সরকারি আধিকারিকদের জন্য দুর্নীতি বিরোধী আইনের ধারার বৈধতা নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারল না দেশের শীর্ষ আদালত। দেশের একজন সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি (corruption) তদন্ত যেভাবে হয়, একজন সরকারি আধিকারিকের (government official) বিরুদ্ধেও কি সেই পদ্ধতিতেই তদন্ত হওয়া উচিত, তা নিয়ে ফের একবার দ্বিধা বিভক্ত (split verdict) সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দুই বিচারপতির বেঞ্চ।

দুর্নীতি প্রতিরোধী আইনের ১৭-এ ধারা (PoCA 17A) মূলত সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির (corruption) অভিযোগের তদন্তের জন্য। একদিকে এই আইনে সুরক্ষা কবচ রয়েছে সরকারি কর্মচারীদের, যাতে তাঁরা হয়রানির শিকার না হন। অন্যদিকে দেশের নাগরিক হিসাবে অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়ার অভিযোগে দুষ্ট এই আইন।

মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বি ভি নাগরত্না (Justice B V Nagarathna) এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের (Justice K V Viswanathan) বেঞ্চে শুনানি শেষে একটি স্প্লিট রায় দেয়। প্রবীন বিচারপতি বি ভি নাগরত্না রায়ে জানান, ১৭-এ ধারা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক (unconstitutional) এবং একে মুছে ফেলা উচিত। এ প্রসঙ্গে তিনি সুপ্রিম কোর্টেরই পূর্ববর্তী দুটি মামলার উদাহরণ টানেন এবং পর্যবেক্ষণে জানান, এতে দুর্নীতিকেই রক্ষা কবচ দেওয়া হয়েছে। কোনও সৎ ব্যাক্তির এই ধরনের রক্ষাকবচের প্রয়োজন হয় না।
আরও পড়ুন : শুধু অবৈধরাই তালিকার বাইরে, কে নিশ্চিত করবে: SIR হয়রানিতে কমিশনে প্রশ্ন একতা মঞ্চের

তবে বিচারপতি বিশ্বনাথনের রায় এই রায়ের উল্টো দিকে গিয়েছে। তিনি পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন ১৭-এ ধারার মধ্যে কোনও ভুল নেই। যদি এই ধারায় বিচার প্রক্রিয়ায় সরকারের মাধ্যমে অনুমোদন আসে তবে তা দুর্নীতির শামিল হবে। কিন্তু লোকপাল (Lokpal) বা লোকাযুক্তের (Lokayukta) মতো স্ব-শাসিত সংস্থার মাধ্যমে অনুমোদন এলে এই আইন কোনওভাবে ভুল নয়।

–

–

–

–

–


