তৃণমূলের নথি চুরি করতে কলকাতায় আইপ্যাকের (IPAC) অফিসে অভিযান চালিয়েছিল ইডি, প্রতিবাদে শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দফতরের বাইরের ধর্না দিচ্ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা (TMC MP’s)। আচমকাই অমিত শাহের দিল্লি পুলিশ (Delhi police) সেখানে পৌঁছে মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra), শতাব্দী রায় (Shatabdi Roy), সাকেত গোখলে, প্রতিমা মণ্ডল, ডেরেক ও ব্রায়েন-সহ তৃণমূলের আট সংসদকে রীতিমতো টেনে হিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তুলতে শুরু করে। নির্লজ্জ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পুলিশ মহিলা-পুরুষ নির্বিশেষে তৃণমূল সাংসদদের শারীরিকভাবে হেনস্থা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।


রাজধানীতে যেভাবে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের উপর দিল্লি পুলিশ চড়াও হয়েছে, মহিলা সাংসদদের গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে তা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। মানুষ এর জবাব দেবে। এদিন সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, ‘গোটা দেশ দেখছে কীভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হেনস্থা করা হচ্ছে। আমরা বিজেপিকে হারিয়েই ছাড়বো’।


ডেরেক ও ব্রায়েন, শতাব্দী রায়রা স্পষ্ট বলে দেন, “অমিত শাহ গতকাল আমাদের অফিসে দলের স্ট্র্যাটেজি চুরি করতে পাঠিয়েছিল। শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করায় এটা কী ধরণের আচরণ?” ধস্তাধস্তির মধ্যেই দিল্লি পুলিশের আধিকারিককে ডেরেক বলেন, ‘এভাবে মহিলার সংসদদের গায়ে আপনারা হাত দিতে পারেন না।’ বসে পড়েন বাপি বর্মন। তাঁকে কার্যত চ্যাংদোলা করে ভ্যানে তোলা হয়। ধাক্কা দেওয়া হয় কীর্তি আজাদ, প্রতিমা মণ্ডল, শতাব্দী রায়দের।

শুক্রবার সকাল থেকে কর্তব্য পথের এক নম্বর গেট অর্থাৎ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সামনে বিক্ষোভে বসেন আট তৃণমূল সাংসদ। অমিত শাহ ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টারিদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি হাতে পোস্টার নিয়ে ধর্না দেন তাঁরা। বার্তা, ইডি এবং বিজেপি একদিকে, অন্যদিকে বাংলার জনতা। তারপরই দিল্লি পুলিশের এই নির্লজ্জ আচরণ।


সোশাল মিডিয়ায় রাজ্যের শাসকদলের প্রশ্ন, “এটা কী ধরনের গণতন্ত্র অমিত শাহ? এভাবে জনপ্রতিনিধিদের উপর হামলা চালিয়ে গণতন্ত্রকে গুঁড়িয়ে দেবেন ভেবেছেন? আসলে আপনারা ভীত বিধ্বস্ত।প্রথমে যেভাবে ইডির অপব্যবহার হল, তারপর শান্তিপূর্ণ ধরনায় জনপ্রতিনিধিদের উপর আক্রমণ, এতে আপনাদের ভয়ই প্রকাশ পায়।”

শেষ খবর পাওয়া অনুযায়ী পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানাতেই আটকে রাখা হয়েছে তৃণমূল সাংসদদের।

–

–

–

–

–
–
–


