Tuesday, February 24, 2026

ওড়িশার খুন হওয়া শ্রমিকের দেহ ফেরাতে উদ্যোগী মমতা-অভিষেক, বাংলাভাষী হত্যার তীব্র নিন্দা তৃণমূলের

Date:

Share post:

বিজেপি পোস্টারে লিখছে, “বাংলায় বাঁচতে বিজেপি BJP) চাই”! প্রধানমন্ত্রী বাংলা এসে ভাষণেও সে কথাই বলছেন! এর অর্থ কী? তারা স্পষ্ট হুমকি দিচ্ছে- বিজেপি না করলে তাকে খতম করা হবে? এই অভিযোগ তুলে সরব হলেন তৃণমূলের (TMC) মন্ত্রী তথা নেত্রী শশী পাঁজা (Shashi Panja)। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ওড়িশায় বাংলাভাষী শ্রমিকের খুনের ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বাঙালিদের বিরুদ্ধে বিজেপির (BJP) মনোভাবের সমালোচনা করেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান সামিরুল ইসলাম (Samirul Islam) জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abishek Banerjee) নিহত পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ এবং আহতদের কীভাবে রাজ্যে ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছেন।

বিজেপি রাজ্যে নৃশংসভাবে খুন হন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক। বাংলাদেশি তকমা দিয়ে বাংলার ৩ পরিযায়ী শ্রমিকের উপর হামলা চলে ওড়িশার (Orissa) সম্বলপুরে। বিজেপি গুন্ডাদের হামলায় মৃত্যু হয় জুয়েল রানা নামে এক শ্রমিকের। আশঙ্কাজনক বাকি দু’জন। তিন শ্রমিকের বাড়িই মুর্শিদাবাদের সুতি ১ নম্বর ব্লকে। এদিন এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেন শশী পাঁজা।  সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, “আর কতদিন বাঙালিদের শাস্তি পেতে হবে শুধুমাত্র এই কারণে যে বাংলা বিজেপির কাছে মাথা নত করেনি? কত প্রাণ গেলে তবে থামবে এই ঘৃণার রাজনীতি? যারা পরিশ্রম করে, সম্মানের সঙ্গে কাজ করে, নাগরিক অধিকার দাবি করে- তাদের অপরাধ কি শুধু বাংলা ভাষায় কথা বলা? বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে বারবার বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের নিশানা করা হচ্ছে, আর প্রতিবারই একই অজুহাত—তারা নাকি অনুপ্রবেশকারী।”

তৃণমূলের (TMC) রাজ্যসভা সাংসদ তথা পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান সামিরুল ইসলাম জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিহত পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ এবং আহতদের কীভাবে রাজ্যে ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছেন। তিনি বলেন, “বিজেপির দীর্ঘদিনের বাংলা-বিরোধী প্রচারের সরাসরি ফল এই হত্যাকাণ্ড। বছরের পর বছর ধরে বিজেপি নেতারা সচেতন ভাবে বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের অনুপ্রবেশকারী, বহিরাগত ও সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে আসছেন। সেই বিষাক্ত বয়ানই আজ রাস্তায় নেমে এসেছে, যেখানে সাধারণ মানুষ নিজেকে অভিবাসন আধিকারিক ও বিচারক ভাবতে শুরু করেছে। ফলাফল—আইনের শাসনের জায়গায় হিংসা, ঘৃণা ও মৃত্যুর উৎসব।”

spot_img

Related articles

মিলে গেল পূর্বাভাস, বৃষ্টিভেজা মঙ্গলের সকাল কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় 

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের (Alipore Weather Department) পূর্বাভাস সত্যি করে মঙ্গলবার ভোরে কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি। ভোর...

ভোটের মুখে বড় ভাঙন পদ্ম শিবিরে, গোজিনায় তৃণমূলে যোগ দিলেন বিজেপি পঞ্চায়েত প্রধান-সহ ৫০০

বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নায় রাজনৈতিক সমীকরণ ওলটপালট হতে শুরু করেছে। বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য...

মৃত সরকারি কর্মীর বকেয়া টাকা পাবেন বিবাহিত ও বিবাহবিচ্ছিন্ন কন্যারাও, নিয়মে বড় বদল নবান্নের

কর্মরত অবস্থায় কোনও রাজ্য সরকারি কর্মীর মৃত্যু হলে তাঁর প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা কাটাল...

ফের বিদেশে ভারতের প্রতিনিধিত্ব সাংসদ অভিষেকের, একটি সংসদীয় দলের নেতৃত্বে লোকসভার দলনেতা

ফের বিশ্বের দরবারে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন তৃণমূল সাংসদ তথা লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। ৬০-এর বেশি দেশের...