এসআইআর শুনানির আতঙ্কে ফের মৃত্যুর ঘটনা রাজ্যে। শনিবার ফের দু’জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। একটি ঘটনা বীরভূমের রামপুরহাটে, অন্যটি উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরে। দু’টি ক্ষেত্রেই মৃত্যুর দায় কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বলে দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।

রামপুরহাট পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাঞ্চনকুমার মণ্ডল শনিবার সকালে শুনানিতে হাজিরা দিতে এসে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর রামপুরহাট পুরপ্রধান সৌমেন ভকত শোকপ্রকাশ করে বলেন, নিরীহ প্রবীণদের শুনানির অজুহাতে ডেকে এনে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যা খুনের সমান অপরাধ। মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে কাঞ্চনকুমারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন ডেপুটি স্পিকার তথা স্থানীয় বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, কাঞ্চনকুমার সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থাতেই শুনানিতে হাজিরা দিতে এসেছিলেন। সেখানেই তাঁর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়। এই ঘটনার দায় কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরের ঘোলার বিলকান্দা ১ নম্বর পঞ্চায়েতের তালবান্দা উত্তরপাড়ার বাসিন্দা ৭৫ বছরের অলকা বিশ্বাসের মৃত্যু নিয়েও উঠেছে একই অভিযোগ। পরিবারের দাবি, ৪ জানুয়ারি বাড়িতে শুনানির নোটিশ আসার পরই তিনি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। টানা ছয় দিন কোমায় থাকার পর শনিবার তাঁর মৃত্যু হয়। বৃদ্ধার মৃত্যুর খবরে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান খড়দহের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং বিলকান্দা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান প্রবীর দাস। তাঁরা নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার নামে মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে, আর তার ফলেই একের পর এক প্রাণহানি ঘটছে। পরপর এই দুই মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, এসআইআর শুনানির পদ্ধতি অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা না করলে আরও ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে।
আরও পড়ুন- এই নির্বাচন আর-পার: উত্তরপ্রদেশের আইন শৃঙ্খলার সঙ্গে বাংলার তুলনা দিলীপের!

_

_

_

_

_

_
_


