Monday, March 9, 2026

নির্বিঘ্নে সমাপ্ত বিশ্ব ইজতেমা, তিন দশক পর ঐতিহাসিক সমাবেশের সাক্ষী হুগলি

Date:

Share post:

চার দিন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে চলার পর রবিবার শেষ হল হুগলি জেলার ধনেখালি বিধানসভার অন্তর্গত পুইনান গ্রামে আয়োজিত বিশ্ব ইজতেমা। তবলিঘি জামাতের উদ্যোগে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে এই বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। প্রায় ৩২ বছর পর বাংলার মাটিতে অনুষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক ধর্মীয় সমাবেশ ঘিরে বিপুল আবেগ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যায় মুসলিম সমাজের মধ্যে।

তীব্র শীত উপেক্ষা করেও এই কয়েক দিনে লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মানুষ ইজতেমায় অংশ নেন। দেশ-বিদেশের ইসলামিক পণ্ডিত, প্রতিনিধি এবং বাংলাসহ বিভিন্ন রাজ্যের মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। ইসলামের সৌভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও বিশ্বশান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এই ইজতেমার আয়োজন বলে জানান আয়োজকেরা।

বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ছিল কড়া নিরাপত্তা ও বিস্তৃত প্রস্তুতি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই প্রশাসনিক বৈঠক করে স্পষ্ট নির্দেশ দেন, এত বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাতে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী মন্ত্রী ও জেলা প্রশাসনের কর্তারা একাধিকবার এলাকা পরিদর্শন করেন এবং গোটা অনুষ্ঠান জুড়ে প্রশাসনিক নজরদারি বজায় রাখা হয়।

ইজতেমা ময়দানে খোলা হয় কন্ট্রোল রুম। বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, পরিবহন, পূর্ত, জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পুলিশ, সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতর-সহ একাধিক বিভাগের আধিকারিকেরা সমন্বিত ভাবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজ্য সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের তরফে পাঁচ জন আধিকারিককে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

মূল রাস্তা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে প্রায় পাঁচশো বিঘা জমিতে গড়ে ওঠে বিশাল প্যান্ডেল। জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য তৈরি করা হয় ছটি অস্থায়ী হাসপাতাল ও মেডিক্যাল ক্যাম্প। গোটা এলাকা সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে রাখা হয়।

ইজতেমায় অংশ নেওয়া বহু পুণ্যার্থী জানান, এত বছর পর বাংলার মাটিতে বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতে পারা তাঁদের কাছে ভাগ্যের বিষয়। তাঁরা বলেন, এই প্রার্থনা শুধুমাত্র মুসলিম সমাজের জন্য নয়, গোটা দেশের শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য। একই সঙ্গে তাঁরা স্পষ্ট করেন, এই ধর্মীয় সমাবেশের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক যোগ নেই।

স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তাঁদের কথায়, এত বড় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান কোনওরকম অশান্তি ছাড়াই সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া সত্যিই প্রশংসনীয়। শেষ দিনেও ময়দানে উপস্থিত থেকে সার্বিক তদারকি করেন রাজ্যের মন্ত্রী বেচারাম মান্না। দীর্ঘ ৩২ বছর পর বাংলায় অনুষ্ঠিত এই বিশ্ব ইজতেমা ধর্মীয় সম্প্রীতি, শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।

আরও পড়ুন- সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করেই সরকারি ভাবে পদত্যাগ অনিকেত মাহাতের

_

 

_

 

_

 

_

 

spot_img

Related articles

আদিবাসীরা শিক্ষিত হোক তা কেউ চায় না! বঞ্চনার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রকে তোপ জ্যোৎস্নার 

আদিবাসীদের উন্নয়ন এবং শিক্ষা নিয়ে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডি। সোমবার ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে তিনি...

JEE Advanced ১৭ মে, কবে থেকে রেজিস্ট্রেশন

১৭ মে দুটি অর্ধে হবে জেইই অ্যাডভান্সড-এর পরীক্ষা। ওই দিন সকাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত প্রথমার্ধ এবং দুপুর...

মাঠের বাইরেও জমাট পার্টনারশিপ, স্ত্রী চারুলতাকে নিয়ে মনের কথা লিখলেন সঞ্জু

বিশ্বকাপ সেরা ক্রিকেটার হয়েছেন, ব্রাত্যজন থেকে নায়কের নাম সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson)। কঠিন সময়ে পাশে থাকা মানুষটির কথা...

ফার্মাসি কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার উদ্যোগে জমজমাট ফার্মা অন্বেষণ ২০২৬ 

National Pharmacy Education Day উপলক্ষে কলকাতায় আয়োজিত হল Pharma Anveshan 2026। ৯ মার্চ এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল...