দ, বিমানবন্দরেও যৎসামান্য! 

বিরাট ঘোষণা, বড় বড় প্রতিশ্রুতি, কিন্তু বরাদ্দের খাতায় চোখ রাখলেই ধরা পড়ছে অন্য ছবি। বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে...