গঙ্গার পাড়ে ভোরের আলো ফুটতেই বেজে উঠল শঙ্খ। রামকৃষ্ণদেবের মঙ্গলারতির পবিত্র ধ্বনিতে শুরু হল স্বামী বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন। ১২ জানুয়ারি, স্বামীজির জন্মতিথি উপলক্ষে সোমবার ভোর থেকেই বেলুড় মঠে ছিল সাজ সাজ রব। ভক্তি আর অনুশাসনের মেলবন্ধনে এদিন এক অন্য আধ্যাত্মিক আবহে ধরা দিল মঠ প্রাঙ্গণ।

মঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলারতির পরেই স্বামীজির মূর্তিতে মাল্যদান এবং বিশেষ পুজো-অর্চনার আয়োজন করা হয়। মঠের সন্ন্যাসীরা বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে স্মরণ করেন ভারতের এই শ্রেষ্ঠ সন্তানকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গঙ্গার ঘাট থেকে মঠের মূল মন্দির চত্বর— সর্বত্রই দেখা গেল মানুষের ঢল। শুধু রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত নয়, দেশ-বিদেশের অসংখ্য ভক্ত এদিন ভিড় জমিয়েছিলেন বেলুড় মঠে। মঠ প্রাঙ্গণে সারি দিয়ে বসে কেউ পাঠ করলেন স্বামীজির বাণী, কেউ বা নিমগ্ন হলেন ধ্যানে।
স্বামীজির জন্মদিনটি জাতীয় যুব দিবস হিসেবে পালিত হয়। সেই উপলক্ষে এদিন সকাল থেকেই মঠ ও মিশনের বিভিন্ন শাখা কেন্দ্র থেকে ছোট ছোট শোভাযাত্রা মঠ চত্বরে এসে পৌঁছয়। বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের পড়ুয়ারা প্রভাতফেরিতে যোগ দেয়। হাতে স্বামীজির প্রতিকৃতি এবং মুখে ‘শিবজ্ঞানে জীবসেবা’র স্লোগান নিয়ে যুবসমাজের এই অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। মঠের এক প্রবীণ সন্ন্যাসীর কথায়, স্বামীজির জীবন মানেই তো তারুণ্যের জয়গান। যুবসমাজকে তাঁর আদর্শে উদ্বুদ্ধ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক কোনও স্লোগান বা কর্মসূচি নয়, এদিন মঠের পরিবেশ ছিল পুরোপুরি আধ্যাত্মিকতা ও সেবার আদর্শে মোড়া। দিনভর বিভিন্ন ধর্মসভা ও আলোচনার মাধ্যমে স্বামীজির জীবনদর্শন ভক্তদের সামনে তুলে ধরা হয়। মঠ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বামীজির স্মরণ মানে কেবল উৎসব পালন নয়, বরং তাঁর দেখানো সেবার পথে নিজেদের নতুন করে উৎসর্গ করা। গোধূলবেলায় যখন আরতি শুরু হল, তখনও ভক্তদের ভিড় কমেনি। শ্রদ্ধা, শৃঙ্খলা আর নীরবতার আবহে আরও একবার বেলুড় মঠ সাক্ষী থাকল স্বামীজির প্রতি মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসার।
_
_

_
_

_

_

_



