বিভিন্ন প্রান্তে যাত্রীবোঝাই বাসে অগ্নিকাণ্ডের একাধিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাসযাত্রীদের নিরাপত্তা আরও মজবুত করতে নতুন ও বিস্তৃত নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য পরিবহণ দফতর। সরকারি ও বেসরকারি—দু’ধরনের বাস পরিষেবার ক্ষেত্রেই এই নির্দেশিকা কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। অগ্নিনিরাপত্তা, বাসের রক্ষণাবেক্ষণ, নজরদারি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রস্তুতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই নির্দেশিকায়।

পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের সমস্ত রাজ্য পরিবহণ সংস্থাকে যাত্রী নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সেল গঠন করতে হবে। এই সেলগুলি নিয়মিতভাবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করবে, সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করবে এবং তা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সুপারিশ করবে। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ড ও সড়ক দুর্ঘটনা-সহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা এসওপি তৈরি ও কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই এসওপি কর্মীদের মধ্যে প্রচার করতে হবে এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কর্মসূচি চালাতে হবে।

বেসরকারি যাত্রী পরিবহণের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে পরিবহণ দফতর। প্রতিটি জেলায় জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির অধীনে যাত্রী নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলাদা সেল গঠন করা হবে। পাশাপাশি পরিবহণ অধিকর্তার দফতরের তত্ত্বাবধানে বেসরকারি বাসগুলির জন্য একটি অভিন্ন এসওপি প্রস্তুত করা হবে, যাতে সব অপারেটরকে একই মানদণ্ড মেনে চলতে হয়।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নিয়মিত মক ড্রিল বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং বাসের রক্ষণাবেক্ষণ ও ফিটনেস সংক্রান্ত নির্ধারিত সময়সূচি কঠোরভাবে মানতে হবে। বিশেষ করে যেসব বাসে ইলেকট্রিক কন্ট্রোল ইউনিট রয়েছে, সেগুলিকে আগুন লাগার ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ধরনের বাসের রক্ষণাবেক্ষণে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট করেছে দফতর। পর্যায়ক্রমে বাসে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে দূরপাল্লার বাসগুলিকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। রাজ্য পরিবহণ সংস্থার সব বাসে নিয়মিত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অডিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অন্যদিকে, বেসরকারি বাসগুলির ক্ষেত্রে মোটর ভেহিকল ইন্সপেক্টরদের সহায়তায় পরিবহণ দফতর আকস্মিক অডিট চালাবে। নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিদিন অন্তত একটি করে বেসরকারি বাস প্রতিটি জেলায় পরীক্ষা করতে হবে। কোথাও ত্রুটি ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ডিফেক্ট নোটিস জারি করা হবে।

সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইলেকট্রিক কন্ট্রোল ইউনিটে শর্ট সার্কিটের যোগ পাওয়ায় রাজ্য পরিবহণ সংস্থাগুলিকে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিবিদ নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি অপারেটরদের ক্ষেত্রেও দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মীর মাধ্যমে বাস রক্ষণাবেক্ষণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ধাপে ধাপে পুরনো বাস বদলের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে নির্দেশিকায়। নতুন বাস কেনার ক্ষেত্রে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা-সহ আধুনিক সুরক্ষা সরঞ্জাম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বর্তমানে চলাচলকারী বাসগুলিতে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখতে হবে এবং চালক ও কন্ডাক্টরদের তা ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। পরিবহণ দফতরের দাবি, এই নির্দেশিকা কার্যকর হলে রাজ্যে বাসযাত্রীদের নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা আগাম প্রতিরোধ করা যেমন সম্ভব হবে, তেমনই জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে বলেই মনে করছে প্রশাসন।

আরও পড়ুন- প্রভাব নেই মৌসমের দলবদলের: মালদহের বৈঠকে প্রচারের দিশা দিলেন অভিষেক

_

_

_

_
_


