Wednesday, May 13, 2026

সব ফাইল নেওয়ার অধিকার কে দিল: বিজেপির ‘ভগবান’ ইডি-কে প্রশ্ন সিবলের

Date:

Share post:

যেভাবে বাংলায় নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডিকে বাংলায় এগিয়ে দিয়ে বাংলার রাজনীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার, তা রুখে দিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কিন্তু এটাই যে বিজেপির আমলে ট্রেন্ড হয়েছে তা বিরোধী রাজনৈতিক দল পরিচালিত রাজ্যগুলির সত্যি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তার জন্যই গোটা দেশে বিজেপির আমলেই বিখ্যাত হয়ে গিয়েছে ইডি (ED)। সেখানেই কংগ্রেস সাংসদ তথা বাংলার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী কপিল সিবলের (Kapil Sibal) কটাক্ষ, বিজেপির কাছে ইডি হল ভগবান। ভগবান সর্বত্র উপস্থিত। যখন যেখানে চায় ইডি, সিবিআই-এর মতো সংস্থাকে সব জায়গায় উপস্থিত করে। কংগ্রেসের পাশাপাশি এনসিপিও (NCP) বাংলায় বৃহস্পতিবারের ইডি তল্লাশিতে সরব বিজেপির প্রতিহিংসার রাজনীতির বিরোধিতায়।

বাংলায় আড়াই বছরের পুরোনো কয়লা মামলায় আচমকাই যেভাবে বৃহস্পতিবার আইপ্যাক দফতর (IPAC office) ও আইপ্য়াক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশিতে আসে ইডি, তার সমালোচনা করে কংগ্রেস আমলে তুলনা টেনে আনেন কপিল সিবল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিজেপির সময়ে ইডি সংবাদের শিরোনামে কীভাবে আসে। ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইউপিএ আমল মনে পড়ে যাচ্ছে। কারণ সেই সময়ে আমরা ইডি-কে (ED) এভাবে খোলা মাঠে ছেড়ে দিইনি। আমরা মিথ্যে তথ্যের ভিত্তিতে কোনও রাজনৈতিক দল বা দলের নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ কখনও দিইনি।

এপ্রসঙ্গেই ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সিবলের দাবি, নির্বাচনের আগে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিকে হেনস্থা করার জন্যই বিজেপি ইডি, সিবিআই-কে ব্যবহার করে। কেরালা, ঝাড়খণ্ড, বিহার সব ক্ষেত্রেই একই জিনিস আমরা দেখেছি। এবার বাংলায় নির্বাচন আসছে। এখানে ওরা কখনই জিততে পারবে না। তাই সেখানে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলকে বিরক্ত করার চেষ্টা।

আইনজীবী হিসাবে কপিল সিবল এদিন ইডি-কে প্রশ্ন করেন, মানছি কোনও একটি তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে তোমাদের। কিন্তু তার জন্য সব ফাইল কী তুলে নিয়ে যেতে পারো তোমরা। সেই সঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, কয়লা মামলা নিয়ে তদন্ত হলে সেই সংক্রান্ত তথ্য তাঁদের প্রয়োজন থাকলে তাঁরা কম্পিউটারে হাত দেওয়ার আগে আপনারা অনুমতি নেবেন না? সেখানে আদৌ কোনও তথ্য রয়েছে কিনা তা দেখার জন্য কম্পিউটার পরীক্ষা করার অনুমতি প্রয়োজন নয় কী?

আরও পড়ুন : কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন: মানবিক হওয়ার আবেদন জানিয়ে জ্ঞানেশকে চিঠি মমতার

কপিল সিবলের পাশাপাশি কংগ্রেস মুখপাত্র সামা মহম্মদও (Sama Mohammed) এদিন ইডি-র পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, ইডি বিজেপির রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে গিয়েছে। কোনও তদন্তে আইপ্য়াকের দফতরে যাওয়ার প্রয়োজন হলে অন্য শহরেও তারা যেতে পারত। গোটা দেশে তাদের দফতর রয়েছে। কেন কলকাতা দফতরেই। কারণ সেখানে নির্বাচন আসন্ন।

কংগ্রেসের পাশাপাশি এনসিপি (NCP) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলেও (Supriya Sule) বিজেপির ইডি-পরিচালনা নিয়ে সরব হন। তিনি দাবি করেন, কলকাতায় যে ঘটনা ঘটেছে তা দুঃখজনক। আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি চালানো ও সেখান থেকে তৃণমূলের নথি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এটা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক।

Related articles

ছাব্বিশের নির্বাচনে জয়ীদের আজ বিধানসভায় শপথগ্রহণ

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে সরকার গড়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। গত পঁচিশে...

জীবন যুদ্ধে হার মানলেন, টুটুহীন মোহনবাগান

লড়াই শেষ, জীবনযুদ্ধে হার মানলেন স্বপন সাধন বোস। ভারতীয় ফুটবলে যিনি পরিচিত টুটু(Tutu Bose) নামে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষনিঃশ্বাস...

বিরাট ধাক্কা আসতে চলেছে: কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আশ্বাসের পরই সতর্ক করলেন শিল্পপতি

একদিকে দেশের প্রধানমন্ত্রী করোনা পরিস্থিতির মতো কাজে ফেরার বার্তা দিচ্ছেন। অন্যদিকে তাঁরই পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী কেন্দ্রের সরকারের জ্বালানি (fuel)...

স্কুলবেলা থেকে মুখ্যমন্ত্রী! আজও ‘রবিদা’র সেলাইয়েই ভরসা শুভেন্দু অধিকারীর

রাজনীতিতে অনেক বদল এসেছে, সময়ের নিয়মে পদেরও পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু রুচি এবং ভরসায় বিন্দুমাত্র বদল আনেননি রাজ্যের নতুন...